পদ্যে গদ্যে জীবনের সব অনুভূতিতে
চেতন কিংবা অচেতনে মনের ভিতরে
কল্পনার সব আকাশ জুড়ে প্রতি বিন্দুতে
থাকতো বসে তার চেহারা সর্বক্ষণেতে।
আলোর মাঝে দেখতাম তাকে দেখতাম আধারে
চোখের মাঝে মাথার ভাবনায় হৃদয়ের মর্মে
মন মন্দিরের বেদীর উপর দেবীর আসনে
শক্ত ভাবে বসে ছিলো সে প্রতি ক্ষণে।
ধীরে ধীরে চাঁদটা যখন মেঘের কোলেতে
অলসতায় মাথা রেখে পরছিলো নুয়ে
তখন যেন রাতের আধার দায়িত্ব সেরে
যাচ্ছিলো তো মিশে তারা পূবের আকাশে।
আলোর রেখা দেখে যখন বিহঙ্গ কুলে
ডানা মেলে কিচিরমিচির কন্ঠ ধ্বনিতে
আকাশ বুকে উড়ে উড়ে ঝাঁকে ঝাঁকেতে
সকাল বেলার দিতো সাড়া আপন ভঙ্গিতে।
রাতের আধার পেরিয়ে যে আলোর ছোঁয়াতে
শিশির বিন্দু জমে থাকতো ঘাসের ডগাতে
তাদের দ্বারা আঁকতাম আমি কল্প রেখাতে
হৃদয় কূলে বসে থাকা স্বপ্নের রানীকে।
ততখনে অংশুমালী হলুদ রঙেতে
পূর্ব আকাশ ভরে দিতো তার যে কিরণে
প্রতিবারি মনের মাঝে নতুন আদলে
স্বপ্নে ঘেরা একটি আশা দেখতাম আনমনে।
হয় তো কোন রাজ্য কন্যা গোপন সুরেতে
করছে লালন প্রেমের ছন্দ আপন মনেতে
তার যে আমি পাবো দেখা একদিন সকালে
প্রভাত বেলা কাটতো আমার এমোন বিশ্বাসে।
সূর্য মামার চোখ রাঙানো রোদেলা দিনে
চারিদিকে তপ্ত রোদের ঝলকানি দেখে
যখন সবার মাথার ঘিলু থাকে তাঁতিয়ে
তখন থাকে ছায়ার জন্য সবাই মুখিয়ে।
এমোন দিনেও মনের ভিতর থাকতো যে জেগে
প্রেমের সাথী খোঁজার নেশা সন্ধানী চোখে
মরীচিকার জলের ঢেউয়ে আবছা আকারে
দেখতে পেতাম তরুণী এক ডাকছে আমাকে।
অনেক সময় ভর দুপুরের ব্যস্ততার মাঝে
আমার মনে মারতো উঁকি মাঝে মাঝেতে
রূপসী এক ফুল কুমারী কোমল কপোলে
প্রেমের ছবি আঁকতো বসে হৃদয়ের পটে।
সূর্য যখন তেজ হারিয়ে ধীরে ধীরেতে
পশ্চিম পাড়ের আকাশ মাঝে যায় যে এগিয়ে
স্নিগ্ধ সমীর তখন একটু শীতল পরশে
ভূ-ধর পৃষ্ঠের তপ্ততাকে দেয় যে বুলিয়ে।
6
View