অধ্যায় ১: বৃষ্টির রাত
বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল।
রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো অনেক আগেই ফাঁকা হয়ে গেছে। স্ট্রিট লাইটের হলুদ আলো বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর মধ্যে ঝাপসা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল।
মেহরিন ছাতাটা শক্ত করে ধরে দ্রুত হাঁটছিল।
আজ অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গেছে। ফোনের চার্জ শেষ। রিকশাও পাওয়া যাচ্ছে না।
হঠাৎ তার মনে হলো কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে।
সে পেছনে তাকালো।
কেউ নেই।
কিন্তু অদ্ভুত এক অনুভূতি তাকে ছাড়ছিল না।
সে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল।
ঠিক তখনই একটা কালো গাড়ি তার পাশে এসে থামল।
মেহরিন ভয় পেয়ে দুই কদম পিছিয়ে গেল।
গাড়ির কাচ ধীরে ধীরে নামল।
ভেতরে বসে থাকা লোকটাকে দেখে তার বুক ধক করে উঠল।
কালো শার্ট।
তীক্ষ্ণ চোয়াল।
অস্বাভাবিক শান্ত চোখ।
লোকটা শুধু বলল—
"গাড়িতে ওঠো।"
মেহরিন ভ্রু কুঁচকালো।
"মাফ করবেন?"
"আমি দ্বিতীয়বার বলি না।"
লোকটার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যা সাধারণ মানুষকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে।
কিন্তু মেহরিন সহজে ভয় পাওয়ার মেয়ে নয়।
"আপনি কে?"
লোকটা কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
"আরিয়ান রহমান।"
নামটা শুনে মেহরিনের মুখের রং পাল্টে গেল।
এই শহরে আরিয়ান রহমানকে না চেনে এমন মানুষ কম।
ধনী।
ক্ষমতাবান।
বিপজ্জনক।
এবং অসংখ্য গুজবের কেন্দ্র।
কেউ বলে সে ব্যবসায়ী।
কেউ বলে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অঘোষিত রাজা।
সত্যিটা কেউ জানে না।
"আমাকে কেন ডাকছেন?"
আরিয়ানের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল।
"কারণ তুমি বিপদে আছো।"
"মানে?"
"তোমার পেছনে যে লোকটা পাঁচ মিনিট ধরে হাঁটছে, সে তোমাকে অপহরণ করার জন্য টাকা পেয়েছে।"
মেহরিনের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
সে দ্রুত পেছনে তাকাল।
দূরে একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে ছিল।
বৃষ্টির মধ্যে অস্পষ্ট।
কিন্তু উপস্থিত।
"আপনি এসব জানলেন কীভাবে?"
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
শুধু গাড়ির দরজা খুলে দিল।
"উঠে পড়ো।"
কয়েক সেকেন্ড দ্বিধা করল মেহরিন।
তারপর গাড়িতে উঠে বসল।
কারণ কখনো কখনো অজানা বিপদের চেয়ে পরিচিত অন্ধকার নিরাপদ মনে হয়।
গাড়ি চলতে শুরু করল।
মেহরিন জানত না—
এই সিদ্ধান্ত তার জীবন চিরতরে বদলে দিতে যাচ্ছে।
আরিয়ান রহমান শুধু একজন মানুষ নয়।
সে এক অন্ধকার রহস্য।
আর সেই রহস্যের গভীরে লুকিয়ে আছে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং রক্তের গল্প।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো কাচ বেয়ে নিচে নামছিল।
আরিয়ান জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ সে বলল—
"তুমি কি ভাগ্যে বিশ্বাস করো, মেহরিন?"
মেহরিন অবাক হলো।
"আমার নাম জানেন কীভাবে?"
আরিয়ান এবার তার দিকে তাকাল।
তার চোখে এমন এক অদ্ভুত দৃষ্টি ছিল, যেন সে বহু বছর ধরে মেহরিনকে চেনে।
"কারণ আমি অনেকদিন ধরে তোমাকে খুঁজছি।"
মেহরিনের বুকের ভেতর অজানা আতঙ্ক জমতে শুরু করল...
চলবে...
10
View