Travel

আমার ও মোনালিসার মাঝে খড়ের গম্বুজ

April 13, 2026

200 views

'মোনালিসা আসলে নারী নয়'- এই ছবি নিয়ে সবচেয়ে বিতর্কিত আলাপ। আগে থেকে অনেক জনপ্রিয় ছিল বটে, ১৯১১ সালে চুরি হয়ে যাওয়ার পর দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ২ বছর পর মোনালিসা উদ্ধার হয়। এটি হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান চিত্রকর্ম।

লিউনার্দো দা ভিঞ্চি একজন ইতালীয়।ইতালির ফ্লোরেন্সে এটি আঁকা শুরু করেন, শেষ করেন ফ্রান্সে। ফ্রান্সের রাজা ফ্রান্সিস-১ এর নিমন্ত্রণে ফ্রান্সে গেলে সেটি ফ্রান্সের হাতে আসে। ফ্রান্সের কালচারাল ইকোনোমির Cultural Capital ধরা হয় মোনালিসাকে। ফি বছর প্যারিস ট্যুরিজম থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করে। এই আয়ের অন্যতম কারণ মোনালিসা।

২০১৯ সালে প্যারিস যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো। কিন্তু ল্যুভর মিউজিয়ামে যাওয়া হয়নি। এক সময় খেয়াল করি আমাদের বাস ল্যুভরের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। হাত ছোঁয়া দূরত্বে থেকেও মোনালিসাকে না দেখতে পারার খেদ ছিল। এই বার (মার্চ ২০২৬) সেই ভুল করি না। প্যারিসে নেমেই ছুটে যাই ল্যুভরে। ভাগ্যের দেবীও প্রসন্ন ছিলেন। মিউজিয়াম গেটে টিকেট কেটে ভিতরে প্রবেশ করি।

ল্যুভরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত মিউজিয়াম মনে করা হয়। এর অন্যতম কারণ মোনালিসা। ভিতরে ঢুকে বুঝতে পারি, শুধু মোনালিসা নয়, অসংখ্য বিখ্যাত চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, ইত্যাদিতে টইটুম্বর এটি।

আমার ও মোনালিসার মাঝে খড়ের গম্বুজ

ঘুরতে ঘুরতে এক সময় সেই কাংখিত রুম ৭১১ তে চলে আসি। মানুষে গিজগিজ করছে। ফাঁকা হবে এমন সম্ভাবনাও দেখি না। সেলফি স্টিক দিয়ে মোনালিসার ছবি তুলতে যাই। নিরাপত্তা কর্মী মনে করিয়ে দেয়, সেটা করা যাবে না। বুলেট প্রুফ গ্লাসের ভিতরে রাখা মোনালিসা। মোবাইলে ছবি তুলি, ভিডিও করি। কিন্তু পিছনে মোনালিসা মিটিমিটি হাসছে, দাঁত কেলিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আমি। এমন একটা ছবি না থাকলে কি হয়! মনিরের কাছে মোবাইল দিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। কিন্তু কোনভাবে একটা যুতসই ছবি নেয়া যাচ্ছে না।

ছোটবেলায় খড়ের গম্বুজের চারদিকে লুকোচুরি খেলতাম। অনেক সময় ভিতরে ঢুকে যেতাম। তখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। ল্যুভর মিউজিয়ামে মোনালিসার সামনে আখাম্বা খড়ের গম্বুজ।এ দেশে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা একজনকে লম্বায় খাটো বলতে পারবেন না। কিন্তু আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব তা বলে না। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির আমি ছবি তোলার জন্য দাঁড়িয়েছি, সামনে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির মেয়েরা মোনালিসাকে বেড়ি দিয়ে রেখেছে। এর উপর মাথার উপর খড় রঙ্গের চুল খড়ের গম্বুজের মত মোনালিসা দেখার পথ আটকে রেখেছে। প্লাস দর্শকের চাপে ঠায় দাঁড়ানো মুশকিল।

অনেক কসরত করে মনির ছবি এক খান তুললো। সে ছবিতেও খড়ের গম্বুজের উপস্থিতি দেদীপ্যমান। মনিরকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি দাড়াও। তোমারও এক খান তুলে দেই। সে এতক্ষণ পরিস্থিতি দেখেছে। ওঁর আকেলমন্দ ভালো। বলল, দরকার নাই।

এরপর দুজন মিলে অন্য দিকে হাটা ধরি।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login