Posts

উপন্যাস

শেষ চিঠির ভালোবাসা

July 7, 2026

Md Habib islam

6
View

শেষ চিঠির ভালোবাসা

গ্রামের ছোট্ট একটি নদীর ধারে প্রতিদিন বিকেলে বসে থাকত আরিফ। তার হাতে থাকত একটি ডায়েরি, আর চোখ থাকত নদীর ওপারের পথের দিকে। কারণ সেই পথ দিয়েই প্রতিদিন কলেজ শেষে বাড়ি ফিরত মায়া।

প্রথম দিকে তাদের মধ্যে কোনো কথা হতো না। শুধু চোখাচোখি হতো, আর দুজনেই মুচকি হেসে চলে যেত। ধীরে ধীরে সেই হাসি একদিন কথায় বদলে গেল। নদীর ধারে বসে তারা গল্প করত, স্বপ্ন দেখত, আর ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা করত।

মায়ার স্বপ্ন ছিল একজন শিক্ষক হওয়ার। আরিফ চেয়েছিল নিজের একটি ছোট ব্যবসা গড়ে তুলতে। দুজনেই বিশ্বাস করত, একদিন সব স্বপ্ন পূরণ হবে। তারা একে অপরকে কথা দিয়েছিল—যত বাধাই আসুক, কখনো একে অপরের হাত ছাড়বে না।

কিন্তু জীবন সব সময় গল্পের মতো সহজ হয় না।

একদিন হঠাৎ মায়ার বাবার বদলি হলো দূরের এক শহরে। চলে যাওয়ার আগের দিন মায়া আরিফকে একটি খাম দিল। সে বলল, "আমি চলে যাচ্ছি। হয়তো অনেক দিন দেখা হবে না। কিন্তু যদি সত্যিই ভালোবাসো, তাহলে এই চিঠিটা আমার কথা খুব বেশি মনে পড়লে খুলে পড়বে।"

আরিফ চিঠিটি যত্ন করে রেখে দিল। প্রতিদিন সে নদীর ধারে যেত, কিন্তু চিঠিটি খুলত না। সে বিশ্বাস করত, একদিন মায়া ফিরে আসবে।

পাঁচ বছর কেটে গেল।

এই পাঁচ বছরে আরিফ নিজের পরিশ্রমে সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠল। কিন্তু তার জীবনে ভালোবাসার জায়গাটি খালি রয়ে গেল। এক বর্ষার সন্ধ্যায় নদীর ধারে বসে সে অবশেষে চিঠিটি খুলল।

চিঠিতে লেখা ছিল—

"প্রিয় আরিফ,

যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তবে বুঝব তুমি এখনো আমাকে ভুলে যাওনি। কিন্তু আমি চাই না তুমি শুধু আমার স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকো। সত্যিকারের ভালোবাসা মানে শুধু কাছে থাকা নয়, প্রিয় মানুষটির সুখ কামনা করাও। যদি কোনো দিন আমার সঙ্গে দেখা না হয়, তবুও নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে, পরিবারের পাশে থাকবে এবং হাসিমুখে জীবন কাটাবে। কারণ তোমার হাসিই ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস।

—তোমার মায়া"

চিঠি পড়ে আরিফের চোখ ভিজে উঠল। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো, "এত দিন পরে চিঠিটা খুললে?"

আরিফ ঘুরে দেখল—মায়া দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখেও আনন্দের জল।

জানা গেল, মায়া বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছে। সে মাঝেমধ্যেই গ্রামের খবর নিত, কিন্তু আরিফের প্রতিশ্রুতির কথা মনে রেখেই নিজে থেকে যোগাযোগ করেনি।

সেদিন নদীর ধারে সূর্য ডুবে যাচ্ছিল, কিন্তু তাদের জীবনে যেন নতুন সূর্য উঠছিল। বহু বছরের অপেক্ষা, বিশ্বাস আর ভালোবাসা অবশেষে এক হয়ে গেল।

তারা বুঝেছিল, সত্যিকারের ভালোবাসা সময়ের কাছে হার মানে না। দূরত্ব তাকে দুর্বল করে না, বরং আরও গভীর করে তোলে। আর যে ভালোবাসার ভিত গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সম্মান ও ধৈর্যের ওপর, সে ভালোবাসা একদিন না একদিন নিজের ঠিকানায় পৌঁছেই যায়।

Comments

    Please login to post comment. Login