তার নাম দিলাম জ্ঞানী ব্যক্তি। যদিও এতে করে তার প্রতি একটু ব্যঙ্গ করা হয়ে যায়। উনি নিজেকে অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি মনে করেন। অন্য কারো কথায় পাত্তা দেননা।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এরকম জ্ঞানী ব্যক্তিরা মিথ্যা কথা প্রচার করে বেড়ায় আত্মবিশ্বাসের সাথে৷ কথা শুনলে মনেই হবেনা যে সে মিথ্যা বলছে।
এদের মনে ইসলাম সম্পর্কে এবং আলেম সম্পর্কে অনেক বিদ্বেষ। এদের আক্রমণ ইসলামের প্রতি। আবার মাঝে মাঝে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করলেও বলতে চায় যে, ইসলামের সাথে আলেমদের কোন সম্পর্ক নেই।
সেই জ্ঞানী ব্যক্তি, তিনি আমাকে বলতে লাগলেন যে, সাহাবী হযরত আলী রা: একদা খলিফা হযরত উমর রা: এর বোন এর সাথে মুতা বিবাহ করে রাত্রি যাপন করেন। (নাউজুবিল্লাহ)। এরপর যখন হযরত উমর রা: এর প্রশ্নের উত্তরে আলী রা: এ কথা বলেন তখন উমর রা: লজ্জিত হন। তিনি রেগে গিয়ে মুতা বিবাহ প্রথা বাতিল করেন।
আমি তার এমন দাবির পেছনে প্রমান বা রেফারেন্স চাইলাম। উনি সরাসরি রেফারেন্স দিতে পারলেন না। বললেন, হাদিসের বইতে পেয়েছেন। আমি তার কাছে ওই হাদিসের বইএর নাম জানতে চাইলেও তিনি তা বলতে পারলেন না।
যাইহোক, পরবর্তীতে এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি৷ আসলে ইসলামের ইতিহাসে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি৷ যারা সাহাবিদের উপর এমন উল্টাপাল্টা কথা চাপিয়ে দেয় তারা অবশ্যই সাহাবী বিদ্বেষী। আল্লাহই উনাদের এর প্রতিদান দিবেন৷
মুতা বিবাহ সম্পর্কে আমাদের সমাজেও অনেকের মাঝে ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন যে, এটি খায়বারের যুদ্ধের সময় অনুমোদিত ছিলো। এটি ভুল, আমার জানামতে।
এই ঘৃণ্য প্রথা ইসলামপূর্ব আরবে ছিলো, এটাই বাস্তব। ইসলাম আসার পর খায়বারের যুদ্ধের পর এটিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এটি কিছুতেই ইসলামের কোন অংশ ছিলোনা৷ হয়ত ইসলাম আসার পর এটিকে নিষিদ্ধ করতে সময় নেওয়া হয়েছে কিছুটা। মদকেও ইসলাম আসার পর নিষিদ্ধ করতে সময় নেওয়া হয়েছেন৷ আর সাহাবীরা মুতা বিবাহের মতো এমন ঘৃণ্য প্রথার অংশ হয়েছেন এমন কোন প্রমাণও পাওয়া যায়না।
'হাদিসের বইতে পেয়েছি' এমন দাবি করলেও যারা সিহাহ সিত্তাহ এর কথা বা নাম বলতে পারেনা তারাই সাহাবীদের উপর মিথ্যা আরোপ করে৷ ইসলাম বিদ্বেষ এরা লুকাতে চেয়েও পারেনা।
4
View