Story

খুনসুটির পাহাড় তুলি part 2

May 12, 2026

147 views

লেখক: মুহাম্মদ লিটন ইসলাম


শিলা সেমাই-মুড়ি চামচে করে নিয়ে তার আদুরে পিতৃব্য সন্তান আব্দুল কুদ্দুছ মিয়ার মুখে এগিয়ে দিল। তিনিও খুব আয়েশ করে খাচ্ছেন। পাশ থেকে বাকি তিনজন হাঁ করে তাকিয়ে আছে!

আম্মী এবার চপাট করে বলল,
— “ও মায়া, আমি কি তোমার সন্তান না? ওই বুইড়া বেডায় কি এল্লা এল্লা খাইবো?”

শিলা আম্মীর মুখেও সেমাই তুলে দিল।

সিসিটিভি ম্যান গোমরা মুখে বলল,
— “খাওয়াও! আরও খাওয়াও। আমরা তো বানের জলে ভাইসা আইছি! চল ভাইয়া, তুই আমারে খাওয়ায়ে দে, আমি তোরে দেই; হেতিরে দেইখা নিমু।”

শিলা এবার গাছের ডাল ভাঙার মতো মরমর শব্দে হেসে উঠেছে। আর বলছে,
— “ঘুড়ি তোমাদের হাতে থাকতে পারে, কিন্তু লাটাই তো আমার হস্তে।”

সবাই খাওয়া শেষ করে আপন ঘরে গেছে। শিলা থালা-বাসন পরিষ্কার করায় একটু লেটে ঘরে ঢুকেছে। বিশাল শিলাকে ঘরে ঢোকা মাত্রই দুয়ারের পাশে টেনে নিয়ে চেপে ধরেছে। এক হাত দিয়ে শিলার মুখ চেপে ধরেছে, আরেক হাত দিয়ে ঘরের দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়েছে। চোর রাতে চুরি করার সময় তার সঙ্গিনীর সাথে যেভাবে ফিসফিস করে কথা বলে, ঠিক সেভাবেই সে শিলাকে বলছে,
— “ওয়া আলাইকুমুস সালাম! ম্যাডাম, আমার সালামিটা দিন।”

শিলা তার দুই হাত দিয়ে এবার বিশালকে জাপটে ধরে, কানের কাছে মুখ ঘষে বলছে,
— “আগে তো সালামটা দিন ঠিকঠাক, তারপর না হয় সালামি!”

— “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, ওয়া মাগফিরাতুহু, ওয়া জান্নাতুহু, ওয়া... চুম্মাতি মিন্নি... এবার ঠিক আছে!”

দাঁত কেলিয়ে হাসতে শুরু করেছে বিশাল।

— “চুম্মাতি মিন্নি কী?”
— “আপনার মাথা!”
— “মানে?”
— “মানে কিচ্ছু না!”
— “বললেন কেন?”
— “এমনিই।”
— “এমনিই মানে?”
— “এমনিই।”
— “ঠিক আছে, ছাড়েন আমাকে। আমি আর আপনার সাথে নেই। একটা কথা ঠিকঠাকও বলে না। আমি সীমার কাছে যাই।”

— “আহারে বেখাস মহিলা! দেখো দেখি কাণ্ড! হাহা হা! সীমাকে বললে আপনার চৌদ্দটা বাজিয়ে দেবে।”

— “আসছে আমার মহাপুরুষ! ভীতুর মতো একখান শব্দের অর্থ বলতেও ডরাচ্ছে।”

— “শুনবেন?”
— “সাহস থাকলে বলেন!”
— “থাক না বলি, প্রাকটিক্যাল দেখিয়ে দিলে কেমন হয়?”
— “সালামে আবার প্রাকটিক্যাল কীভাবে হয়, শুনি?”
— “হয় কি না দেখতেই পাবেন! হয় ‘হ্যাঁ’, নয়তো ‘না’—উত্তর দিন?”
— “হ্যাঁ।”

শিলা ‘হ্যাঁ’ বলা মাত্রই বিশাল তার আঙুল শিলার কেশে প্রবেশ করিয়ে দিল। তালু দিয়ে শিলার কর্ণ ও নরম তুলতুলে গাল বরাবর আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে মাথাটা তার মুখের কাছে নিয়ে এসেছে। বিদ্যুতের গতিতে ডান গালে একটা চুমু দিল, কপালে একখান দিল, বাম গালে একখান। চুমু আর চুমু! এবং সর্বশেষ ওষ্ঠের মধ্যে একখান—প্রায় কুড়ি সেকেন্ড সময়।

এরপর বলল,
— “চুম্মাতি মিন্নি মানে, আমার নিকট থেকে চুমু নাও।”

— “যাহ্, দুষ্টু লোক!”

শিলার গালের ওপর ভাজ পড়েছে, একদম টোল। অপরূপ দৃশ্য! চোখের পলক ফেলা মানেই নিজেকে ধোঁকা দেওয়া।

বিশাল বলল,
— “এবার তো আমার সালামিটা দাও।”

— “কী দেব, বল তো?”
— “তোমার কাছে যা আছে, তাই।”

#খুনসুটির_পাহাড়_তুলি 

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login