Posts

কবিতা

প্রেম তরঙ্গ (মহাকাব্য) ২য় সর্গ, পর্ব - ৭

April 1, 2026

অকৈতব

21
View

রবের কাছে দুহাত বেঁধে মোনাজাত তুলে
উচ্চ কন্ঠে বললাম তাকে ফরিয়াদ করে
হে জগতের পালন কর্তা উভয় জাহানে
তুমি হলে আমাদের সব সহায় মুশকিলে।
তুমি ছাড়া জোড়া সৃষ্টি হয় না জগতে
তোমার নখের ইশারাতে মুহূর্তের মধ্যে
চেনা ছাড়া জানা ছাড়া যে কোনো মনে
প্রেমের জোয়ার আসতে পারে প্রখর প্রতাপে।
তুমি খোদা একবার শুধু আমার ব্যপারে
এই সুন্দরী ষোড়শ কন্যার মনের ভিতরে
অনুরাগের অনুভূতির তীব্র জোয়ারকে
দাও বাড়িয়ে জীবন নদীর উভয় কূল জুড়ে।
খোদার কাছে আমার মনের প্রার্থনা শুনে
দেখি কন্যা মুচকি হাসে চেয়ে আড় চোখে
চোখের তারায় দেখি আঁকা স্বপ্নের তুলিতে
প্রেমের ছবি উঠছে ফুটে স্পষ্ট হয়ে।
কি যে সুন্দর হাসি কন্যার কি বলবো মুখে
পরাণ আমার তৃপ্ত হলো সেই হাসি দেখে
আলতো সিক্ত অধর দ্বয়ের গোলাপি রঙে
মিশে আমার সবটুকু প্রেম রক্তিম হয়েছে।
এর ভিতরে কোথা থেকে সামনের পথ দিয়ে
তার দুজনা বন্ধু এলো হাস্য বদনে
তিন জনাতে মিলে যেনো আরো জৌলুসে
সুন্দর আরও গাঢ় হলো প্রকৃতির মাঝে।
তাদের হাসির মিষ্টি শব্দ সীমা পেরিয়ে
আকাশ বাতাস সব ছাপিয়ে অন্তরের মর্মে
স্বর্গ লোকের ছায়ার আভাস অলৌকিক ভাবে
সুখের ছবি আঁকতে ছিলো নিবিড় তন্ময়ে।
দেখলাম আমি কন্যা যেনো চোখের ইঙ্গিতে
দৃষ্টি দিতে বললো তাদের আমার সমীপে
ফিসফিসিয়ে কি যেনো কি কৌতুহল নিয়ে
বলতে ছিলো আশ্চর্য এক সুন্দর ভঙ্গিতে।
শুল্কপক্ষের একাদশী পূর্ণিমা রাতে
যেমন করে চন্দ্র উঠে রাতের আকাশে
তেমনি যেনো কন্যার পুরো অবয়ব জুড়ে
তার অধরের জোসনার ধারা পড়ছিলো ঝড়ে।
একটু পরে রূপের পসরা তারা সাজিয়ে
আমায় গেলো পাশ কাটিয়ে সামনের দিক দিয়ে
তখন তাদের শরীর থেকে আমার নাকেতে
খেলে গেলো ফুলের সুবাস মিষ্টি আমেজে।
আমি ছিলাম তখন অবদি স্থির দৃষ্টিতে
আমার মনের অনুরাগের আসনে বসে
হৃদয় নদে প্রেমের বাতাস যে বয়ে দিছে
সেই সুন্দরী রাজ ললনার নয়নে চেয়ে।
ধীরে ধীরে আমার দৃষ্টির সীমানা হতে
তারা তিন জন চলে গেলো একদম আড়ালে
কালো আধার যেনো তখন দুনিয়ার মঞ্চে
যবনিকা টেনে দিলো রাতের চাদরে।

Comments

    Please login to post comment. Login