আমাদের মসজিদগুলোতে যেসব ইমাম-মুয়াজ্জিন আছেন তাদের জ্ঞান নিয়ে অনেক কথাই শুনে থাকি। আমি চেষ্টা করি মুখের উপর জবাব দিতে। তবে সব সময় তা সম্ভব হয়না নানা কারণে৷
শহরের মসজিদগুলোতে যারা ইমাম থাকেন তারা সাধারণত গ্রামের ইমামদের তুলনায় একটু বেশি শিক্ষিত। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গুরুত্ব অনুসারে যথাযথ শিক্ষিত ইমাম নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
আবার গ্রামের মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এত কিছু সমন্বয় করা সম্ভব হয়না৷ তার উপর থাকে ফান্ডিং এর ঘাটতি। সামান্য কিছু বেতন ভাতার বিনিময়ে তারা মসজিদের সেবা করে থাকে।
এসকল ইমাম-মুয়াজ্জিন সাধারণত স্বল্প শিক্ষিত। অনেকেই আবার মাদ্রাসায় সময় দেন৷ তাই মসজিদের সেবা করার এত সময় হয়না তাদের।
আমাদের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ ইমাম-মুয়াজ্জিন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তারা কোন রকম এতিমখানা বা মাদ্রাসায় সামান্য শিক্ষা অর্জন করেছেন৷ তারা তাদের সাধ্যমতো মসজিদের সেবা করেন। সেখানে অনেক ত্রুটির অবকাশ থাকে।
অনেক ইমামের বিরুদ্ধে অনৈতিক অনেক কিছুর অভিযোগ আসে। কিন্তু এই সামান্য বেতনে কি তাদের চলে? মসজিদ কমিটি কি তাদের জন্য অন্য কোন আয়ের ব্যবস্থা করে দেন? ইমাম-মুয়াজ্জিন লোকের বাড়ি খায়, এটা নিয়েও অনেকের অভিযোগ থাকে৷
অথবা পরিবার নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেন? স্ত্রী পাশে না থাকলে অনৈতিক কিছু অস্বাভাবিক না, তারাও মানুষ।
হয়ত মসজিদের জন্য তাদের সেবা আমাদের মনমতো হয়না। কিন্তু মসজিদের সেবায় কয়জন এগিয়ে আসেন? কথা তো অনেকেই বলতে পারেন।
এমনও দেখেছি, মসজিদ কমিটির কাছে কথায় কথায় দরিদ্র ইমাম সাহেব ঝারি খান। মনে হয় মসজিদ কমিটিই তার রিজিকের মালিক।
তাদের জন্য সরকারি পর্যায়ে যেমন কাজ করা উচিত। জনগণেরও তাদের সাধ্যমতো মসজিদের সেবায় এগিয়ে আসা উচিত।