সেদিন একজন মহাজ্ঞানী ব্যক্তির পাল্লায় পড়ে গেলাম। তিনি আবার দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি-মিসওয়াক এসবের বিরোধী।
তার দাবি হলো, এসবের কোন সম্পর্কই ইসলামের সাথে নেই। মিসওয়াক করলে নেকী পাওয়া যাবে, এই কথার সাথে তিনি কিছুতেই একমত নন। এসব ভুয়া কথা।
তার মতে, এসব ইসলামের কিছুই, আলেমরা এসব ইসলামে সংযুক্ত করে ইসলামকে আরো জটিল করে দিয়েছেন।
আসলে তার এসব কথার জবাব দেওয়ার জন্য আমি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলাম। তাই মনে হলো, আরেকটু পড়াশোনা করি।
প্রসঙ্গ দাড়ি:
দাড়ি রাখার বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস খুজে পেলাম।
"তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ গোফ ছোট কর এবং দাড়ি লম্বা কর।" (সহীহ বোখারী: ৫৮৯২)।
"তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে"। (মুসনাদে আহমদ: ৭১৩২।
তারপরও অনেকেই দাড়ি রাখেনা। এটা সুন্নত, ফরজ ইবাদত নয়৷ আল্লাহ যাকে রাখার তাউফিক দেন সেই রাখতে পারে। কিন্তু এটাকে ছোট করে করে দেখার বা ছোট করে কথা বলার অবকাশ আছে বলে আমার মনে হয়না।
প্রসঙ্গ টুপি:
টুপি পড়া আসলেই ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। না পড়লেও যে গুনাহ হবে, এমনটি নয়।
তবে মুসলমান হিসেবে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে এটা একটা অসাধারণ মাধ্যম। একজন মুসলমান তার মুসলিমসুলভ বেশভূষা নিয়ে অহংকার বোধ করবে, এটাই স্বাভাবিক। হীনমন্যতায় ভোগার কোন সুযোগ নেই।
সরাসরি আমি টুপি সম্পর্কে কোন হাদিস খুজে পাইনি। থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। তবে নবীজি সা:, তার সাহাবীরা, তাবেইগণ ইত্যাদি টুপি পড়তেন এই বিষয়ে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গ পাঞ্জাবি:
পাঞ্জাবি আসলে সরাসরি ইসলামী পোশাক নয়। এটি আসলে আরবদের পোশাক বিশেষ যেমন নয়, তেমনই বাঙ্গালীরও নয়। এটি অনেক দেশেই আছে। বিশেষ করে পাকিস্তানে।
তবে ইসলামে পুরুষের যেমন পোশাকের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় তার সাথে পাঞ্জাবিকে সহজেই মানিয়ে নেয়া যায়।
ইসলাম পুরুষেকেও পর্দা করতে বলে। ঢিলেঢালা পোশাক পড়তে বলে। এসব কিছু হিসাব করলে পাঞ্জাবি অন্য অনেক পোশাকের চেয়ে ইসলামের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে যে কোন পোশাকই ইসলামী পোশাক হতে যদি তা শালীন হয় এবং ইসলামের বিধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
প্রসঙ্গ মিসওয়াক:
মিসওয়াক সম্পর্কেও নবীজি সা: এর বেশ কয়েকটা হাদিস খুজে পেলাম।
"মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা, রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।" -সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৮৯
"আমাকে মিসওয়াকের আদেশ দেয়া হয়েছে। আমার আশঙ্কা হতে লাগল, না জানি তা আমার উপর ফরয করে দেয়া হয়।" -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১৬০০৭
এরপর আশা করি মিসওয়াক করাকে ছোট করে কথা বলার অবকাশ থাকবেনা। কেউ চাইলে টুথব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করতেই পারে। কিন্তু মিসওয়াক ব্যবহার সম্পর্কে উল্টোপাল্টা না বলাই ভালো বলে মনে করি৷
মুজিব আদর্শের সৈনিকরা দেখি মুজিবের মতোই পোশাক পড়তে চেষ্টা করে। আবার জিয়ার আদর্শের সৈনিকরাও শহীদ জিয়ার মতোই পোশাক পড়ে। তারা এটা ভালোবাসা নিয়েই করে থাকে।
সমস্যা হয় যখন নবীজি সা: এর আদর্শের সৈনিকরা যখন তার মতো করে বেশভূষা পরিধান করে। এখানে হীনমন্যতায় ভোগার কোন সুযোগ নেই, থাকার কথাও না।