জীবনের সময় ও সুর
জীবন নদীর মতো, বয়ে যায় প্রতিনিয়ত; কখনো উছলে ওঠে ঢেউয়ে, কখনো নিরব-শান্ত-কোমল হয়ে বয়ে যায় পথ পরিক্রমায়।
কখন ঢেউ আসে, কখন শান্ত হয়, তা সে জানে না; তবু তার নিয়তই যাপন করতে হয় প্রকৃতির নিশ্চিত অথচ অননুমেয় সীমা পরিসীমা।
নদী যেমন- একূল ভাঙে, ঐকূল গড়ে, এই তো নদীর খেলা ডক্ট্রিন মেনে চলে; জীবনও তাই; কখনো উত্থান, কখনো পতন; মানুষ তা কখনো উপলব্ধি করে, কখনো করে না, কিংবা করতে পারে না। তবু নদী যেমন তার আপন গতিতেই প্রবাহিত হয়, হতে থাকে; জীবনও তেমন পার করে সময়, কণ্ঠে বাধে সুর- জীবনেরই নিয়মে।
এ জীবনে কতো দেখেছি- ভরা জলে ঢকঢক চঞ্চলা-যৌবনা কতো নদী, কিছুকাল পরে আবার এ-ও দেখেছি- লোকে সেসব নদীকে "মরা নদী" বলে আখ্যায়িত করছে।
জীবনও তো তাই; নাহলে সৈয়দ আব্দুল হাদী কেনো কন্ঠে তুলেছেন- "চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার/ হায়রে/ চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার।"
আজ চোখ বন্ধ করেন, জীবনের ইতি টানেন, আপনার স্বজন-পরিজনই আপনাকে কবরে শুইয়ে দেবে; এ-ই জীবনের সুর।
তাই, সময় থাকতে আসেন গলা ছেড়ে টান দিই- "কীসের বাড়ি/কীসের ঘর/কীসের সংসার/ চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার/ হায়রে/চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার।"