গাবতলী গরুর হাট নিয়ে এতদিনের ফ্যান্টাসি,রোমান্টিসিজমের সমাপ্তি হয়েছে গতকাল।
বছর বছর কুরবানীর ঈদে গাবতলী হাটের গরু নিয়ে কত কত হিউমার গল্প লেখা হয়েছে। মজাদার ঈদ নাটক তৈরি হয়েছে। ওসব গল্প পড়ে, নাটক দেখে গাবতলী হাটের গরু নিয়ে একরকমের ফ্যান্টাসি তৈরি হয়েছিলো।
গতকাল সেসবের সমাধি হয়েছে।
চন্দ্রিমা মডেল টাউন হাট, জনতার বাজার-১ হাটে গরু পছন্দ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গাবতলী হাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৬ ভাগের গরু, ৭ জনের দল। হাটের আগে প্রচণ্ড জ্যাম। শেষে হাটার সিদ্ধান্ত হয়। সড়কে নাই হাটার জায়গা, ময়লা দুর্গন্ধ, কাদা পানি, পচা জল পেরিয়ে হাটে পৌছাই।
অনেক বড় হাট, শত শত গরু। থেকে থেকে গরু

ঢোকে, গরু বের হয়। খুব সতর্ক থাকা লাগে। কোন গরু লাথি মারে কি না, ঢিশ থেকে সেইফ দুরত্বে থাকা লাগে। অবশেষে গরু কেনা হলো। হাসিলে লম্বা লাইন। এক সময় সেটারও সুরাহা হয়।
গরু নিয়ে ফেরার সময় আরেক দফা আতঙ্ক। জ্যামের ভিতর দিয়ে বের হয়ে আসতে হয়। গাড়ি দেখে গরু ভয় পায়, সে দৌড় দেয়, সামনের পথচারি গুতা খাওয়ার ভয়ে ছুটে সরতে চায়। সে জায়গাও নাই।
গরু কিনে বাড়িতে নেয়া লোকজনও কম যায় না। রাস্তা ফাকা করার জন্য একটু পর পর আওয়াজ ছাড়ে ভাই, পাগলা গরু। এই আওয়াজ শুনে জনতাও হুড়মুড় করে দৌড় দেয়। দৌড় দিয়ে যাবে কোথায়! একজন আরেক জনের উপর উঠে প্রায়। এর মধ্যেও কেউ হয়ত বলছে, গরু পাগলা হোক, তোরা হইসনা! এসবই চলছিলো।
এর মাঝেও অনেক মহিলা, অনেক শিশু চলছে। এর মাঝে অটো, রিকশা, পিকআপের ছুটাছুটি। বড় ট্রাকের হুংকার। কার উপর কে গাড়ি তুলে দেয়। তবুও মানুষের মুখে অত কষ্ট নেই। অদৃষ্ট হিসেবে মেনে নিয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছে। হয়ত অভিযোগের পাহাড় জমেছে, কিন্তু শুনবে কে?
৬ ঘন্টার ম্যারাথন ছুটাছুটির পর বাসায় ফিরি রাত ১১:০০ টায়। ততক্ষণে স্যান্ডেল, প্যান্ট, গেন্জি কাদায় একাকার। পেটে ক্ষুধা থাকলেও ভরপেট অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি। কিছুদিন ভার্সিটির হলে থাকার পাশাপাশি জীবনে অন্তত একবার গাবতলী গরুর হাটে যাওয়া জরুরী। এতেই একটা পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা অন গরুর হাট হয়ে যাবে!!
সাথে বহু বছর ধরে টেলিভিশন নাটকের বরাতে দেখা গাবতলীর রোমান্টিক গরুর হাটেরও অপমৃত্যু ঘটিবে।