খড়কুটোতে তৈরি করা বিহঙ্গের নীড়ে
পাখির ছানা যেমন করে মাথা উচিয়ে
তার জননীর আগমনে আনন্দ চিত্তে
উভয় ঠোঁটেকে বের করে দেয় খুদা মিটাতে।
তেমনি আমার প্রেম আকাঙ্ক্ষা কন্যাকে দেখে
তার সৌন্দর্যের রূপের মায়ায় বিমুগ্ধ হয়ে
আমার দেহের পঞ্চ তন্ত্রের প্রতিটি দিয়ে
সূর্যের মতো বেরুচ্ছিলো সব বাঁধা ভেঙে।
এই আলোটা যখন পরলো তার নয়নদ্বয়ে
দিক নির্দেশক যন্ত্রে থাকা কাঁটার মতোনে
দক্ষিণ মেরু থেকে ঘুরে উত্তর মেরুতে
সে অবস্থান নিলো তখন হেয়ালি করে।
আমার সাথে চোখাচোখি হতে না হতে
চোখ ফিরিয়ে থাকলো চেয়ে দিগন্ত পানে
মনে মনে গুনগুনিয়ে কি যেনো ঠোঁটে
আপন মনে বলতে ছিলো শব্দ বিহনে।
আমি দূরে ঠায় দাড়িয়ে দেবী মূর্তিকে
দু চোখ ভরে দেখতে ছিলাম পরম তৃপ্তিতে
দুধে আলতা গায়ের বরণ, কালো আঁখিতে
স্বর্গ সুখের নহর গেছে দুকূল উপচিয়ে।
তার কপালের ভ্রুদ্বয়ের কেন্দ্র বিন্দুতে
যেনো ভবের সব সৌন্দর্য সব আলো নিয়ে
ছোট্ট একটি বৃত্তের মাঝে টিপের আকারে
জড়ো হয়ে জাগাচ্ছিলো কাম বাসনাকে।
অধোর কোণে ছোট তিলের রূপের বাহারে
তার সুন্দর্যের মাত্রা যেন আরও বাড়িয়ে
মিষ্টি মধুর হাসি দেখে কোমল অধরে
হৃদয় আমার ভেসেছিলো অজানা সুখে।
তার শরীরের খাঁজে খাঁজে রূপের নির্যাসে
চাচ্ছিলো তো হৃদয় আমার ভিজতে আনমনে
লতা যেমন জড়ায়ে রাখে মহীরুহকে
তেমনি হৃদয় চেয়েছিল তাকে জড়াতে।
পাখির গানে মুগ্ধ মনে চেয়ে আকাশে
সূর্য মামার অস্তকালের এই না সময়ে
এতো সুন্দর কন্যা দেখে সাঁঝের আলোতে
মনের ভিতর প্রেমের তরী চলছিলো বেগে।
গগন নীলে মেঘের সাথে দু ডানা মেলে
পাখি যেমন উড়ে চলে মুক্ত বাতাসে
তাকে দেখে আমার হৃদের প্রতি শিরাতে
তেমনি যেন ডানা মেলে উড়ছে স্বপনে।
হৃদয় তখন মজে ছিলো কন্যার রূপেতে
তার সুবাসে মুগ্ধ ছিলাম আমার আমিতে
চার পাশেতে যা ছিলো যে দেখার সীমাতে
তার প্রভাবে ভালোলাগা পেয়েছি খুঁজে।
হাসনাহেনা ফুলে যেমন রাতের গভীরে
তার সুরভি দেয় ছড়িয়ে একলা নিরবে
প্রিয়ার দেহের মিষ্টি সুবাস আমায় তেমনে
মুগ্ধ করে তুলেছিল অতি যতনে।
19
View