Posts

সমালোচনা

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন: বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইলের আড়ালে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র

March 16, 2026

আলিফ রহমান বিজয়

Original Author আলিফ রহমান বিজয়

28
View

সব স্কুলে মেডিটেশন শেখাবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। আর আপনার সন্তানের মস্তিষ্ক হবে তাদের laboratory!

একটা খবর দেখলাম। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের তৈরি করা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
 

আপনি হয়তো ভাবছেন, মেডিটেশন তো ভালো জিনিস। স্ট্রেস কমায়। মনোযোগ বাড়ায়। বিজ্ঞান এটা বলে। ঠিক এই কথাটাই তারা চায় আপনি ভাবুন।
 

আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের দেখাব কেন এই বিশেষ মেডিটেশন এবং এই বিশেষ প্রতিষ্ঠান আপনার সন্তানের জন্য বিপজ্জনক। 

প্রথমে বুঝি, এই প্রতিষ্ঠানটা আসলে কে?

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার নাম আপনারা জানেন শহীদ আল বোখারী মহাজাতক। কিন্তু তার আসল নাম এবিএম শহিদুল আলম দুলু ওরফে দুলু। আশির দশকে জ্যোতিষ বিদ্যার ব্যবসা করতেন। তখন বুঝলেন মুসলিমবঙ্গে এটা বেশিদিন চলবে না। তখন নিলেন দুটো কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
 

প্রথমত নিজের নামের সাথে বোখারী জুড়ে দিলেন। ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ ইসলামের সবচেয়ে বিশ্বস্ত হাদিস সংকলক। তার নামের সাথে এই উপাধি জুড়ে দিলে সাধারণ মানুষ automatically তাকে বিশ্বাস করবে। 

দ্বিতীয়ত নাম দিলেন মহাজাতক। জাতক হলো বৌদ্ধ ধর্মের সেই গ্রন্থ যেখানে বুদ্ধের পূর্বজন্মের গল্প আছে। পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাস না করলে কেউ মহাজাতক উপাধি নেয় না।

একই মানুষ একই সাথে বোখারী এবং মহাজাতক। একদিকে মুসলিমদের কাছে ইসলামিক আলেম, অন্যদিকে নাস্তিক সেকুলারদের কাছে আধ্যাত্মিক গুরু। এই দুই পরিচয় বহন করা কি সৎ কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব?

কোয়ান্টাম মেথড কি তাদের নিজেদের আবিষ্কার?

একদমই না।

আমেরিকার Jose Silva নামের একজন ব্যক্তি ১৯৬০ এর দশকে Silva Mind Control Method আবিষ্কার করেন। কোয়ান্টাম মেথড সেটার হুবহু বাংলাদেশি copy। পার্থক্য একটাই। Silva এর পদ্ধতিতে ইসলামের কোনো মোড়ক ছিল না। কোয়ান্টাম সেই একই পদ্ধতিকে কুরআনিক সায়েন্স বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

এই তথ্যটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা প্রমাণ করে এই পদ্ধতি ইসলামের কোনো জ্ঞান থেকে আসেনি। এসেছে পশ্চিমা একজন ব্যক্তির মাথা থেকে। তারপর সেটাকে ইসলামিক মোড়ক পরিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
 

এবার আসি সেই প্রশ্নে। মেডিটেশন কি আসলেই ক্ষতিকর?

অনেকে বলবেন, ভাই মেডিটেশন তো Harvard Medical School ও recommend করে। Johns Hopkins এর গবেষণা বলে এটা anxiety কমায়। তাহলে সমস্যা কোথায়?

সমস্যা মেডিটেশনে না। সমস্যা এই বিশেষ ধরনের মেডিটেশনে এবং এই বিশেষ প্রতিষ্ঠানে।

পার্থক্যটা বোঝার জন্য একটা analogy দিই। পানি খাওয়া স্বাস্থ্যকর। কিন্তু কোনো কোম্পানি যদি পানির বোতলে ধীমাত্রায় বিষ মিশিয়ে বিক্রি করে, তাহলে সমস্যাটা পানিতে না, সেই কোম্পানিতে।

Harvard বা Johns Hopkins যে mindfulness meditation এর কথা বলে সেটা হলো শুধু নিজের শ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া। এতে কোনো guided visualization নেই। কোনো altered state of consciousness নেই। কোনো spiritual entity র সাথে connection নেই।

কিন্তু কোয়ান্টাম যা শেখায় সেটা অন্য জিনিস।
 

কোয়ান্টামের মেডিটেশনে আসলে কী হয়?

কোয়ান্টাম ল্যাবে প্রথমে আপনাকে বিশেষ সুরের মিউজিক শুনিয়ে, নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে মস্তিষ্ককে Beta state থেকে Alpha state এ নামিয়ে আনা হয়।

Alpha state টা কী? এটা ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থা। এই অবস্থায় মানুষের মস্তিষ্কের Critical Filter, মানে সেই পাহারাদার যে ভুল তথ্য আটকায়, সে ঘুমিয়ে পড়ে। এই অবস্থায় মানুষ hypnosis এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তখন গাইড বলতে থাকেন নিজেকে আলোর মধ্যে কল্পনা করুন। নিজের শরীর থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন কল্পনা করুন। এখন আপনার Alpha Station এ আসুন।

এটা শুনতে নিরীহ মনে হলেও এর কাজটা হলো মানুষকে dissociation শেখানো। নিজের শরীর এবং বাস্তবতা থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।

২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আরাফাত সিয়াম আত্মহত্যার আগে একটি পোস্ট লিখেছিল। সে লিখেছিল, আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি আবার আমার শরীরে ফিরে আসব কিনা। আর সেখানে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য হয়তো শারীরিক মৃত্যুই একমাত্র সমাধান।

এটাই হলো dissociation এর শেষ পরিণতি। এক পর্যায়ে বাস্তব জগত কারাগার মনে হয় এবং সেই কল্পনার জগতে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়াটাকে মুক্তি মনে হয়।

এই পদ্ধতি এখন আপনার সন্তানের school এ পড়ানো হবে।  বিপদটা বুঝতে পারছেন?

আপনি বলবেন, সব বাচ্চা কি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

না। সবাই হবে না। ঠিক যেমন সবাই drug নিলে addict হয় না। কিন্তু কিছু মানুষ হয়। এবং কোনো দায়িত্বশীল মানুষই তার সন্তানকে এই risk এ ফেলবেন না।

তার চেয়েও বড় কথা হলো Alpha State এ গিয়ে বারবার guided visualization করার মাধ্যমে যে psychological conditioning তৈরি হয়, সেটা প্রতিটা শিশুর ক্ষেত্রেই হয়। কেউ এর ক্ষতিকর দিকটা আগে দেখে, কেউ দেরিতে দেখে।

এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য

পরিবেশ অধিদপ্তর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ৫৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে পাহাড় ধ্বংসের অভিযোগে। যারা বলে প্রকৃতির সাথে মিশে যাও তারাই পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় তাদের কেন্দ্র। স্থানীয় ম্রো এবং ত্রিপুরা আদিবাসীদের অভিযোগ তাদের পৈতৃক জমি দখল করা হয়েছে।

প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা যাকাত ও সাদকা সংগ্রহ করে কিন্তু সেই অর্থের স্বচ্ছ অডিট কখনো প্রকাশ করেনি।

আবার এই প্রতিষ্ঠানকে সরকার দেশের সব স্কুলে ঢুকতে দিচ্ছে।
 

যারা বলবেন এটা ইসলামবিরোধী কথা না, মেডিটেশন তো ইসলামেও আছে!

একদম ঠিক কথা। ইসলামে মুরাকাবা আছে। তাফাক্কুর আছে। গভীর চিন্তা ও আত্মজিজ্ঞাসার ঐতিহ্য ইসলামের অংশ।

কিন্তু ইসলামের মুরাকাবা আর কোয়ান্টাম মেডিটেশনের পার্থক্য হলো একটি নদী আর একটি নর্দমার পার্থক্যের মতো। দুটোতেই পানি আছে কিন্তু একটা জীবন দেয়, আরেকটা রোগ দেয়।
 

ইসলামের মুরাকাবায় আল্লাহর সাথে সংযোগ তৈরি হয়, তাকওয়া বাড়ে, আখেরাতের চিন্তা বাড়ে। আর কোয়ান্টামের মেডিটেশনে Universe এর সাথে সংযোগ তৈরি হয়, নিজের ইচ্ছাশক্তিকে সর্বোচ্চ মনে করা হয়, দুনিয়াবি সাফল্যের দিকে দৌড়ানো হয়। একজন মানুষকে completely materialistic করে ফেলা হয়। দেখবেন এদের ফাঁদে পড়া লোকগুলো নামাযের সময় ও quantum এর protocol follow করে। 
 

So, ইসলামে মুরাকাবা আর এদের Meditation দুটো এক জিনিস না।
 

এখন আপনাদের কী করা উচিত?

প্রথমত, এই পোস্টটা শেয়ার করেন অথবা নিজেরা copy করে নিজেদের profile থেকে post করেন। বিশেষ করে যারা শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে আছেন তাদের কাছে পাঠান।

দ্বিতীয়ত, নিজের সন্তানের স্কুলে যদি এই কার্যক্রম শুরু হয়, সচেতনভাবে সেই সেশনগুলো থেকে সন্তানকে বিরত রাখেন।

তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান যে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস এবং পদ্ধতি সম্পর্কে তদন্ত প্রয়োজন।
 

আপনার সন্তানের মস্তিষ্ক ও আপনার সন্তানের ঈমান তাদের laboratory বা পণ্য না।
 

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রতিটি সন্তান ফিতরাতের উপর জন্মায়। তার মা বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা মাজুসি বানায়। আজকের এই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র সেই মা বাবার ভূমিকায় অন্য কাউকে বসিয়ে দিচ্ছে।

এই ফিতরাতকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।

আল্লাহ আমাদের সন্তানদের হেফাজত করুন। আমীন।

(Quantum Foundation এর কাজের Technical Details সহ তাদের অপরাধ কার্যক্রম এর বিস্তারিত আরও দুইটি পোস্ট আমার প্রফাইলে পাবেন)

Comments

    Please login to post comment. Login