Posts

কবিতা

এক উলঙ্গ উত্তান নদী

June 10, 2026

Md Anwar Parvez

41
View

সবকিছুই এখন হাতের নাগালে,

হারাবার সব ভয় পুরো কেটে গেছে

হাত বাড়ালেই আসে, যায়ই না দূরে-

চাই বা না চাই, শুধু পায়ে পায়ে ঘোরে

শুনতে না চাইলেও গুনগুন করে

কেবলি গুঞ্জন তোলে কানে। একদিন

হারাবার কী ভীষণ ভয়ে এই মন 

মেতেছিল; সব হাসি, সব প্রেম, নারীদের

পাতলা, ভঙ্গুর, ফিনফিনে পাখা ছিলো-

একটু আড়াল হলে, অনাদর হলে

যেন শূন্যে উড়ে যাবে, হাওয়ায় মিলাবে;

অবিরাম টগবগ করে ফুটতে থাকা

আগ্নেয়গিরিটাকেও তাই খুব কাছে

একেবারে বুকেরই ঠিক মধ্যখানে

জ্বলতে দিয়েছিলাম, দূরে সরে যেতে

দিইনি, নিজেও সরে যাইনি দূরে ফেলে-

অত তাপ বলেই  কি পুড়ে যাবে ভয়ে

শেষবার- একেবারে খুব কাছে এসে

চোখে চোখ রেখে হৃদয়ের তলদেশ

অবধি তুষারহিম ছুরি বিঁধিয়ে প্রশ্ন 

করেছিলে, ‘দেখি কতখানি…? কতদূরে…?’

আমি চোখ সরাইনি, হারতে পারি না

তাই অভিশাপ নিয়ে হয়ে গেছি এক 

উলঙ্গ উত্তান নদী; সব শব নিয়ে

মিথ্যে ইশারা, সংকেত ভুলতে না দিয়ে

সব নিয়ে বয়ে চলি; কিছুই ছাড়িনি

কাউকে ছেড়ে যাইনি; হেরে গিয়ে তারা

এখন কেউ হিজল, কেউ বা অচেনা

অন্য কেউ; সারাদিন সারারাত ঝুঁকে

একান্ত নিবিষ্ট মনে ক্ষয়ে যাওয়া এই

দগ্ধ ছারখার বুকে হিজলের ফুল 

ফেলে- একটা একটা করে- অবিরাম;

প্রতিটা পড়তে থাকা হিজলের ঘায়ে

আমার কাতর ক্ষতগুলো গাঢ় হয়,

মর্মমূল কেবলই এফোঁড় ওফোঁড় 

বিঁধে যায়; শুধু অপলক চেয়ে থাকি-

কখন দুষ্ট কিশোরী এই ঘাটে এসে

কোমল আঁজলা ভরে খোলা বুক থেকে

হিজলের পাথুরিয়া ভার তুলে নেবে।  (সমাপ্ত)

Comments

    Please login to post comment. Login