শোনো এই বাঁশিটি, কী কথা যে কহিতেছে, শোনো না,
বিচ্ছেদে বুক তার অনুক্ষণ দহিতেছে, শোনো না।
যেই দিন বাঁশঝাড় হতে তারে উপাড়িলে বেদনাতে,
কেঁদে কেঁদে সারা হলো নর-নারী দুনিয়ার এ ধরাতে।
খুঁজি আমি এমন এক ক্ষত-বিক্ষত বুক বিরহে,
বোঝাবো যে তারে আমি কতটা যে তীব্রতা এ দহে।

আপনার উৎসকে হারাল যে যেই দিন জীবনে,
ফেরার আকুলতায় দিন গোনে সে যে তার গোপনে।
সুখ আর দুঃখের যত মেলা বসে এই জগতে,
সবারই সাথী হয়ে কেঁদেছি যে আমি এই পথেতে।
সবাই বন্ধু হলো নিজেদের মতো করে গোপনে,
আমার ভেতরের আসল যে রহস্য কে চেনে?
সুর নয়, বাঁশি থেকে বের হওয়া এ যে এক আগুন,
যার বুকে নেই এটা তার বৃথা জীবনের ফাগুন।
প্রেমেরই আগুন ওটা বাঁশিতে যা ধিকধিক জ্বলছে,
প্রেমেরই তীব্রতা মদের সে পাত্রে টলছে।
বিরহী মানুষের বাঁশি হলো সবচেয়ে আপন,
ভেতরের পর্দাটা ছিঁড়ে দেয় এই সুর-কাঁপন।