Posts

কবিতা

প্রেম তরঙ্গ (মহাকাব্য) ২য় সর্গ, পর্ব - ১

March 28, 2026

অকৈতব

4
View

প্রতি দিনের মতো সেদিন আমি বিকালে
বের হয়েছি হাটতে একলা অভ্যাসের তরে
সূর্যটা যে ছিলো তখন ঢলে পশ্চিমে
রোদে ছিলো মিষ্টি আমেজ হালকা বাতাসে।
সবুজ মাঠের ঘাসের মাঝে মুক্ত দানাকে
কে যেনো তো মনের সুখে ছড়িয়ে দিয়ে
প্রেম তুলিতে মনের রঙে স্বর্গ ভূমিকে
এই ধরনীর ক্যানভাসেতে দিয়েছে এঁকে।
যৌবনের এক কোমল রোদের শুভ বিকেলে
ঘুরতে গিয়ে নদীর ধারের নীরব চড়েতে
দেখতে পেলাম সবুজ মাঠের মেঠো পথ ধরে
সুন্দরী এক হাটতে ছিলো নগ্ন পায়েতে।
দু পায়েরি তালুর রেখা আলতার রঙেতে
লাল যে ছিলো প্রভাতেরই সূর্যের মতোনে
যেন প্রেমের নবীন অরুণ আধার কটিয়ে
পরছে লুটে তার চরণে রাঙা বরণে।
তার যে সুন্দর ভরাট পায়ের টাখনু দেশেতে
স্বর্ণ লতার মতো ছিলো নূপুর জড়িয়ে 
তার মায়াবি ছন্দবদ্ধ মধুর নিক্কণে
আকাশ বাতাস গাইতে ছিলো মুগ্ধ তন্ময়ে।
তার হাঁটারই বক্র তালে আমার হৃদয়ে
চরম একটা ভালো লাগা উঠছিলো জেগে 
চাঁদের টানে যেমন আসে জোয়ার নদীতে
তেমনি আমি ছুটতে ছিলাম তার রূপের টানে।
ঝুলতে থাকা তার কোমরের বিছার ঝংকারে
কাম দেবতা যেন আমার ধ্যানের মন্দিরে
প্রেমের গরল মেখে বাণে চোখের পলকে 
পুষ্প শরকে মারলো ছুড়ে আমার হৃদয়ে। 
প্রেমের বিষে হৃদয় আমার অল্প সময়ে
জর্জরিত হলো যেন শিবের মতোনে
হৃদয় মাঝে সুপ্ত থাকা ধ্যানের মন্দিরে
প্রেমের ঘন্টা বাজতে লাগলো রূপের যাদুতে।
তার কোমরের ঢেউয়ের তালে গাছের শাখাতে
ফুটতে ছিলো ফুলগুলো সব মিষ্টি হাসিতে
অলিগুলো গুনগুনিয়ে পুষ্প বাগানে
মধু খেয়ে নাচতে ছিলো পরম আনন্দে।
প্রজাপতি দিলো ছড়ায় দিগন্ত মাঝে
হাজার রঙের স্বপ্ন বাহার তার যে ডানাতে
ফুলে ফুলে বলছে সে যে অতি আনন্দে
আজ প্রকৃতি উঠবে ভরে আসল সুন্দর্যে।
ধানের ক্ষেতে দক্ষিণ বাতাস নব উদ্যমে
চঞ্চল মনে চলতে ছিলো শিস যে বাজিয়ে
ধানে ধানে বলতেছিলো কানে কানেতে
এ কোন রূপের বাতাস বইছে আজকে পাথারে।

Comments

    Please login to post comment. Login