সর্বপ্রথম নতশিরে অতি সম্মানে
স্মরণ করি সর্বজ্ঞাতা অন্তর্যামিকে
যিনি অতি দয়াকরে মায়ার পরশে
সৃষ্টি করছে আপন হাতে মহাবিশ্বকে।
তার পরেতে এই ব্রহ্মাণ্ডের অভ্যন্তর মাঝে
সবুজ রঙে মুড়ে দিয়ে গ্রহের আকারে
তিন ভাগে জল আর এক ভাগে স্থলকে রেখে
এই পৃথিবীর কাঠামোটা তৈরি করেছে।
জগত গড়ে তাতে বাসের প্রকৃতি দিয়ে
নদী বয়ে বাতাস দিয়ে আলো ছড়িয়ে
তার ভিতরে রোপন করে প্রাণের চারাকে
দুটি দলে ভাগ করেছে নারী-পুরুষে।
নারীর দেহে রূপ উপাদান সবকিছু ঢেলে
নরের দেহে কামের জ্বালা দিছে জ্বালিয়ে
রূপের সাথে কামকে বেঁধে একই ডোরেতে
বুঁদ করেছে পরস্পরকে যৌবনের রসে।
এই রসেতে ছুটছে তারা যৌবনের কালে
বাহু ডোরে বাঁধতে তাদের একে অপরকে;
উভয় মাঝে জাগ্রিত এই কামের তাড়নে
চঞ্চলতা আসছে ফিরে জগত সংসারে।
এই আকর্ষে পিতা মাতা সন্তান জন্মাতে
মায়ার বশে দুরন্ত এক অনুভবেতে
নীরব রাতে প্রেমের রঙে কামের তুলিতে
ভবিষ্যতের আঁকছে ছবি হৃদয়ের পটে।
সেই ছবিটা আঁকতে যেন বিধাতা নিজে
নর ও নারীর রক্ত স্রোতে গতি বাড়িয়ে
স্বর্গ নদের উন্মাদ নিয়ে কামের রূপ ধরে
সুখের পরশ দেয় বুলিয়ে প্রতিটি অঙ্গে।
এই উপায়ে যিনি আমায় মানুষ্য রূপে
সৃষ্টি করে প্রেরণ করলো ধরনির বুকে
সেই দরদী সৃষ্টি কর্তার মহান দরবারে
জানাই তাকে কৃতজ্ঞতা স্তুতি বাক্যে।
তিনি দেখ চাঁদের আলোয় রাতেকে সাজিয়ে
সমীরণে ফুলের সুবাস দিছে মাখিয়ে
সাদা কালো মেঘের ভেলা ভাসিয়ে নীলে
তার মাঝেতে তারার বাতি দিছে জ্বালিয়ে।
পাহাড়কে সে দৃঢ় পায়ে দাঁড়িয়ে রেখে
বসুন্ধরার খুঁটির মতো করে রেখেছে
সাগর নদী পানির ধারা বয়ে সবক্ষাণে
তৃষ্ণা মিটায় সব প্রাণীর রবের আদেশে।
সেই বিধাতার নিরবচ্ছিন্ন করুণা পেয়ে
এই পৃথিবীর সকল কিছু চলছে নিয়মে
মানব জাতি সৃষ্টি করে বিধাতা নিজে
শ্রেষ্ঠ জাতি রাখছে করে বিবেক বুদ্ধিতে।
বুদ্ধি পেলাম শক্তি পেলাম যার অবদানে
সুমহান সেই পালন কর্তার আরশ চরণে
হৃদ মাজারের গহীন থেকে নত মস্তকে
করছি তাকে শত কুর্নিশ পূর্ণ সম্ভ্রমে।
আরো বেশি করি সম্মান এই কথা ভেবে
জানা মতে সৌরবিশ্বের একটি গোলকে
জলের ধারা বয়ে দিয়ে ধরিত্রীর বুকে
জীবের সৃষ্টি করছেন তিনি প্রাজ্ঞতার সাথে।
বস-বাসের উপযোগী করতে ধরাকে
সবুজ শ্যামল এই পৃথিবীর সমীরণেতে
অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায় প্রাণের গতিকে
মসৃণ করে দিছে স্বয়ং বিধাতা নিজে।
সৃষ্টি করে প্রাণীকুলে তাদের দেহতে
চুপটি করে করছে বপন প্রেমের শশ্যকে
যাতে করে নরনারীদ্বয় ফসল ফলাতে
দেহের মাঝে টানের চেতন অনুভব করে।
এই টানেতেই জগত সংসার অদৃশ্য ডোরে
বাঁধা পরে আছে দেখো মনে মনেতে
কামের ছবি এঁকে দিয়ে চোখের গভীরে
হৃদয়টাকে পূর্ণ করছে আকাঙক্ষা ঢেলে।
স্বপ্নের চিত্র আঁকতে সবাই হৃদয়ের পটে
ছুটছে শুধু হন্যে হয়ে প্রেমের পিছনে
নর-নারীতে বাঁধা পরে হৃদয়ের টানে
তৈরি করে চলছে তারা হবু বিশ্বকে।
প্রার্থনাতে করি দোয়া বিধাতার কাছে
তার করুনা নিয়ে যেন ধরিত্রীর বুকে
লক্ষ্য কোটি বছর ধরে বিনা ব্যাঘাতে
বেঁচে থাকুক সকল প্রাণী প্রেমের আবহে।
প্রেম ছাড়া কি খোদা নিজে মানব সংসারকে
নিতো তুলে নিজের হাতে চালনা করতে?
চন্দ্র সূর্য গ্রহ-তারা একে অপরকে
প্রেমের টানেই রাখছে বেঁধে শূন্য আকাশে।
রঙগুলো সব যেমন করে সাদা রঙেতে
আছে মিশে ভুলে সবাই আপন বর্ণকে
সৃষ্টি তত্ত্বের সকল কিছু ঠিক তেমনি করে
প্রেমের মাঝেই আছে ডুবে নিজেকে ভুলে।
হৃদ মন্দিরের বেদীর উপর সব আবেগ নিয়ে
প্রেমের প্রদীপ যদি থাকে জ্বলতে নির্বিঘ্নে
সেই হৃদয়ে আসন পেতে স্ফীত ঠোঁটে
দয়াল প্রভু থাকে বসে পূর্ণ সন্তুষ্টে।
সৃষ্টি কর্তা নিজের ছায়া প্রেমের মাঝেতে
দিছে ঢেলে সুনিপুণে জগত সংসারে
প্রেমের ডোরে বেধে দিয়ে নরো নারীকে
শীর্ষে বসে দেখছে তিনি মুচকি হাসিতে।
14
View