ছাত্রজীবনে আমি এই প্রশ্নটা নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেছি। স্পষ্ট কোন উত্তর পাইনি, কেউ দিতেও পারেনি।
ইসলামে কার গুরুত্ব বেশি? পুরুষ নাকি নারী?
আবার নারী-পুরুষের সমতা ইসলাম মানে কি-না সেটা নিয়েও অনেক প্রশ্ন শুনেছি। স্পষ্ট উত্তর কেউ দেয়নি। উল্টো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তবে এখন জানি, ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়েই সমান। ইসলামে নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, সাদা-কালো সবাই সমান। সকলের বিচার হবে তার নিজস্ব আমলের ভিত্তিতে।
তবে নারী আর পুরুষের জন্য ইসলামে দায়িত্ব বা কাজ আলাদা করা হয়েছে। নারী ঘর সামলাবে আর পুরুষ বাহির। কিন্তু নারী চাইলে সেও পুরুষের মতো বাহিরের কাজও করতে পারবে পর্দার মাধ্যমে। তবে পুরুষের চেয়ে তাদের পর্দার ধরনের মাঝে পার্থক্য আছে।
শুধু তাই নয়, পর্দা প্রথমে পুরুষের জন্য এবং পরে নারীর জন্য এসেছে। হয়ত কিছু দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে নারীর জন্য দেওয়া হয়ছে। আবার কিছু পুরুষের জন্য। এটা সম্পূর্ণ তাদের শারীরিক ও মানসিক গঠনের উপর ভিত্তি করে।
কিছু কাজে পুরুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে আবার কিছু কাজে নারীকে। কিন্তু আল্লাহর কাছে কেউ বড় নয় বা ছোট নয়। মৃত্যুর পর সবাইকেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তার নিজ নিজ কাজের ভিত্তিতে।
পবিত্র কোরানে নারী ও পুরুষকে একে অপরের পোশাকের রূপকে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে। এর চেয়ে সুন্দর আর কি হতে পারে? কাউকে কারো উপর কর্তৃত্ব করার অধিকার দেওয়া হয়নি।
সম্পদ বন্টনে পুরুষের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও তাদের দায়িত্বও বেশি দেওয়া হয়েছে। আবার আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়েও পুরুষ অগ্রাধিকার পেয়েছে। কারণ পুরুষকে বাহিরের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে আরো অন্য অনেক কারণও থাকতে পারে।
আমাদের সমাজে নারীকে নানাভাবে ঠকানো হয় যা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে।
সকল পুরুষের দায়িত্ব তার মা, বোন কন্যা, স্ত্রী সকলের খোজ রাখা এবং তাদের অভাবসমূহ পূরণ করা। আবার সন্তানের কাছে তার পিতার তুলনায় মায়ের অধিকার বেশি ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী। সুতরাং, ইসলামে সবাই কেউ ছোট-বড় নয়, সবাই সমান।
8
View