হাসনাহেনা ফুলে যেমন রাতের গভীরে
তার সুরভি দেয় ছড়িয়ে একলা নিরবে
প্রিয়ার দেহের মিষ্টি সুবাস আমায় তেমনে
মুগ্ধ করে তুলেছিল অতি যতনে।
ষোড়শ দেহের ভরাট আভা আমার অন্তরে
মাদকতার সুর তুলেছে অতি গোপনে
মুখে আমি বলবো কি আর দেখে কন্যাকে
মায়ার নেশায় বুঁদ হয়েছি রূপের সুরাতে।
কিন্তু স্বর্গের রূপের দেবী অজানা ভয়ে
আমার চোখের নীরব ভাষা অস্বীকার করে
আমার মনের আকাঙ্ক্ষাকে উড়িয়ে দিয়ে
তাকাচ্ছিলো নীল নীলিমায় উদাসীন ভাবে।
দূর দিগন্তে শুভ্র মেঘের অজস্র পালে
পাতার ফাঁকে গাছের ডালের বিহঙ্গ মাঝে
ফুলের বাগে ফুটতে থাকা ফুটন্ত ফুলে
আমায় ছাড়া মনযোগ তার ছিলো এসবে।
আমিও তার মনযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে
ঢুকার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম জোরে
ডেকে বললাম হে প্রকৃতি; বলছি তোমাকে
তার মনযোগ দাও ফিরিয়ে এই আমার দিকে।
গাছকে বললাম, ফুলকে বললাম, বললাম পাখিকে
নদীর জলকে বললাম আমি অনুরোধ করে
তোমরা সবাই মিলে আমার পরাণ প্রিয়াকে
প্রেম আসনে দাও বসিয়ে পূর্ণ সম্মানে।
আকাশ পানে চেয়ে বললাম মেঘের ভেলাকে
কোথায় তুমি যাচ্ছো ভেসে কথা না শুনে
যেয়ো যেথা যাবে তুমি কিন্তু তার আগে
আমার প্রেমের বার্তা দিয়ে; যাও কন্যার কানে।
ফুলকে বললাম তুমি ভবে তোমার সৌন্দর্যে
রাখছো করে বিমোহিত সব প্রেমিকাকে
তোমায় সবাই প্রেমের ক্ষেত্রে সূচনা লগ্নে
দেয় উপহার প্রেমের পথকে প্রশস্ত করতে।
তোমায় বলি আমি বিশেষ অনুরোধ করে
তোমার সামনে যে রয়েছে এখন দাঁড়িয়ে
সে রূপসী কন্যার মনে তোমার সুবাসে
মন ভরিয়ে; আমার প্রেমের পরশ দাও তাকে।
বিহঙ্গকে ডেকে বললাম বিনম্র স্বরে
তুমি উড়ছো সাথী নিয়ে মুক্ত আকাশে
আমি দেখো সাথী ছাড়া মন মরা হয়ে
কাটছে সময় যৌবন কালের একা নিবৃত্তে।
তুমি যদি সাহায্য করো একটু আমাকে
তবে আমি কন্যা কুলের সেরা কন্যাকে
পাবো আমি প্রেমের নদীর ভরা যৌবনে
আমার চলার জীবন তরীর সঙ্গিনী রূপে।
রবের কাছে দুহাত বেঁধে মোনাজাত তুলে
উচ্চ কন্ঠে বললাম তাকে ফরিয়াদ করে
হে জগতের পালন কর্তা উভয় জাহানে
তুমি হলে আমাদের সব সহায় মুশকিলে।
23
View