Essay

চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের গোরস্থানে

June 2, 2026

198 views

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ । মুন্সিপাড়া গোরস্থান। এটি রংপুরের সর্ব বৃহৎ গোরস্থান। এক বন্ধুর বাবার দাফনে শরীক হয়েছি।

এই গোরস্থানে আগেও কয়েকবার এসেছি। একবার একজনের কবরের নাম ফলক দেখে চমকে উঠেছিলাম। একই নামের নামফলক কেরানিপাড়ার এক বাড়ির গেটে প্রায়শই দেখি। বাড়ির গেটে থাকা কারও নামের ফলক গোরস্থানেও দেখবো, আশা করিনি। কিছুদিন আগে দেখলাম, সেই বাড়ি ভেঙ্গে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। সঙ্গত কারণে নামফলকটাও আর নেই।

বন্ধুর বাবার দাফন শেষ প্রায়। অপেক্ষা করছি। দোয়া হবে। পাশে একটা দুইটা করে কবরের ফলক দেখছি। এ সময়ে একটা ফলকে নজর গেলো। সেখানে একটা কবিতা লেখা।

'যাইনি পায়রাবন্দে, তবু বেগম রোকেয়ার

কবেকার শোকগ্রস্ত বাড়ির কংকাল, ভিটেমাটি

এবং সেখানকার ধূলিকণা,লতাগুল্ম আর

লাউয়ের মাচান, ধানক্ষেত, কুয়তোলা, ছেড়া-পাটি

বর্গাচাষী, বাল্যবিয়ে-পড়ানো মৌলোভী, ছমিরণ,

দিনভর খাটুনির ধকল-পোহানো কিশোরীর

খড়ের উপর মুখ- ইত্যাদি দেখছি, মোনাজাত,

তোমারই সৌজন্যে; সেই ঋণ স্বীকারে অকুণ্ঠ আমি।'

— শামসুর রাহমান

চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের কবর। ১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনা নদী। কালাসোনার ড্রেজিং পয়েন্টে দু’টি নৌকাডুবি হয়। সেই তথ্য অনুসন্ধান করতে যাওয়ার পথে রেলওয়ের ফেরির ছাদ থেকে পড়ে যান। তার এই অকাল মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে ওঠে পুরো বাংলাদেশ।

দেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান কবিতা লেখেন। সেই কবিতার অংশ বিশেষ পড়ে কেমন শিহরিত হলাম। মোনাজাত উদ্দিন এর অনেক নাম শুনেছি। উনার লেখা একটা বইও পড়েছি। কালেভদ্রে এমন গুণী মানুষের জন্ম হয়। বন্ধুর বাবার পাশাপাশি উনার জন্য দোয়া করি।

ফিরে আসার আগে কয়েকটা ছবি তুলি। হারিয়ে যাওয়ার আগে শেয়ার দিলাম।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login