২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উঠলাম; ভর্তি হওয়ার পরপরই। মনের মধ্যে তখন হাজারো স্বপ্ন। দিন যেতে লাগলো অভিজ্ঞতার ঝুলি বড় হতে লাগলো।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বিরক্তিকর দুটো জিনিস ছিলো গালি আর ধূমপান। এই দুটোকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ছেলেদের মাঝে প্রায় নব্বই শতাংশই গালিতে এক্সপার্ট।
আমি অবাক হতাম এটা দেখে যে, কেউ কাউকে হাশিমুখে মা-বোন তুলে গালি দিয়ে কথা বলছে। অপর ব্যক্তিও হাশিমুখে একই ভাষাতেই কথা বলছে। এটা আবার কোন ধরনের শিক্ষা?
মা-বোন মানুষের কাছে কতই না সম্মানের যায়গা! অথচ এরা কথায় কথায় মা-বোনের চরিত্র হরণ করে হাশিমুখেই। অবাক লাগলেও কিছুই করারা নেই৷ আমরা শিক্ষিত হচ্ছি। কিন্তু অসভ্যতা যাচ্ছেনা।
একবার এক বন্ধু আমাকে গালি দিলো মজা করে। ঠাস করে মেরে দিলাম দুটো। একজন সিনিয়র ছাত্রনেতা বড় ভাইএর কাছে বিচার গেলো। উনি শুনে হাসলেন আর আমাকে বুঝালেন, এটাই কালচার। এটা মেনে নিয়েই ভার্সিটির হলে আমাকে থাকতে হবে। কয়জনের সাথে মারামারি করবো?
পরবর্তী জীবনে গালিবাজদের যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে থাকতাম। জানিনা, ভার্সিটিতে এখনও এমন গালাগালির প্রতিযোগিতা হয় কি-না।
ধূমপান হলো দুনিয়ার সবচেয়ে নোংরা একটা কাজ। যে ঘরে ধূমপান হয় সেটা গরুর গোয়ালের মতো হয়ে যায়। নোংরা আর দুর্গন্ধযুক্ত। ধূমপান হলো সেই জিনিস যা মানুষ টয়লেটে বসেও খায়।
এটা মানুষ সবখানেই খায়। তারপর আশেপাশের মানুষের মুখের উপর ধোয়া ছুড়ে মারে। লজ্জাও করেনা। জাপানে ওপেন স্পেসে ধূমপান নিষিদ্ধ। নিয়মের লঙ্ঘন করলেই শাস্তি। দুনিয়াতে মনে হয় আমরা বাঙালি জাতিই এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি নির্লজ্জ।
27
View