মনে মনে বুঝতে পারলাম মনের ভিতরে
শক্তিশালী একটা চিন্তার উদ্রেক হয়েছে
আমার এখন বাঁচা মরা সম্পূর্ণ রূপে
এই সুন্দরী কন্যার উপর বর্তে গিয়েছে।
তাকে পেলে বাঁচবো আমি, না হলে ভবে
কোমা রোগির মতো শুধু থাকবো শরীরে
এতো সুন্দর পৃথিবীর সব মায়া ত্যাগ করে
দেশান্তরী হয়ে ঘুরবো বনে বাদাড়ে।
সেদিন রাতে কিছুতেই আর চোখের পাতাতে
ঘুমের দেবী প্রসাদ নিয়ে সন্তুষ্ট চিত্তে
আকাশ থেকে ঘুমের রাজ্যে সওয়ার করাতে
নিয়ে যেতে আসছিলো না, স্বতঃস্ফূর্তে।
ডানে ঘুরি বামে ঘুরি, উপুড় চিত হয়ে
কোনো ভাবে আসছিলো না; ঘুম দুটি চোখে
বারেবারে ক্ষণে ক্ষণে মনের পাথারে
সেই ললনার সুন্দর মূর্তি বইছিলো ধেয়ে।
কি যে মায়া তার কপোলে ছিলো জড়িয়ে
সেই মায়াতে বিভোর হয়ে সবকিছু ভুলে
মনটা আমার তার ভাবোনার মিষ্টি আবেশে
খুইয়ে ছিলো স্বর্গ দেবীর রূপের সৌন্দর্যে।
তার কল্পনায় পুরো রাত্রি নির্ঘুম কাটিয়ে
ভবিষ্যতে তার মিলনের মিষ্টি স্বাদ নিয়ে
ভোরের বেলায় চোখের পাড়ায় ক্লান্ত শরীরে
ঘুমের পাখি যেই নেমেছে দুটি নয়নে।
এর ভিতরে ঘুমের ভিতর দেখি স্বপনে
আলতা রাঙা ভরাট পায়ে নূপুর লাগিয়ে
মধুর ধ্বনির ছন্দ তুলে দেবীর মতোনে
আসছে হেটে সেই ললনা নদীর ধার ধরে।
তার দর্শনে ফুল গুলো সব ফুটলো আনন্দে
পাখির নীড়ে গলা ছেড়ে গাইলো বিহঙ্গে
নদীর বুকে ঢেউ গুলো সব নতুন উৎসাহে
বইতে লাগলো এপাড়-ওপাড় দু-কুল উপচিয়ে।
নীল আকাশে ভেসে থাকা মেঘের ভেলাতে
কানাকানি পড়ে গেলো মূহুর্তের মধ্যে
বলছে তারা ফিসফিসিয়ে কোন্ আকর্ষণে
আসমানের ঐ সুন্দর তারা নামলো জমিনে।
সবুজ আরও সবুজ হলো তার ছোঁয়া পেয়ে
ডালে ডালে শান্ত হয়ে অতি উৎসাহে
তাকে দেখার জন্য সকল বিহঙ্গ কুলে
বসলো দ্রুত নয়ন মেলে ডানা গুটিয়ে।
প্রকৃতি সব পুতপবিত্র উপাদান নিয়ে
তার সৌন্দর্যের অভ্যর্থনায় পুষ্প ছড়িয়ে
কোমল তৃণের স্নিগ্ধ সবুজ গালিচা পেতে
অপেক্ষাতে ছিলো বোসে মুগ্ধ বিস্ময়ে।
দেবোকন্যা সকল কিছু উপেক্ষা করে
ডানে বায়ে কোনো দিকে নজর না দিয়ে
নদীর মতো ছন্দ তুলে পাতলা কোমরে
সোজাসুজি থামলো এসে আমার সম্মুখে।
16
View