যৌথ খামারে কদমগাছ
সেভেন কি এইটে পড়ি। দুপাশে রেললাইন, মাঝে ছোট এক খন্ড মাঠ। বিকেল হলে ফুটবল খেলি। অন্ধকার নেমে আসলে খেলা বন্ধ হয়। মাঠের পাশে বসে কতক্ষণ জিরিয়ে নিই। গল্প করি। কল্পনায় কত শত ছবি আকি।
কলোনীর ভিতরে ফাকা জায়গায় অনেকে পিয়াজ, রসুন, সবজি চাষ করে। আমার মাথায় আইডিয়া খেলে গেলো। আমরাও চাষ করবো।
ভাবতে যত দেরি, শুরু করতে দেরি নয়। জায়গা নির্বাচন সম্পন্ন হলো। আসল লড়াই শুরু হয় জমি চাষ করতে গিয়ে। কোদাল চালালে বাউন্স করে। ভিতরে পাথর আর পাথর। দিনের পর দিন কোদাল দিয়ে চাষ করে বেড রেডি করা হয়। আহা কী আনন্দ!
সেটা ছিলো যৌথ উদ্যোগ। রকি, সাজেদুর, রেজা ও মাসুম। সংক্ষেপ করলে দাড়ায় রসারেমা। রসারেমা যৌথ খামার। অনেকে আমাদেরকে অনুসরণ করলো। খামার তৈরি হলো আরও কয়েকটা।
চ্যালেঞ্জ আরও ছিলো। সেচের ব্যবস্থা ছিলো না। নিরুপায় হয়ে বালতি করে পানি আনি। অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। হাল ছাড়িনি।
রসুন গাছ বড় হলো। শুরু হলো বকরির উৎপাত। উপায় কী! বেহেয়ার ডাল সংগ্রহ করে বেড়া দেয়া হলো। গরু বা বকরি আর রসুন গাছ খেতে পারে না।
গাছ বড় হচ্ছে। খাঁ খাঁ রোদ। দিনের কিছু সময় ছায়া দরকার। কদম গাছ লাগিয়ে দেয়া হলো। কদম গাছের মূল কারিগর রকি। যৌথ খামার ২/৩ বছর টিকে থাকে। স্কুল পাশ দিয়ে ঢাকা চলে যাই। রসারেমার অকাল প্রয়াণ ঘটে।
আজ ওদিকটায় গিয়ে নজরে পড়লো। রসারেমা যৌথ খামার নেই। একটা কদম গাছ মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। খাঁ খাঁ রোদের দিনে অনেকে নিচে এসে দাড়ায়। বর্ষায় কদম ফুল ফুটলে অনেকে হয়ত প্রেয়সীকে উপহার দিবে বলে দুহাত ভরে নিয়ে যায়।
মনে পড়লো, এ আমাদের রোপন করা। এ কদম গাছ আমাদের শৈশবের চিহ্ন। এ কদম গাছ আমাদের খুব আপন।
২৪ মার্চ ২০২৬
রহমতনগর ডিজেল শপ, পার্বতীপুর