মহান যিনি অতি, সৃজন করেছেন তিনি—
পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি বাই সাইত্রিশ ইঞ্চির ক্যানভাসে।
আলপনা এঁকেছেন আপন মনে খুব যতনে,
খুলির ভেতর দিয়েছেন অতি আশা নিয়ে,
ওজন তেরোশো গ্রাম কিংবা বেশি তার চেয়ে।
আমি ছাড়াও অসংখ্য আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে,
দু’পায়ে চলছে আশেপাশে কিলবিলিয়ে।
আলপনার রঙ আর কারুকার্য দেখে,
মুগ্ধ হয়ে যতবার দিয়েছি হাত বাড়িয়ে,
ততবার দংশিত হয়েছি লুকানো বিষদাঁতে।
তাই বারবার রাঙা হয়েছি বিষাদের নীলে;
কতক ঝরে ঝরে পড়েছে নয়নের জলে,
কতক রয়ে গেছে জমাটবদ্ধ পাথর হয়ে,
কতক আবার নিত্য জ্বলছে দাউদাউ করে।
এখন আমি যাকে-তাকে ব্যবচ্ছেদ করি,
ভালোভাবে কেটেছেঁটে ভেতরটাকে দেখি।
দেখি আর বারবার আঁতকে উঠি—
বীভৎস রূপ আর অন্ধকারটা দেখে দেখে!
ঘৃণার বৃক্ষ বেড়ে ডালপালা ছেয়ে গেছে,
সেই ছায়ায় আমিও গেছি অন্ধকারে ডুবে,
তাই ভেতরটা ভেতরে মরে পড়ে আছে।
অন্ধকারের বুক চিরে বেরিয়ে আসতে,
কতবার জ্বেলেছি মোমবাতির সুতোতে;
ততবার নিভে গেছে দমকা হাওয়াতে।
এখন এই ঘন অরণ্যের বুকে ঘুরে ঘুরে—
খুঁজি কোন কোন ফলে সায়ানাইড আছে,
কখনো কখনো টেবিলের কোনায় রেখে,
তাকিয়ে থাকি হেমলক ভরা গ্লাসে!