Posts

গল্প

ভালোবাসার কবিতা ❤️

March 14, 2026

উপন্যাস রাইটার

31
View

https://rkmri.co/AeeR5yAlISRe/ এটি একটি সুন্দর বই চাইলে পড়ে দেখতে পারেন  বইটি পেয়ে যাবেন রকমারিতে এই লিংকটি ব্যবহার করে খুব সহজেই বইটি কিনতে পারবেন 

প্রথম অধ্যায়: দেখা হওয়া

ঢাকার ব্যস্ত শহরের ভিড়ের মধ্যে, একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে দেখা হয়েছিল অরিন্দম আর মেঘলার। দুজনেই বইপ্রেমী, দুজনেই নিঃশব্দে নিজের জগতে ডুবে থাকত। অরিন্দম তখন রবীন্দ্রনাথের কবিতা পড়ছিল, আর মেঘলা তাকিয়ে ছিল জীবনানন্দের "বনলতা সেন"-এর পাতায়। হঠাৎ চোখাচোখি, আর সেই মুহূর্তেই যেন সময় থেমে গেল। অরিন্দমের মনে হলো—এই চোখের গভীরতায় লুকিয়ে আছে এক অজানা গল্প।

দ্বিতীয় অধ্যায়: পরিচয়

পরিচয়টা খুব সাধারণভাবে হয়েছিল। মেঘলা বই খুঁজছিল, আর অরিন্দম সাহায্য করেছিল। সেই ছোট্ট আলাপের পর থেকে তারা প্রায়ই লাইব্রেরিতে একে অপরকে দেখতে পেত। ধীরে ধীরে আলাপ বাড়তে লাগল—প্রথমে বই নিয়ে, তারপর জীবনের ছোট ছোট গল্প নিয়ে। অরিন্দম আবিষ্কার করল, মেঘলা শুধু বইপ্রেমী নয়, সে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কবিতার মতো করে বাঁচতে জানে।

তৃতীয় অধ্যায়: বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা

দিনগুলো গড়াতে লাগল। তারা একসাথে ক্যাম্পাসের কফিশপে বসত, বটতলার ছায়ায় গল্প করত। অরিন্দম মেঘলার হাসি শুনে মনে করত, এই হাসিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সুর। মেঘলা অরিন্দমের চোখে খুঁজে পেত এক অদ্ভুত শান্তি। বন্ধুত্বের সেই সেতু ধীরে ধীরে ভালোবাসার রঙে রঙিন হতে লাগল।

একদিন অরিন্দম সাহস করে বলল— “মেঘলা, তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান। আমি চাই, এই পথটা আমরা একসাথে হেঁটে যাই।”

মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল— “অরিন্দম, ভালোবাসা আমার কাছে কবিতার মতো। তুমি যদি সেই কবিতার প্রতিটি শব্দ হতে চাও, তবে আমি সেই কবিতার ছন্দ হতে রাজি।”

চতুর্থ অধ্যায়: দূরত্বের পরীক্ষা

কিন্তু জীবন সবসময় সহজ হয় না। অরিন্দমকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে হলো। মেঘলা থেকে গেল ঢাকায়। দূরত্ব তাদের ভালোবাসাকে পরীক্ষা করতে লাগল। প্রতিদিনের ফোনকল, ইমেইল, চিঠি—সবকিছুতেই তারা একে অপরকে আঁকড়ে ধরত।

মেঘলা লিখত— “তুমি দূরে থাকলেও, তোমার উপস্থিতি আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছে।”

অরিন্দম উত্তর দিত— “তুমি আমার প্রতিটি স্বপ্নের আলো। দূরত্ব শুধু শরীরের, হৃদয়ের নয়।”

পঞ্চম অধ্যায়: পুনর্মিলন

দুই বছর পর অরিন্দম ফিরে এল। বিমানবন্দরে মেঘলা অপেক্ষা করছিল। অরিন্দমকে দেখে তার চোখে জল এসে গেল। অরিন্দম এগিয়ে এসে বলল— “আমি ফিরে এসেছি, শুধু তোমার জন্য।”

মেঘলা হাসল, আর সেই হাসি যেন আবার পৃথিবীকে নতুন করে সাজিয়ে দিল। তারা বুঝল—ভালোবাসা যদি সত্য হয়, তবে দূরত্ব কখনোই তাকে ভাঙতে পারে না।

ষষ্ঠ অধ্যায়: নতুন সূচনা

অরিন্দম আর মেঘলা সিদ্ধান্ত নিল, তারা একসাথে জীবন গড়বে। ছোট্ট একটা বাসা ভাড়া করল, যেখানে বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা গাছগুলো তাদের ভালোবাসার সাক্ষী হলো। সন্ধ্যায় তারা একসাথে বসে কবিতা পড়ত, গান শুনত, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনত।

মেঘলা বলল— “আমাদের ভালোবাসা যেন এক অনন্ত কবিতা, যার শেষ নেই।”

অরিন্দম উত্তর দিল— “হ্যাঁ, আর সেই কবিতার প্রতিটি শব্দে থাকবে তুমি।”

উপসংহার

এই গল্পে অরিন্দম আর মেঘলার ভালোবাসা প্রমাণ করে—সত্যিকারের প্রেম কখনো দূরত্বে ভাঙে না, সময়ে ম্লান হয় না। ভালোবাসা যদি কবিতার মতো হয়, তবে তার প্রতিটি শব্দে থাকে চিরন্তন সৌন্দর্য।

Comments

    Please login to post comment. Login

  • Sifat Hossan 2 weeks ago

    যেই বইটার লিংক দিয়েছেন সেটা আমি ইতি মধ্যেই কিনেছি বইটা খুব সুন্দর ত

  • Sifat Hossan 2 weeks ago

    গল্পটা সুন্দর