ডাক্তার সাহেব নতুন বিয়ে করেছেন। তারপরও রোগী দেখতে হয়। তার নাম যশ ভালো। ফিস বেশি নেন না। তাই সবাই তার কাছে আসে। বাড়ির খুব কাছেই বাজারের এক কোণায় তার চেম্বার।
সরকারি হাস্পাতালের দায়িত্ব পালন শেষে সেখানে বসে রোগী দেখেন। তবে আজ এমন একজন রোগীর সাথে তার দেখা হয়ে যাবে সেটা তিনি ভাবেননি।
রোগী তার নাম বলেই কান্না করে দিলো। সে আসলে ওই ডাক্তারের স্ত্রীর সাবেক প্রেমিক। নিজের পরিচয় দিলো। ডাক্তার এই ঘটনায় একদম চুপ মেরে গেলেন। তিনি দাড়ি-টুপিওয়ালা একজন নামাজী মানুষ। জীবনে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন সেটা ভাবেননি।
তাদের মাঝে ফোনে কথা হতো। আসলে ওই ছেলেটা এই গ্রামের হলেও নিজের পরিচয় গোপন করে মেয়েটির সাথে ফোনে কথা বলতো। এখন তার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ছেলেটা ভেঙ্গে পড়েছে।
ডাক্তার কিছু ভেবে বললেন,"আপনি যদি বিয়ের আগে আমার কাছে আসতেন তা হলে আমি ভেবে দেখতাম। এখন সে আমার স্ত্রী। তাই তার কথা ভুলে যান। এতে সবারই ভালো হবে।"
ছেলেটি কিছু বললো না, কেবল কেদেই চললো।
ডাক্তার বললো,"দেখুন। আপনি বিয়ের আগে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে আমার হক নষ্ট করেছেন। আমি তো আপনাকে ক্ষমা করবোনা।
আপনাকে শেষ বিচারের দিন আল্লাহর কাছে আসামি বানাবো ইনশাআল্লাহ।"
বাইরে অন্য রোগীরা অপেক্ষা করছিলো। ডাক্তার তাই তাকে তাড়াতাড়ি বের করে দিলো। রোগী দেখে শেষ করার পর ডাক্তার যখন বাড়ি চলে যাবে তখন ছেলেটি আবার আসলো। এসে ডাক্তারের পায়ে পড়ে গেলো।
সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। সেও একজন পরহেজগার লোকের ছেলে। তাই ডাক্তারের কাছে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইলো। সে আর কোন দিন ডাক্তারের স্ত্রীর সামনে যাবেনা, তার সাথে আর ফোনেও কথা বলবেনা৷
এমন শর্তের বিপরীতে ডাক্তার ছেলেটিকে ক্ষমা করে দিলো। ডাক্তার নিজেও এই ঘটনাটা পুরোপুরি ভুলে যেতে চাইলো জীবনের তরে।
5
View