পৃথিবীতে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনধারণের ক্ষমতা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এবং বিস্ময়কর প্রাণীটির নাম টারডিগ্রেড (Tardigrade)। এরা আকারে এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে এদের দেখা মেলা ভার, কিন্তু এদের টিকে থাকার ক্ষমতা ডাইনোসর থেকে শুরু করে পৃথিবীর যেকোনো বড় প্রাণীর চেয়ে কোটি গুণ বেশি। এদেরকে আদর করে 'জলচর ভালুক' বা Water Bear-ও বলা হয়ে থাকে।
কেন এরা অবিনশ্বর?
টারডিগ্রেড এমন সব চরম ভাবাপন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে যেখানে অন্য যেকোনো জীব মুহূর্তের মধ্যে মারা যাবে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন যে, এরা মাইনাস ২৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে শুরু করে ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রাতেও দিব্যি বেঁচে থাকে। এমনকি মহাকাশের মহাশূন্যতা (Vacuum of Space) এবং তীব্র রেডিয়েশন বা বিকিরণও এদের মারতে পারে না।
"যখন পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে ওঠে, তখন টারডিগ্রেড তাদের শরীর থেকে সমস্ত পানি বের করে দিয়ে এক ধরণের সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়, যাকে বলা হয় 'ক্রিপ্টোবায়োসিস'। এই অবস্থায় তারা বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে।"
প্রকৃতির এক নিখুঁত সৃষ্টি
সাধারণত স্যাঁতসেঁতে শ্যাওলা বা পানির নিচে এদের বাস। মাইক্রোস্কোপের নিচে আট পা ওয়ালা এই ছোট্ট জীবটিকে দেখতে বেশ অদ্ভুত ও চমৎকার লাগে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে যদি কখনো বড় ধরনের কোনো মহাজাগতিক বিপর্যয় বা গ্রহাণুর আঘাতও ঘটে, তবুও টারডিগ্রেড প্রজাতিটি টিকে থাকবে। অর্থাৎ, এরা পৃথিবীর বুকে এক প্রকার অমর বা অবিনশ্বর জীব হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।
প্রকৃতি, জীবজগৎ এবং বিজ্ঞানের এমন আরও রোমাঞ্চকর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও অজানা তথ্য সহজ ভাষায় জানতে ভিজিট করুন JahidNotes ওয়েবসাইটে। এখানে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও ইতিহাসের নানা রোমাঞ্চকর তথ্য শেয়ার করা হয়।
উপসংহার
ক্ষুদ্র এই টারডিগ্রেড আমাদের শেখায় যে, শক্তির পরিমাপ সবসময় শরীরের আকার দিয়ে হয় না, বরং প্রতিকূলতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার মধ্যেই আসল টিকে থাকার রহস্য লুকিয়ে থাকে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মহাকাশ গবেষণায় টারডিগ্রেডের এই অনন্য জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের প্রযুক্তির দুনিয়াকেও বদলে দিতে পারে।