ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রূপময় রাজ্য মেঘালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক হলো পাহাড়ি ময়না (Hill Myna)। মূলত এই পাখির চমৎকার কণ্ঠস্বর, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং মেঘালয়ের প্রকৃতির সাথে এর গভীর সংযোগের কারণেই একে রাজ্যের জাতীয় বা রাজ্য পাখি (State Bird) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মেঘালয়ের চিরহরিৎ ও আর্দ্র পাহাড়ি বনাঞ্চল ময়না পাখির বসবাসের জন্য অত্যন্ত আদর্শ জায়গা, যার ফলে প্রাকৃতিকভাবেই এই অঞ্চলে এদের আধিক্য দেখা যায়। ময়না পাখির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের কণ্ঠস্বর এবং চারপাশের নানা শব্দ হুবহু অনুকরণ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা, যা স্থানীয় মানুষের কাছে একে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে। এছাড়া মেঘালয়ের প্রধান আদিবাসী জনগোষ্ঠী—খাসি, জয়ন্তিয়া ও গারোদের লোকগাথা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে ময়না পাখি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তবে সময়ের সাথে সাথে নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস এবং অবৈধ পাচারের কারণে এই সুন্দর পাখিটি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। তাই ময়না পাখিকে রাজ্য পাখির মর্যাদা দেওয়ার পেছনে মেঘালয় সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল এর বাসস্থান রক্ষা করা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ময়না পাখির জীবনযাত্রা ও স্বভাব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি ময়না পাখির অজানা তথ্য এই লিঙ্কে ঘুরে আসতে পারেন। সংক্ষেপে বলা যায়, ময়না পাখি কেবল মেঘালয়ের জীববৈচিত্র্যের অংশ নয়, বরং এটি এই রাজ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিনিধি।