করিম একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিল। ছোট একটি দোকান চালিয়ে সে কোনোভাবে তার পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছিল।
তার স্ত্রী প্রায়ই বলতেন,
“অল্প আয় হলেও শান্তিতে তো আছি।”
কিন্তু করিমের মনে ধীরে ধীরে আরও বেশি টাকার লোভ জন্ম নিতে থাকে।
একদিন গ্রামের এক লোক তাকে বলল,
“একটা ব্যবসা আছে যেখানে খুব দ্রুত অনেক টাকা লাভ করা যায়।”
প্রথমে করিম রাজি হয়নি। কিন্তু বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন তাকে দুর্বল করে দেয়।
সে নিজের জমানো টাকা সেই ব্যবসায় বিনিয়োগ করে।
শুরুর দিকে সত্যিই কিছু লাভ হয়। এতে করিম আরও লোভী হয়ে ওঠে। সে দোকানের টাকাও সেখানে লাগিয়ে দেয়।
তার স্ত্রী অনেক বুঝিয়েছিলেন,
“ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সব টাকা দিও না।”
কিন্তু করিম কারও কথা শোনেনি।
কয়েক মাস পর হঠাৎ সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। যারা টাকা নিয়েছিল তারা পালিয়ে যায়।
এক মুহূর্তে করিম সব হারিয়ে ফেলে।
দোকানে আর মাল তুলতে পারে না।
ঋণদাতারা প্রতিদিন বাড়িতে আসতে থাকে।
পরিবারে অশান্তি শুরু হয়।
এক রাতে করিম চুপচাপ বসে ছিল। তার ছোট ছেলে এসে জিজ্ঞেস করল,
“আব্বু, তুমি এত চিন্তা করো কেন?”
ছেলের সরল কথায় করিমের চোখে পানি চলে আসে।
সে বুঝতে পারে—
অতিরিক্ত লোভ তাকে শান্ত জীবন থেকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।
পরের দিন সে আবার নতুনভাবে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ধীরে ধীরে সে নিজের পুরোনো দোকান চালু করে। কম লাভ হলেও সততার সাথে কাজ করতে থাকে।
অনেক কষ্টের পর তার পরিবারে আবার শান্তি ফিরে আসে।
করিম শিখেছিল—
পরিশ্রমের উপার্জনে হয়তো ধীরে সফলতা আসে,
কিন্তু লোভের শর্টকাট পথ মানুষকে শেষ পর্যন্ত বিপদের দিকেই নিয়ে যায়।