বিক্ষিপ্ত নগরে অদ্ভুত নীরবতা, যেন শব্দহীন আর্তনাদ,
ভাবনা গুলোর অস্থির ইতিহাস, জানিয়েছে তাঁর বিষাদ।
দ্রুততম প্রয়োজনের দরকার মেটাতে ব্যস্ত মস্তিষ্কের বিবাদ,
মনের কথা শুনি ক্লান্ত বিভোর বিস্ময়ে হই আস্বস্ত করি অবিরাম কীসবের অনুবাদ।
আর কবে নদীর পাশের গাছের নিচে বসে দেখবে মহুয়া
নীল জ্যোৎস্নার আভা রোদ ঝলমল নদীর স্রোতে ভাসছে …
গল্প বলছে সমুদ্রের গভীর প্রান্তের জাহাজে নাবিক শক্ত করে ধরে আছে দরিয়া
অন্য কোনো সমুদ্র তীরে – সেদিন মাঝদুপুরে সে দেখছিল —
সুন্দর রমণীর মন. কালো চুল. কাশফুল ত্বক আর মায়াবী নয়ন
সে তাকে বলেছিল, “এই জানো – এই বাংলার কত সুন্দর রূপ-রং"
তার ঠোঁটে লেগে থাকা মিষ্টি হাসি বলে দিয়েছিল — আমি আছি জুড়ে তোমার শয়ন-স্বপন।
তবে,
আজ অর্ধ-বর্ষ পেরিয়ে নিজ দেশ ফিরে, সে নাবিক ভাবে—
এ নগরে কোথায় মানুষ. কোথায় মন. কোথায় মায়া. কোথায় মাধুর্য আর ভালোবাসা?
আজ এ সবই কি তবে বিলুপ্ত, কোথায় প্রফুল্লতা?
তোমার নগ্ন মন দেখে বুঝেছে সে নাবিক,
রক্ত-মাংস ও মানবসভ্যতা কেন যেন হারিয়েছে প্রাণচঞ্চলতা …
যুগের পালা বদলে বদলেছে ভাষা,
যত যাই হোক, তবু হারায়নি তার মলিন আশা।
সে নাবিক ঘুরে বেড়ায় তাই দেশ থেকে দেশান্তর— হয়তো এটাই তোমার প্রত্যাশা।