Posts

গল্প

অবসর জীবনের দিনগুলো

June 23, 2026

Md. Anwar kadir

6
View

আব্দুর রহিম সাহেব চাকরি থেকে অবসরে গেছেন এই কয়েকদিন হলো। এই কয়েকদিনে কেমন যেন বুড়িয়ে গেছেন। মানুষিকভাবেও তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন মনে হচ্ছে। অবসরে যাওয়ার পর তার প্রতি সকলের আচরণও বদলে গেছে। কেমন যেন তার প্রতি সকলেরই একটা অবহেলা লক্ষ্য করছেন তিনি। ছেলেমেয়েরা সবাই চাচ্ছে তার সকল সম্পদ তাদের মাঝে বন্টন করে নিতে। 
তার বৃদ্ধা স্ত্রী এমনিতেই অনেক বছর তার সাথে থাকেনা। বড় ছেলের সাথে থাকে। বলা যায়, সে নিজের ব্যবস্থা করে নিয়েছে। আসলে বড় ছেলের বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্যই সেখানে থাকে, ছেলের বাসায় মাগনা কামলা দেয় আরকি। 
আব্দুর রহিম সাহেব এত বছর কেরানির চাকরি করেছেন। নিজের খেয়াল করার মতো শুধু নিজেই আছেন। তারপরও ছেলেমেয়েরা এতদিন তাকে মূল্যায়ন করতো। ইদানীং তা করছেনা, এটা তিনি বুঝতে পারেন। 
আজকাল তার পরলোকগত পিতা-মাতার কথা বড্ড মনে পড়ে। তিনি পিতা-মাতার অত্যন্ত আদরের একমাত্র সন্তান ছিলেন। এই সেদিনও পিতার কাধে চড়ে বাজারে গিয়েছেন। মা তো তাকে সর্বদাই কোলে ঘুরে বেড়াতো৷ অনেক বছর পিতামাতার জন্যে তিনি মন দোয়া করেননি। 
তিনি আসলে নিজের অবস্থা দেখে পিতামাতার সাথে নিজের তুলনা করতে শুরু করেছেন। তাদের শেষ বিদায়টা ভালো হয়নি। আসলে তাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিলোনা। তিনি নিজেও চেষ্টা করেননি। বিশেষ করে উনার বাবা। মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা পাগল হয়ে গেছিলেন প্রায়। একা থাকতেন। তিনি আরেকটা বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বুদ্ধিমান আব্দুর রহিম সাহেব তা আর হতে দেননি। লোকে কি বলবে? আর সম্পদ? এর ভাগ দেওয়া যায়?
তবে আজকাল বুঝতে পারেন যে তিনি বাবা মায়ের সাথে ভালো আচরণ করেননি। তাদেরকে সময় দেননি, খেয়াল রাখেননি। আজকে নিজের প্রতি স্ত্রী সন্তানের অবহেলা সেসব কথাই মনে করিয়ে দেয়। নামাজ পড়ে বাবা-মায়ের এর জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেন৷ আর তাদের প্রতি নিজের অযত্ন-অবহেলার জন্য জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে দিন কাটে তার। 
আজকাল তার বাবার মতো তারও অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করে। একা থাকতে বড্ড ভয়ও করে। কিন্তু তার স্ত্রী-সন্তান কিংবা নাতি-নাতনীদের কারো কাছে তার জন্য সময় নেই। বেশি কথা বললে ওরা বিরক্ত হয়।
আজকে তার বাবা বেচে থাকলে হয়ত তার কথাগুলো বসে বসে মনোযোগ দিয়ে শুনতো। যেমনটি শুনতো তার ছেলেবেলায়।

Comments

    Please login to post comment. Login