Posts

চিন্তা

ইসলাম ধর্মে বাদ্যযন্ত্র ও গান–বাজনা কি হারাম? কোরআন ও হাদিস কি বলে?

March 24, 2026

মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম

18
View

সংক্ষিপ্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা:
ইসলামে গান ও বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কোরআনে সরাসরি “সব ধরনের গান এবং সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম” এমন স্পষ্ট ঘোষণা নেই; তবে কিছু হাদিস এবং দলিল থেকে এর সীমাবদ্ধতা ও শর্ত অনুধাবন করা যায়।

📖 কোরআনের আলোকে
সূরা লুকমান (আয়াত:৬):
“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অসার কথাবার্তা ক্রয় করে…”
অনেক সাহাবি ও তাফসিরকার (যেমন: ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ) এখানে “অসার কথা” বলতে গান–বাজনা বোঝাতে চেয়েছেন। তবে অন্য আলেমদের মতে এটি সব ধরনের গান নয়, বরং পথভ্রষ্টকারী, ব্যভিচারে আহ্বানকারী অর্থাৎ প্রেম ভালবাসা মূলক ও গুনাহে প্ররোচনামূলক গান-বাজনাকে বোঝায়।

📜 হাদিসের আলোকে
১️⃣ সহিহ বুখারি (সবচেয়ে শক্ত দলিল)
হাদিস নম্বর: ৫৫৯০
“আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও মা‘আজিফ (বাদ্যযন্ত্র) কে হালাল মনে করবে।”
📌 মা‘আজিফ = সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র
👉 এই হাদিসকে ইমাম ইবনে হাজার, ইবনে তাইমিয়া, ইমাম নববী প্রমুখ স্পষ্টভাবে হারাম প্রমাণে ব্যবহার করেছেন।
অনেক আলেম এই হাদিসের ভিত্তিতে বাদ্যযন্ত্র হারাম বলেছেন। তবে কিছু মুহাদ্দিস হাদিসটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে শর্তযুক্ত মত পোষণ করেন।

২️⃣ সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নম্বর: ৪৯২৪
নাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা ইবনু’ উমার (রাঃ) বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে উভয় কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে রাস্তা হতে সরে গিয়ে আমাকে বললেন, হে নাফি’ তুমি কি কিছু শুনতে পাচ্ছো? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি কান থেকে হাত তুলে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি এ ধরনের শব্দ শুনে এরূপ করেছিলেন।

৩️⃣ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বর: ৪০২০
“এই উম্মতে ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণ হবে।”
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন: কেন?
নবী ﷺ বললেন: “যখন গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ও মদ প্রকাশ্যে চালু হবে।”

🎶 যে বিষয়গুলোতে একমত হওয়া যায়
❌ হারাম / নাজায়েজ
১. অশ্লীল কথা, নৈতিকতা নষ্ট করে এমন গান-বাজনা
২. নামাজ, ফরজ ইবাদত থেকে গাফিল করে এমন গান-বাজনা
৩. মদ, ব্যভিচার, পাপের পরিবেশে ব্যবহৃত গান-বাজনা
৪. অধিকাংশ আলেমের মতে তারযুক্ত যন্ত্র ও বায়ুযন্ত্র দ্বারা তৈরি গান-বাজনা

অনুমোদিত / শর্তসাপেক্ষে
১. দাফ (ঢোলজাতীয়)— (একপাশে পর্দা দেওয়া অপর পাশে ফাকা) বিশেষ করে বিবাহ ও ঈদের সময়
২. ইসলামী নাশিদ (বাদ্যযন্ত্র ছাড়া বা সীমিতভাবে)
৩. এমন গান যা পাপের দিকে ডাকে না এবং ইবাদতে বাধা নয়

📝 সর্বশেষ:
ইসলাম নৈতিকতা, সংযম ও আত্মশুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়। যে গান বা বাদ্যযন্ত্র মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়—তা পরিহার করাই উত্তম। সন্দেহ হলে তা ছেড়ে দেওয়াই তাকওয়ার পরিচয়।

Comments

    Please login to post comment. Login