মাহবুব সাহেব নিজেকে খুব জ্ঞানী ভাবেন। এদেরকে নিয়ে এই এক সমস্যা, নিজেকে এতটাই জ্ঞানী ভাবে যে যেকোন বিষয় নিয়ে নিজের জ্ঞান ফলাইতে চায়।
আমাকে জিজ্ঞেস করেছে হালালাহ সম্পর্কে। পরে অন্য কথার আড়ালে পড়ে যাওয়ায় এটা নিয়ে আর কথা বলতে পারিনি উনার সাথে।
অবাক করা বিষয় হলো এই যুগে এসেও ইসলাম সম্পর্কে মানুষের অনেক ভুল ধারণা আছে। অমুসলিমদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেকে মহাজ্ঞানী ভাবা মাহবুব সাহেবেরও?
এমন না যে উনি আমার কাছ থেকে প্রশ্নটির উত্তর চাচ্ছেন। উনি আসলে ইসলাম সম্পর্কে মজা করা বা ঠাট্টা করার জন্য এটি বলেছেন। বলতে পারেন, নিজের জ্ঞানের লেভেল বুঝানোর জন্য। কারণ কথাটি বলে উনি যে রকম হাসিটা দিয়েছেন সেটা অত্যন্ত আপত্তিকর।
আমি এই জিনিসটা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। তারপরও এটা নিয়ে পড়াশোনা করলাম।
কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলে ইসলাম বলে দিয়েছে, এমনিতে সে আর ফিরিয়ে নিতে পারবেনা। সে নারীর অন্য কোথাও বিয়ে হবে। সেখান থেকে যদি কোনদিন ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তখনই সে আগের স্বামী আবার বিয়ে করতে পারবে। তার আগে আর নয়। আসলে তালাক প্রদানকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করে। আর এই জন্যেই এই কঠোর নীতি।
মাহবুব সাহেবদের জন্য এটা কোন কিছু না। এখানে হাস্যকর অন্য কিছু আছে। সেটাও বলছি।
কিছু লোক আছে, যারা স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর অন্য কারো সাথে বিয়ে দেওয়ার নাটক করে। তারপর সেই লোক ছেড়ে দিলে সে আবার বিয়ে করে। এরকম বিয়ে নিয়ে নাটক করাটা হারাম। এটাকেই তারা হালালাহ বা হিল্লা বিয়ে বলেছে। কিছু খারাপ চরিত্রের লোক ইসলামের এই বিধানকে এমন খেলনা বানিয়েছে৷
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা হিল্লাকারী (যে চুক্তি করে বিয়ে করে) এবং যার জন্য হিল্লা করা হয় (প্রথম স্বামী), উভয়ের ওপর লানত (অভিশাপ) করেছেন।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১১১৯)।
মাহবুব সাহেবরা মনে করেন, হালালাহ করা ইসলাম অনুমোদিত। আর উনার রহস্যময় হাসি এটাই বুঝাতে চায় যে, সবাই পাইকারি দরে হালালাহ করছে। উনি নিজেকে একজন নারীবাদী বলে প্রমাণ করতে চান কথাবার্তায়। কিন্তু যতবারই দেখা হয়, মেয়েদের বিষয় ছাড়া উনি কথা বলতে পারেননা। এরা নারীকে সম্মান করতে পারেনা, অথচ নিজেকে নারীবাদী বলে পরিচয় দেয়।
হালালাহ এর মতো একটা জঘন্য প্রথা নিয়ে নারীকে হেয় করে।