Story

শুন্য দৃষ্টি

June 18, 2026

130 views

জাপানের একটা ভিন্ন রকম জিনিস হলো ওল্ড হাউজ বা বৃদ্ধাশ্রম। যারা দেশ গঠনের জন্য কাজ করেছেন, এখন তার বুড়ো হয়ে গেছেন। তাদের দায়িত্ব সরকার নিজের হাতেই তুলে নিয়েছে। 
বৃদ্ধদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা আছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে সব রকমের সুবিধা দেওয়া হয়।
আমার বাসার নিচে আশেপাশে বসার জায়গা নেই। একটু দূরে একটা আছে, সেটাও ওই বৃদ্ধাশ্রমের কাছে। সেদিন রোজা রেখেছিলাম, সময় কাটছিলোনা বিকালবেলা। তাই ওখানে একটা বেঞ্চে গিয়ে বসি। আমার থেকে একটু দূরে বসে একজন বৃদ্ধ একটানা সিগারেট খেয়ে চলেছে। যদিও প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া যায়না, কিন্তু তিনি খাচ্ছেন। 
আমি ওই দিক দিয়ে যখন যাই প্রায়ই ওই বৃদ্ধকে বসে থাকতে দেখি। হাতে একটা সিগারেট অথবা বিয়ারের বোতল৷ তার চেহারা উসকুখুসকু, কেমন যেন বিদ্ধস্ত।
সবচেয়ে অবাক করে তার চোখের চাওয়া। প্রথম দেখায় চেহারা অত্যন্ত বিরক্তিকর বলেই মনে হয়। কিন্তু ভালো করে তাকালে বড্ড মায়া হয়, খারাপ লাগে৷ 
তার চোখের চাহনি শুন্য। সেখানে কোন কিছুই নেই। মনে হয় যেন, পথহারা-দিশেহারা কোন এক পথিক, যে আশা ছেড়ে দিয়েছে। দেখলে কেমন যেন বড্ড বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে। মনে হয় যেন লোকটির স্থানে আমি বসে আছি। কোন এক বেঞ্চে একাকী বসে আছি আমি! 
যেন এক অন্য জগতে হারিয়ে গেছি। সেখানে কেবল আমি আর আমি, আর কেউ নেই। একটানা ডেকে চলেছে রাতের পাখিটা।
জীবনের পথে কোন অপেক্ষা নেই। হয়ত মৃত্যুর অপেক্ষাটাই এখনো বাকি রয়ে গেছে৷ কিছুক্ষণের মাঝেই দম বন্ধ হয়ে আসে। মানুষ কিভাবে এমন একলা জীবনে বেচে থাকে?
বুড়ো বয়সে নাতি-নাতনীদের নিয়ে মাস্তি করবেন, এটাই তো হওয়ার কথা। 
জাপানে বুড়োদের দেখার জন্য লোক আছে। কিন্তু তারপরও তারা একা। সেদিক থেকে আমাদের দেশের মুরুব্বিরা ভালোই থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে হয়ত ভালো থাকেননা। আল্লাহ তাদের সবাইকে ভালো রাখুন৷ তারা আমাদের শিশুকালে সর্বোচ্চ যত্ন করেছেন। আল্লাহও তাদের শেষকালে সর্বোচ্চ মর্যাদায় রাখুন।

Picked up where you left off

Comments