কয়েক দিন আগের কথা। পকেটে একজনের রেফারেন্স নিয়ে অন্য এক দপ্তরে গেছি। প্রয়োজন ব্যক্তিগত। দপ্তরের ২য় সর্বোচ্চ পদ ধারী সেই কর্তার সাথে দেখা হল। বসে আছি তাঁর রুমে। কিছুক্ষণের মধ্যে বুঝলাম রেফারেন্সের দরকার ছিল না। ওঁর কাছে আসা প্রত্যেকের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলছেন। অত্যন্ত মমতা দিয়ে কাজ করে দিচ্ছেন। আলাপে জানতে পারলাম, তিনি একজন প্রখ্যাত গবেষক। জাপান থেকে পিএইচডি করেছেন। বর্তমানে পোস্টডকও করছেন। একজন ব্যক্তি নিজের চাকরিকে রুটিন দায়িত্ব হিসেবে না নিয়ে যখন অসাধারণভাবে পারফর্ম করেন, সেটা পাদপ্রদীপের আলোয় আসা উচিৎ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা হয় না।
আমার কাজে কর্তা ব্যক্তি একজন স্টাফকে ডেকে পাঠালেন। তাঁর নাম সোহরাব। তিনি আসলেন প্রায় ৪০ মিনিট পরে। এ দেখে আত্মস্থ হলাম, বেশির ভাগ দপ্তরে একই অবস্থা। কর্তার মহৎ কর্মের ইচ্ছা মার খেয়ে যাচ্ছে। সব সময় কর্তার ইচ্ছায় কর্ম সম্পাদন হচ্ছে না। অবশেষে কাজ হবে আশ্বাস পাই। আমরা হাসিমুখে বের হই।

নিচে নামার জন্য লিফটে উঠি। ফকিরের ঘোড়ার প্রসঙ্গ আসে। রেসিং এ নামবে একজন। মোটা তাজা দেখে একটা ঘোড়া পছন্দ করেন। রেসিং শুরু হয়। সন্ধ্যা হয় হয়। সেই ঘোড়া ফিনিশিং লাইনে পৌঁছায়। মানুষ জিজ্ঞেস করে, এমন তাগড়া ঘোড়া নিয়েও আপনার সন্ধ্যা হয়ে গেলো! ভাই, এই ঘোড়া প্রতিটি বাড়িতে দাঁড়িয়ে যায়। কোনভাবে কন্ট্রোল করতে পারলাম না। এক লোক হাসতে হাসতে বলে, এই ঘোড়ার মালিক একজন ভিক্ষুক। প্রতিদিন ঘোড়া নিয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে।
লিফট বেশ পুরাতন। নামার সময় সব ফ্লোর ধরছে। লিফটের ভিতরে সবাই উশখুশ করছে। এই সময়ে একজন বলে, ফকিরের ঘোড়া দিয়ে রেসিং হয় না।