হক সাহেব অনেক বছর পর আজ গ্রামে যাচ্ছেন। গ্রামে তার মা-বাবার কবর। সেই যে মায়ের মৃত্যুর পর গ্রাম ছেড়েছিলেন, আর কোনদিন আসা হয়নি ফিরে। ইচ্ছে হলেও পারেননি। ছোট একটা কেরানীর চাকরি করতেন শহরে। গতকালই অবসর পেয়েছেন চাকরি থেকে।
ছোট চাকরি করে সংসার চালাতে দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করতে হয়েছে তাকে নিরন্তর। জীবনে নিজের গ্রামের জন্য কতকিছুই না করার ইচ্ছা ছিলো তার। দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করে আর তা সম্ভব হয়নি।
ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছেন। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন ঋণ করে। তারপর সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন গায়ে গতরে খেটে।
এরপর তার সামান্য সম্পদ দখল করার জন্য আত্মীয়রা তার নামে একটা মিথ্যা মামলা দিয়েছিলো৷ ফলে মায়ের কবর সুযোগটাও বন্ধ হয়ে যায় তার।
ছেলেমেয়েদের জন্য কোন দিকে চাইলেও যেতে পারেননি। এখন অবসর পেয়েছেন। তাই গ্রামে যাচ্ছেন। এই প্রথম গাড়িতে চড়ে গ্রামে যাচ্ছেন তিনি। তার ইচ্ছে ছিলো একদিন গাড়িতে চড়ে নিজের গ্রামে ফিরে যাবেন।
একা যাচ্ছেন না। পুরো পরিবার নিয়েই যাচ্ছেন। তবে সবাই কি আর এক গাড়িতে করে যেতে পারে?
হক সাহেবের জন্য আলাদা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফ্রিজিং কার!
গতকাল অফিস থেকে বিদায় গ্রহণকালে অসুস্থ হয়ে পড়ে, হার্ট অ্যাটাক হয়। কেউ বুঝতে পারেনি। বাসায় যাওয়ার পরে মারা যান হক সাহেব।
খুব ইচ্ছে ছিলো মায়ের কবরে যাবেন, বুক ভরে মায়ের জন্য কান্না করবেন। আজ যাচ্ছেন। মায়ের জন্য তার অন্তরটা প্রায়ই কাদতো, কিন্তু নিজের অনুভূতি কারো কাছে প্রকাশ করতেননা। মায়ের কবরের পাশেই তাকে শোয়ানো হবে।