মাসুদের প্রতি রাতেই ঘুমের মাঝে সমস্যা হচ্ছিলো৷ তার প্রতি রাতেই স্বপ্নদোষ হচ্ছিলো। চেহারা একদম ভেঙ্গে পড়েছে। সে কাউকে বলার সাহস পাচ্ছিলোনা।
যাইহোক তার মা-বাবা বিষয়টি বুঝতে পেরে একজন কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলো। কবিরাজ সব শুনে একটা তাবিজ দিলো।
তাবিজ ধারণ করে মাসুদ প্রথম দিন ভালো অনুভব করলো৷ তারপর আগের অবস্থাই চলতে থাকলো। এরপর তারা অনেক কবিরাজ ধরলো, মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছেও নিয়ে গেলো।
কিন্তু ফল তেমন পেলোনা, দুই-তিন দিনের বেশি একটানা ভালো থাকেনা। গ্রামের ফার্মেসি থেকে লক্ষন বলে ওষুধ এনে খাওয়ানো হলো। সেই একই পরিস্থিতি। তাই সবাই আশা ছেড়ে দিলো।
দুয়েকজন অবশ্য তাকে বিয়ে করানোর পরামর্শ দিয়েছে। বাবা-মায়ের সম্পদ আছে অনেক। তাই তারা ছেলের জন্য মেয়েও দেখা শুরু করেছে।
অবশেষে একজন রাকীর কাছে নিয়ে গেলো মাসুদকে। রাকী নানা প্রশ্ন করলো তাকে। তারপর পরামর্শ দিলো, একজন ভালো ডাক্তার দেখিয়ে আসার জন্য। ডাক্তারের পাশাপাশি রাকী চিকিৎসা করবেন।
রাকীর পরামর্শে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখান থেকে আসার পর রাকী ভাই বলে দিলেন, ডাক্তারের ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে আর তার পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
রাকীর পরামর্শগুলো নিন্মে দেওয়া হলো:-
১। পাচওয়াক্ত নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে। কোনকিছুতেই নামাজ ছাড়া যাবেনা। যে কোন এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দিলেই চিকিৎসাতে কাজ করতে নাও হতে পারে।
২। সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
৩। সকল প্রকার পাপকাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪। "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহাদাহু লা-শারীকালাহু লাহুল মুলক্বু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লী শাইয়ীন ক্বাদীর" এটি একশত বার পড়ে দিনে দুইবার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। প্রথমত ফজরের নামাজের পর সারাদিনের জন্য। দ্বিতীয়ত আসরের নামাজের পর সারারাতের জন্য।
মাসুদ প্রথম দিন শেষে জানালো, আমলে ফল হয়নি। পরে জানা গেলো, সে বাড়ির বাইরে থাকায় ঠিকমতো নামাজ আদায় করতে পারেনি।
আবার দ্বিতীয় দিন শেষে এসে আবার জানালো যে, এবারও কাজ হয়নি। আসলে সে অলসতা করে ফজরের নামাজ পড়েনি। তাই আমলে কাজও হয়নি। নিয়মিত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য না চাইলে কাজ নাও হতে পারে।
অবশেষে মাসুদ রাকীর দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক আমল শুরু করলো এবং ডাক্তারের ওষুধও নিয়মিত খাওয়া শুরু করলো। কিছুদিনের মাঝেই সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলো।