ফ্যাঁকড়া এটিএম কার্ড নিয়ে।
এর আগে বিকাশ নিয়ে বিপাকে ছিলাম। একাঊন্ট আছে, যৎসামান্য টাকা আছে, কিন্তু আমি যে আমি, সেটা নিয়ে সন্দেহে ভুগেছে বিকাশ। আমার এনআইডি, আমার আঙ্গুলের ছাপ সব মিছে হয়ে যায়। সে গল্প বছর দশেক আগের। এখন নিয়মিত বিকাশ ব্যবহার করি। বিকশিত হই।
গত বছরের কথা। রাজধানীতে নিজে শিফট হওয়ার সাথে রংপুর থেকে ব্যাংক একাউন্টও ট্রান্সফার করতে চাইলাম। একটা সরকারি ব্যাংকে আমার একাউন্ট। চেক বই, এটিএম কার্ড সংগ্রহ ইত্যাদি কাজে রংপুরে যাওয়া ঠেকাতে এই চিন্তা। রংপুরে একাউন্ট ক্লোজ করে ঢাকার ব্যাংকে শুনি নতুন করে একাউন্ট খুলতে হবে। আচ্ছা হোক, একাউন্ট খুললাম।
এটিএম কার্ড পেতে মাস দুয়েক লাগবে।
কী আর করা। ধৈর্য ধরলে মেওয়া ফলে। ধরলাম।
এই সময় চেক দিয়ে কাজ সারি।মাস তিনেক পরে গেলাম। কার্ড আসে নি। পরের মাসে গেলাম। কার্ডের খোঁজ খবর নাই।
ততদিনে ৫ মাসে পড়ছে। আবার গেলাম। না, কোন আপডেট নাই। কার্ড ডিল করেন একজন মহিলা অফিসার।উনাকে জিজ্ঞেস করি, আপনার কাছে কি আপডেট আছে? হেড অফিসে যোগাযোগ করেন। যেখান থেকে কার্ড ইস্যু হয়।
উনার এক কথা। অপেক্ষা করেন। কার্ড এলে পাবেন।
একটু কার্ড ডিভিশনে আলাপ করেন। আমি বলি।
বললেন, উনার কাছে কার্ড ডিভিশনের নাম্বার নাই।
৫ মাস ধরে অপেক্ষা করছি। বিরক্ত লাগছিলো। এখন রীতিমত অবাক হতে হচ্ছে।
আমি তাহলে ম্যানেজারের সাথে আলাপ করি। সেটাতেও তিনি গররাজি। উনি এক কথার মানুষ। কার্ড এলে পেয়ে যাবেন।
'কেউ কথা রাখেনি'র নাদের আলীর কথা মনে আসলো। ৫ মাসেই আমার দফা একদম রফা হওয়ার যোগাড়। আর নাদের আলী ৩৩ বছর ধরে অপেক্ষা করেছে। নাদের আলী অপেক্ষার দীর্ঘ মেয়াদি রোগী। অপেক্ষা রোগ মস্ত খারাপ। আহারে। নাদের আলীর দুঃখের কাছে আমারটা কিছুই না।
এই পর্যায়ে এসে কার্ড অফিসার বললেন, আপনি আবার কার্ডের জন্য আবেদন করেন। পাশে বসা অন্য একজন বললেন, দরকার নেই। কার কথা ধরি, আর কার কথা ফেলি। দিশেহারা লাগে।
কার্ড অফিসারের আপত্তির মুখেও ম্যানেজারের রুমে ঢুকি। আমার অভিযোগ শুনে তিনি একটু হতাশ হলেন। উনাদের ব্যাংকের পারফর্মেন্স খুব ভালো। অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আর আমি কী না অভিযোগ দিচ্ছি।
পরে উনার ডেপুটিকে ডাকলেন। ডেপুটি কথা দিলেন, ১ সপ্তাহের মাঝে কার্ড আমার হাতে তুলে দেবেন। যাক এইবার কার্ড মনে হয় মোগলের হাতে পড়বে। ঘটলো তাই। ১ সপ্তাহের মধ্যে কার্ড হাতে পেলাম। কার্ড নয়, যেন হাতে পেলাম পূর্নিমার চাঁদ।
বুথে গেলাম। কার্ড কাজ করে না। বুথের গার্ড বললেন, নেটওয়ার্কের সমস্যা হতে পারে। আরও একদিন গেলাম। রেজাল্ট একই।
এর মাঝে অনেক বার সূর্য পুর্ব দিকে উঠেছে, পশ্চিমে ডুবেছে। আবার ব্যাংকে গেলাম। শুরুতে নতুন পিন দিলেন। বুথে চেষ্টা করলাম। না, কোন কাজ হয় না।
ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করায় একাউনট চেক করলেন। এতদিনেও কার্ড একটিভ করা হয়নি। গাছে কাঁঠালই ধরে নি, আর আমি গোঁফে তেল মাখছি অবস্থা। একটিভ করে দিলেন।
বুথে টাকা তুলছি। আরও কিছু তুলতে হবে। পিন দিচ্ছি। ভুল দেখাচ্ছে। হয়ত ভুল বাটনে চাপ পড়েছে। আবার পিন দিলাম। আবারও একই কথা বলছে।
আমার মাথায় খেলে না। মাত্রই টাকা তুললাম। সেই পিন ভুল দেখাচ্ছে। এইটা কোন কথা হল। আবারও পিন দিলাম। পরপর ৩ বার ভুল পিন দিয়েছি। কার্ডকে এরেস্ট করে জেল খানায় নেয়া হল। বহুত কষ্টের কার্ড ভিতরে আটকা পড়ে থাকলো।
ব্যাংকের ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে খেয়াল করি।ঐ সময়ে মোবাইলে নতুন পিন এসেছে। তার মানে আগের টা বাতিল।
কার্ড অফিসারের কাছে গেলাম। তিনি জানালেন, সম্ভবত সিস্টেমে কোন ঝামেলা হইছে। পিন দুইবার চলে গেছে।
শখের কার্ড বুথের জেলখানায় ফেলে আসলাম। আগামী রোব/সোমবার কার্ড ফিরে পাবো আশা করি।