Posts

প্রবন্ধ

প্রোপাগাণ্ডার ইতিহাস

April 19, 2026

আযাহা সুলতান

Original Author আযাহা সুলতান

Translated by English

61
View

“ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল হবে আমার কবরস্থান 

তোমাদের চোখে পড়ছি দেশের মৃত্যুর সংবাদ”

সেদিন ফেসবুকে দেখলাম এক ভদ্রলোক পাকিস্তানের গুণগান গাইতে গিয়ে কয়েক পৃষ্ঠার নিবন্ধন লিখে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ ও একাত্তরের চৌদ্দগুষ্টি একেবারে উদ্ধার করে ছেড়েছে। জুলাইয়ের দরদে বায়ান্নের কয়জন শহিদদেরও জনমকুণ্ডলী উদ্ধার করতে বাকি রাখেননি! ভদ্রলোক জানেও না বোধহয়, কোনো মিছিলে বা সংগ্রামে গুলি চললে হোক দোকানি কিবা শিশু অথবা পথচারী; অনেক নিরীহ লোকও মারা যায় এবং যেতে পারে। সকলেও যে মিছিল ও সংগ্রাম করে মরতে হবে এমনও না। জুলাইয়ের কাছে যেন বায়ান্ন-একাত্তর কিছুই না। জুলাই যেন গুটিকয়েক জুলাইয়ির বাপ-দাদাদের কেনা পৈত্রিক সম্পত্তি! দেখলাম, ভদ্রলোক এতটাই ভারত ও মুজিব বিদ্বেষী যে, এই বিদ্বেষের রোষানলের দগ্ধ থেকে বায়ান্ন-একাত্তরও রেহাই পাচ্ছে না! এমনই জুলাইপ্রেমিক তারা! জুলাই অর্জন যেন তাদের কাছে বিশ্বজয়ের খেতাব!

তার ক্ষমতা নেই, থাকলে বোধহয় সরাসরি দেশকে আবার পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয়! এই ক্ষোভে মনে হয় ভদ্রলোকের মনে একটুও শান্তি নেই! চুয়ান্ন বছর নির্ঘুমে জীবন কাটছে! “হায় এ কী হলো” “হায় এ কী হলো” স্বাধীনতার শোকে দুঃখের সীমা নেই! নানান সময় দেখি অখাদ্য নানান বিকৃত ইতিহাস নিয়ে হাজির হয়। তার ইঙ্গিতের ভাষ্যমতে, বায়ান্ন-একাত্তর যেন খাস শেখ মুজিবের কেনা সম্পত্তি! এটি বর্জন করা শুভবুদ্ধি! নয় তো জাতি ভুল ইতিহাস চর্চা করবে! আওয়ামী লীগ হয়ে যেতে পারে! আওয়ামী লীগ হলে জান্নাত নাও পেতে পারে! অপরের জান্নাতের জন্যও আবার তাদের একটু বেশি চিন্তা। ওখানেও গোঁড়া দলের ফাঁদ পাততে হবে।

বোকাদেরকে তেনি এমন ট্যাবলেট গিলাচ্ছেন, বোকারা মনে করছে এনি সাক্ষাত ইতিহাসের পির। যাক গে সেকথা। এই লোক কে, কোথাকার, পাকিস্তানপ্রীতির হোক বা আফগানপ্রীতির—আমার কেন, কারও শিরপীড়া বা দুঃখ নেই। তার বিদ্বেষে মুজিবেরও কিচ্ছু যায়-আসবে না এবং ভারতেরও কিচ্ছু যায়-আসবে না। তবে অনেকের দুঃখ আছে তার মুরিদদের জন্যে—পোস্টের লাইক, লাভ-ইমোজি, কমেন্ট ও শেয়ারের সয়লাব এবং আজগবি মন্তব্যে তাকে পিঠ থাপড়ে বাহবা দিতে দেখে! এরা কারা? কোন দেশের নাগরিক এরা? এদের ব্যাপারে আমাদের সুশীলসমাজ নীরব কেন? সাংবাদিক ও কবিসাহিত্যিকগণ দুয়েক কলম লিখে না কেন? এই দেশদ্রোহিতার কর্মকাণ্ড পৃথিবীর আর কোথাও চলতে পারে কি? এরাই কি সে পূর্বপুরুষদের রক্তের স্রোতে সাঁতারে পাওয়া করুণডাঙার স্বাধীন জাতি? এরাই কি তবে সে সম্ভ্রমহারা দুখিনী বঙ্গমাতার সন্তান?

ভাবতে অবাক লাগে! মানুষ অজ্ঞ ও অকৃতজ্ঞ হয় দেখেছি তবে এদেশের মানুষের মতো অজ্ঞ ও অকৃতজ্ঞকারী পৃথিবীর অন্যদেশে নেই বললেই চলে। এমন বিরল জাতির যদি পৃথিবীতে কোনো একদিন পুরস্কৃত করা হয়, তা হলে নিশ্চিত আমরাই প্রথমস্থান অধিকারী! বিশ্বের যে-কোনো দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশের জন্যে যে-কারও সামান্য থেকে সামান্যতম অবদান থাকলে তাকে মাথায় তুলে রাখে। আর এদেশ কারও আকাশছোঁয়া অবদান থাকলেও স্বীকার করবে দূরে থাক, তাকে জুতাপিটা ও জুতার মালা পরাতেও দ্বিধা করবে না! মানুষ হিসাবে ভুল করলে কবর থেকেও তুলে এনে পোড়াতে সঙ্কোচ করবে না! দুঃখ এখানে। এই জাতির মনমানসিকতার উন্নতি কবে?

ভদ্রলোক লিখেছেন, ভাষাশহিদেরা অনেকেই পথচারী ছিলেন এবং সরাসরি মুখ ফুটে বলতে পারছে না, বায়ান্ন-একাত্তরের সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ জাতির ভুল ছিল! আমাদেরকে এখন পাকিস্তানের কাছে মাফ চাওয়া উচিত। নিবন্ধে শুধু এইটুকুই সরাসরি বলার বাকি রেখেছে মাত্র। ঘুরেফিরে বলতে চাচ্ছে—সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, মশিউর প্রমুখ তাঁরা কেউই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাননি এবং ভাষার জন্য প্রাণও দেননি! উর্দু এশিয়ার প্রাচীনতম সাহিত্যের ভাষা ছিল। একেবারে মাধুর্যমণ্ডিত একটি ভাষা। হিন্দিরা এই ভাষাকে লুঠ করে—একটু এদিক-ওদিক পরিবর্তন করে আস্ত একটা ভাষা দাঁড় করে ফেলল, যা আজকের ‘হিন্দি’ নামে পরিচিত। মানলাম হিন্দি-উর্দু অনেকটা না, প্রায়ই মিল। তবে এদিক-ওদিক পরিবর্তন করে, লুঠ করে—একান্ত তাদের নামে চালাতে হবে কেন? সরাসরি উর্দু রেখে দিলেই বা উর্দুতে কথা বললেই তাদের আটকাত কে? এখনো তো দেখা যাচ্ছে ইন্ডিয়াতে উর্দু চলছে এবং হাজারের ওপরে ভাষাবাসী আছে, যা পৃথিবীতে বিরল।

ভদ্রলোক এটাও বোধহয় জানেন না, উর্দু মূলত উত্তর ভারতের দিল্লি ও তার আশেপাশের অঞ্চলে প্রচলিত খাড়িবোলি (কযধৎর ইড়ষর) হিন্দুস্তানি ভাষা থেকে আগত, যা ফারসি, আরবি ও তুর্কি ভাষার সংমিশ্রণে বিকশিত হয়েছে। এটি ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একটি ভাষা। 'উর্দু' শব্দটি তুর্কি শব্দ 'অরদু' (ঙৎফঁ) থেকে এসেছে, যার অর্থ 'সেনাবাহিনী' বা 'শিবির' যার ব্যাকরণগত কাঠামো খাড়িবোলি ও শৌরাসেনী অপভ্রংশের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বারো-তেরোশ শতাব্দীতে ভারতে মুসলিম শাসনের সূচনালগ্নে ফার্সি ও আরবি শব্দের প্রভাবে এটি নতুন রূপ ধারণ করে। মুঘল আমলে এটি সেনা ছাউনি ও দরবারে ব্যবহৃত হতো। আমীর খসরু (১২৫৩-১৩২৫) খাড়িবোলি ও ফার্সির মিশ্রণে 'রিখতা' বা 'হিন্দভি' নামে কবিতা রচনা শুরু করেন, যা পরবর্তীকালে উর্দু সাহিত্যের রূপ নেয়। মূলত, স্থানীয় খাড়িবোলি ভাষা এবং আগত ফার্সি-আরবি সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হিসেবেই উর্দু সাহিত্যের জন্ম।

তার বিকৃত ইতিহাস দেখে তখন বুঝলাম ভদ্রলোক কট্টর ভারতবিদ্বেষী ও একান্ত পাকিস্তানপন্থী। কথা বিদ্বেষী বা পন্থীতে না। কথা হচ্ছে—অনেকটা আফসোসেও বটে। ভদ্রলোক নাকি আজকের কবি ও লেখকসমাজের একজন! তা হলে? মনেপ্রাণে বিকৃত ইতিহাস ধারণ করল কীভাবে? কোনো একটা রাজনৈতিক দলের ভালোবাসার প্রভাবে কি অন্য আরেকটা দল বা দেশকে এতটা ঘৃণা করতে হবে? সৃষ্টিশীলদের তো কোনো দেশ নেই, দল নেই, ধর্ম নেই। তা হলে? গবেষকেরা তো হিংসুক হয় না জানি এবং অকৃতজ্ঞকারীও নয়। তা হলে? এই ভদ্রলোক কেমন কবিসাহিত্যিক বা লেখক? হোকবা কেউ দোষী। দোষ কারও একার হতে পারে। গোটা দেশ বা জাতি অথবা গোটা দল বা পরিবারের তো হয় না। হয় কি? আমি তো সাধারণের থেকে একটু আলাদা। আবাল বাঙাল না। সাহিত্যমনা একজন। প্রগতিশীল মানুষের এমন আচরণ হওয়া কি ঠিক? এমন বিদ্বেষী মনোভাব হলে কেউ সৃষ্টিশীল বা গবেষক হতে পারে? আমার জানা নেই।

হাঁ, অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্য যে-কাউকেই করতে হবে। তাই বলে এক জনের অপরাধে দশ জনকে দোষী মানবো? এই কেমন বিচার? যুগের ইতিহাসকেও অস্বীকার করতে যাব? বিশেষ করে আজকের বাংলাদেশের ফেসবুক সাইড হলো যেন প্রোপাগাণ্ডার পরাধীন রাষ্ট্র ও যুদ্ধক্ষেত্র! অনেকটা আবর্জনার ডাস্টবিনও বটে! এখানের সেনাপতির আত্মা হলো বিদেশি মালিশ বিক্রেতা! সিপাহিরা হলো লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে দুর্গন্ধ ছড়ানোর প্রেতাত্মা! এই রাজ্যে আবার প্রধানমন্ত্রীও আছে, মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি বিভাগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও নিয়োগ দেওয়া আছে! তাদের আবার সংসদও আছে! সংসদে আবার বিলও পাস হয়, মিথ্যা ছড়িয়ে কারও জীবন নেওয়া ও চিরতরে মুছে দেওয়া! মুক্তিপণও চলে! বিনিময়ও হয়! গুজবও রটে! ধর্মেরও তেজারতি চলে! আবেগ ও বিবেকও বেচাবিক্রি হয়! এসব দেখে দেখে কেউ মনে মনে হাসে, কেউ মনে মনে জ্বলে, কেউ হতাশাগ্রস্ত হয়ে লজ্জায় মরে আর কেউ কেউ চোখ-কান খোলা রেখে বা বন্ধ করে গা বাঁচিয়ে হাঁটে! কেউ কেউ আবার অন্যায় দেখেও না দেখার ভানে নীরব থাকে!

এই রাজ্যের বাসিন্দারা যতই নির্মম ততই চতুর! তাদের যুদ্ধের হাতিয়ার হলো ধর্ম, ঢাল হলো পোশাক-আশাক! তারা নিজেও জানে না তারা কতটা হাস্যরসের বিনোদনদাতা। চালাকি যার ধরা যায় সে চতুর নয়, হাস্যকর। ধর্মের কার্যক্রম মসজিদ, মন্দির ও গির্জা-মঠে মানায়; রাজনীতির মাঠে চলে না। রাষ্ট্রকাঠামোতে ধর্মের বাণী বেমানান। যার যেখানে স্থান সেখানেই রাখতে হয়, সেভাবেই ব্যবহার করতে হয়। নইলে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি, ধর্মেরও ক্ষতি। ধর্মকে দিয়ে রাজনীতির ময়দানে ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা চলে না। ধর্ম কলুষিত হয়।

আজকের সংসদ যেন গরুছাগলের হাটবাজার! সাধুর লেবাসে পরিপূর্ণ সংসদ! খারাপ কী? কথায় কথায় রাজপথ! কথায় কথায় আন্দোলন! রাজপথ যেন ঘরের পথ আর আন্দোলন যেন পান্তাভাত। জুলাইয়ের ব্যবসায় যারা লাভবান তারা তো লাফালাফি করবেই। কারণ, তাদের তো আর কোনো পুঁজি নেই। নইলে স্বার্থের থলি পুরবে কীভাবে? জুলাইয়ের দোহাই তাদের মানায়।

এখানেও দুঃখ, কেউ ভুলেও জিজ্ঞেস করছে না—বাপু, জুলাই ধুয়ে কি জনগণ পানি খাবে? না সংবিধান ধুয়ে? একটি দেশের জনগণ কী চায়? জনগণের ভালো দিক কী? মৌলিক অধিকার কী? ভাত, কাপড়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান? এগুলোই তো একজন নাগরিকের মৌলিক চাহিদা? আর আইনকানুনের সুব্যবস্থাপনা। একটি রাষ্ট্রের মেইন ভিত্তি হলো আইনকানুন ও সুব্যবস্থা। বিশৃঙ্খলা আইনের কঠোর হাতে দমন করা অবশ্যক। না হলে একটি দেশ জঙ্গলে পরিপূর্ণ। দেশ কি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নয়? হামে শিশু মরছে! গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি নেই! যেখানে-সেখানে জ্বালাওপোড়াও! রাহাজানি! লুঠপাট! মারামারি! হত্যা! ধর্ষণ! গণধর্ষণ! কেন রে ভাই? দেশের এই সংকটকালেও তোমাদের জুলাই রাজনীতির গতি বেগবান কেন? কারও মুখে দেশের সংকট উত্তরণের কোনো কথা নেই? শুধুই জুলাই! জুলাই সনদ! সংবিধান! এগুলো কী রে ভাই? জুলাই কি কারও বাপ-দাদাদের একান্ত সম্পদ? নাকি সংবিধান? আর বাহাত্তরের সংবিধানে দেশের ক্ষতি কী? ছুড়ে ফেলতে হবে কেন? পোড়াতে হবে কেন? তুমি ও তোমরা কোন দেশের নাগরিক? এই দেশ তো পূর্বজনেরা চায়নি। না এমন প্রজন্ম চেয়েছিল তাঁরা? লজ্জা করো বন্ধুগণ। লজ্জা ইমানেরও ভূষণ। ভাত, কাপড়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান এবং আইনকানুন কোন সেক্টরে আজ ও আজও সমস্যা আর ঘাটতি নেই বলো?

ইউনুস সাহেব যখন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে এসেছেন, তখন অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলাম—ফেলেছিলেন। ফেলেননি কি? পাঁচ বছর থাকেন, দশ বছর থাকেন—এমনকি বাতাসেও বলেছিল! বলেনি? আমরা প্রায়জনে বলেছিলাম, দেশ এবার একজন যোগ্য মানুষকে খুঁজে পেয়েছে। সেই ক্রান্তিকাল থেকেই দেশের খুন-খারাবি ও দুর্যোগ-দুর্দিন চলছে তো চলছেই। দেশের সুখশান্তি ও সুশাসন অন্তত আমিও তো জন্ম থেকেই দেখিনি। এবার দেশ একজন মহৎ মানুষ পেয়েছে। এবার আমরা স্বর্গে বসবাস করব। জাহান্নাম তোমাকে—সালাম—লাল সালাম। দেশকে ইউরোপ-আমেরিকা বানাতে না পারলেও কমপক্ষে গ্লাফের সমতুল্য শান্তি ফিরে আসবে দেশে। মনে মনে কত বলেছি, জয় হোক আমাদের ইউনুস বদ্দার। আমরা জাহান্নাম থেকে কতই-না মুক্তি চেয়েছি, আমাদের স্বর্গদাতা এসে গেছে আর চিন্তা নেই। আমরা স্বপ্নবাজ জাতি। কাজকামের বালাই নেই। বাস্তবেও স্বপ্ন দেখি। অবাস্তবেও স্বপ্ন দেখি। দিনেও স্বপ্ন দেখি। রাতেও স্বপ্ন দেখি। কঠিনেও স্বপ্ন দেখি। সহজেও স্বপ্ন দেখি। মরেও স্বপ্ন দেখি। জিয়েও স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন শুধুই স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখে দেখে আমরা বড় হয়েছি। দুঃসময়েও সুসময়ের স্বপ্ন দেখি—দেখতেই থাকি। কখনো না কখনো তো স্বপ্ন সফল হবেই। হলেই তো! হয়ই কই?

তিনি করলেন কী, একটি জঘন্য দলকে প্রধান্য দিতে গিয়ে কিছু ছেলেবেলেকে শেল্টার দিলেন। দেশকে মগের মুল্লুগ বানালেন! আইনকানুনকে কবর দিলেন! অর্থনীতিকে রসাতলে পাঠালেন! জাহান্নাম কী, জাহান্নাম থেকেও বদ—দোজখে হাবিয়া প্রতিষ্ঠিত করলেন! আরে ভাই, দেশ চালানো ছেলেখেলা না; ছেলেদের কথায় চলতে হবে। এই চেয়ারও চিরস্থায়ী না—বুঝতে হবে। এখানে কুনাম কামানো যত সহজ, সুনাম অর্জন করা ততই কঠিন।

সিরাজুদৌলার ইতিহাসে মীরজাফরের ভূমিকার কথা সবারই জানা। তার পরিণতির কথাও কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু আমাদের এই বাংলার প্রকৃত ইতিহাস বোধহয় অনেকেরই অজানা? নইলে পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগের কথা ভুলি কীভাবে? এত এত সংগ্রাম এবং এত এত ত্যাগতিতিক্ষা। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খিস্টান, ধনী-গরিব—তৃণমূল থেকে উচ্চশ্রেণি পর্যন্ত এমন কোনো ঘরের লোক ছিল না, এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েননি এবং জড়িত হননি। তা হলে? আমাদের পরিণতি কেমন হতে পারে? প্রকৃতির হিসেব-নিকেশ বলেও তো একটা কথা আছে। সেই পরিণতির কথাও কোনো একদিন হতে পারে ইতিহাস। আর সেটা হতে পারে—প্রোপাগাণ্ডার ইতিহাস।

—আযাহা সুলতান

Comments

    Please login to post comment. Login