পথশিশু
— বেলাল উদ্দিন
রাতের শহরে যখন নামে মায়াবী চাঁদের আলো,
সোডিয়াম বাতি জ্বালিয়ে দেয় সে পথটা বাসিব ভালো
দালানের ছায়ায়, ফুটপাত জুড়ে যাদের জীবন কাটে,
শৈশব তাদের বন্দি থাকে ধুলোবালি আর হাটে।
নেই কোনো ঘর, নেই বিছানা, নেই সে মায়ের কোল
জীবনের খাতায় মেলেনি হিসাব, মেলেনি খাতার গোল
ছেঁড়া জামা গায়ে, ধুলোমাখা মুখে হাসির ঝিলিক ফোটে,
এক মুঠো ভাত জোটাতে তাদের কত না কষ্ট জোটে।
রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে চলে তারা, চেনে না তো কোনো ঋতু,
ক্ষুধার জ্বালায় লড়ে যায় রোজ, নয়কো তাহারা ভীতু।
পিচঢালা পথ খেলার মাঠ, আকাশটাই তাদের ছাদ,
পৃথিবীর সব সুখ থেকে তারা সয়েছে পরম বাদ।
অন্যের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টে খোঁজে যে তারা আহার,
বুকের ভেতর জমে থাকে যেন একলা দুঃখের পাহাড়।
নেই কোনো বই, নেই কোনো স্কুল, বর্ণ চেনে না চোখ,
সমাজ তাদের এড়িয়ে চলে, বাড়ে শুধু এক ক্ষোভ।
বড় বড় গাড়ি পাশ কেটে যায়, কেউ তো তাকায় না ফিরে,
কত স্বপ্ন যে মরে যায় রোজ এই শহরের ভিড়ে। ওরাও মানুষ,
ওরাও তো শিশু, ওগো সভ্য সমাজ শোনো,
ওদেরও আছে বাঁচার অধিকার, অবহেলা করো না কোনো।
একটুখানি ভালোবাসা আর একটুখানি আলো,
বড় প্রয়োজন ওদের জীবনে, বাসতে হবে তো ভালো।
পথের ধুলোয় হারিয়ে না যাক নিষ্পাপ কোনো প্রাণ,
ওদের হাসিতে জেগে উঠুক নতুন এক ভোরের গান।
ফুটপাতে আর ঘুমাবে না কেউ অবহেলা-লাঞ্ছনায়,
ওদের স্বপ্ন সত্যি হোক এবার নতুন এক চেতনায়।