রাফি ছিল খুব শান্ত ও মেধাবী একটি ছেলে। স্কুলে ভালো ফলাফল করত, পরিবারের সবার সাথে সময় কাটাত এবং ছোট বোনকে খুব ভালোবাসত।
কিন্তু সবকিছু বদলাতে শুরু করে যখন তার বাবা তাকে একটি স্মার্টফোন কিনে দেন।
প্রথম কয়েকদিন রাফি শুধু পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করত। কিন্তু ধীরে ধীরে সে গেম, ভিডিও আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ে।
এখন সে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
খাওয়ার সময় ফোন।
পড়ার সময় ফোন।
এমনকি পরিবারের সাথে বসেও ফোন।
তার মা প্রায়ই বলতেন,
“বাবা, একটু ফোনটা রেখে আমাদের সাথেও কথা বলো।”
কিন্তু রাফি বিরক্ত হয়ে উত্তর দিত,
“আমি তো খারাপ কিছু করছি না!”
ধীরে ধীরে রাফির আচরণ বদলে যেতে থাকে। সে রাগী হয়ে যায়, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায় এবং পরিবারের সবার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে।
একদিন রাতে তার ছোট বোন জ্বরে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাফির মা বারবার তাকে ডাকছিলেন, কিন্তু সে তখন হেডফোন লাগিয়ে ফোনে ভিডিও দেখছিল।
হঠাৎ তার বাবার রাগী কণ্ঠ শুনে সে দৌড়ে আসে।
বোনকে কাঁপতে দেখে তার বুক কেঁপে ওঠে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার বলেন,
“সময়মতো না আনলে সমস্যা আরও বাড়তে পারত।”
সেদিন হাসপাতালের করিডোরে বসে রাফি নিজের ভুল বুঝতে পারে।
তার বাবা শান্তভাবে বললেন,
“প্রযুক্তি মানুষের উপকারের জন্য। কিন্তু যখন মানুষ প্রযুক্তির দাস হয়ে যায়, তখন সম্পর্ক, দায়িত্ব আর ভালোবাসা সবকিছু হারিয়ে যেতে শুরু করে।”
কথাগুলো রাফির মনে গভীরভাবে আঘাত করে।
পরের দিন থেকে সে নিজের জীবন বদলানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সে ফোন ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে।
পরিবারের সাথে বসে খাওয়া শুরু করে।
ছোট বোনকে পড়ায় সাহায্য করে।
বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলতে যায়।
পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ায়।
ধীরে ধীরে রাফির পরিবারে আবার আগের হাসি ও আনন্দ ফিরে আসে।
রাফি বুঝতে পারে—
মোবাইল খারাপ নয়,
কিন্তু অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে নিজের পরিবার, দায়িত্ব ও বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।