"শহরের সবচেয়ে নামী আর্ট গ্যালারিতে আজ তিল ধারণের জায়গা নেই। সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখছে এক রহস্যময় জাদুকরের তুলির আঁচড়, যার আঁকা প্রতিটি ছবি অবিকল জীবন্ত! কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—এই কালজয়ী চিত্রশিল্পী সমীরণ সেন একজন সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন মানুষ।
কীভাবে চোখের আলো না নিয়েও ক্যানভাসে এতটা নিখুঁত প্রাণ ফোটানো সম্ভব? এই অলৌকিক প্রতিভার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার, হিমশীতল সত্য। সমীরণ সাধারণ আলোয় দেখেন না; তিনি দেখতে পান কেবল তখনই, যখন কোনো জীবন্ত প্রাণ তার চোখের সামনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে স্থির হয়ে যাওয়া চোখের আলো সমীরণকে ফিরিয়ে দেয় মাত্র চার মিনিটের এক ক্ষণস্থায়ী দৃষ্টি! আর সেই চার মিনিটেই জন্ম নেয় একেকটি বিশ্বখ্যাত মাস্টারপিস।
কিন্তু সত্য যখন আর গোপন থাকে না, যখন সমীরণের সবচেয়ে কাছের মানুষ এবং তার প্রদর্শনীর কিউরেটর নীলাঞ্জনা জেনে ফেলে এই রোমহর্ষক রহস্য—তখন খেলাটি এক ভয়ঙ্কর মোড় নেয়। এক মারণব্যাধিতে আক্রান্ত নীলাঞ্জনা নিজেই সমীরণের সামনে এক অদ্ভুত শর্ত নিয়ে হাজির হয়। সে চায় নিজের মৃত্যুকে সমীরণের ক্যানভাসে অমর করে রাখতে।
শিল্পের নেশা বনাম ভালোবাসার চরম আত্মত্যাগের এই গল্পটি পাঠককে নিয়ে যাবে এক অন্ধকার স্টুডিওর লাল আলোয়, যেখানে তুলির শেষ আঁচড়ে লুকিয়ে আছে এক অন্ধ চোখের অলৌকিক আলো আর এক জ্যান্ত মানুষের বুক ফাটানো কান্নার ইতিহাস।"