ধানের ক্ষেতে দক্ষিণ বাতাস নব উদ্যমে
চঞ্চল মনে চলতে ছিলো শিস যে বাজিয়ে
ধানে ধানে বলছিলো যে কানে কানেতে
এ কোন রূপের বাতাস বইছে আজকে পাথারে।
রূপের আভায় মাতাল হয়ে তীব্র কামনে
স্নিগ্ধ মৃদু সমীর ধারা শীতল পরশে
তার কপোলের কোমল ত্বকে চপল সরসে
দিলো ছুয়ে স্নেহ মায়া আপন দরদে।
আকাশের সব মেঘের ভেলা ধুম্র বয়নে
নকশা যেন আঁকছিলো সব তুলির আঁচড়ে
চারদিকেতে চলতে ছিলো প্রকৃতি মাঝে
আনন্দেরই মহা যজ্ঞ বিনয়ী ভাবে।
গাছের পাতায় মাঠের ঘাসে দীঘির জলেতে
অবাক হয়ে দেখতে ছিলো প্রকৃতিটা যে
চারপাশেতে সকল কিছুর অধর যুগলে
চলতে ছিলো মুগ্ধ আলাপ রূপের বিস্ময়ে।
গাছের শাখায় পাতার ভিড়ে উঁচু মগ ডালে
এক কোণাতে একটি দোয়েল কন্ঠ উচিয়ে
গাইতে লাগলো শিস বাজিয়ে মনের আনন্দে
তারই রূপের আলো মেখে চোখে মুখেতে।
নদীর জলের ঢেউ তরঙ্গ তার ছায়া পেয়ে
দুলতে ছিলো আরো যেন মনের সুখেতে
দেখে জলের কল্লোল ধ্বনি নদীর গভীরে
মনে হলো ধন্য সে আজ চরম খুশিতে।
পথের ধুলো যেন তারই চরণ যুগলে
পুজোর প্রসাদ করছিলো ভেট নত মস্তকে
নূপুর ধ্বনির মধুর তালে পথের দু ধারে
ঘাস ফুলেরা নাচতে ছিলো হাওয়ার দোলকে।
তার রূপেরই মাদকতার আলোড়নেতে
সবকিছুতে বদলা এলো আগের রূপ থেকে
কাশ ফুলের সব শুভ্র সাদা পাপড়ি গুলোতে
হঠাৎ যেন হাজার রঙের ঝড় গেলো বয়ে।
এমোন রূপের কন্যা দেখে দুটি নয়নে
থমকে গেলাম আমি যেন অবাক বিস্ময়ে
মনে হলো কোনো পরী স্বর্গ লোক হতে
হঠাৎ করে আসছে নেমে পৃথিবীর বুকে।
তার রূপেরই মাদকতা পরছে ছড়িয়ে
আকাশ বাতাস পাহাড় নদী বনের অরণ্যে
মনের ভিতর প্রেমের বাঁশি নতুন সুরেতে
উঠলো বেজে বসন্তেরই নব পল্লবে।
ষৌবনের এই আষাঢ় মাসের ভরা জোয়ারে
যখন আমি খুঁজতে ছিলাম হৃদয় সঙ্গিকে
সেই সময়ে দেখে আমি স্বর্গ পরীকে
প্রথম দেখায় পরেছিলাম প্রেমের কবলে।
মনে হলো প্রেমের ঈশ্বর আমার কানেতে
ফিসফিসিয়ে বললো যেন একি নিশ্বাসে
এই রূপসী তোমার জন্য স্বর্গ লোকেতে
করছে সৃজন ঈশ্বর বসে নিজের পছন্দে।
4
View