অফিসের কাজে নানা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা হতো। আথিতেয়তা স্বরুপ একটি প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি পাঠাতো আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ড্রাইভার সাহেব ষাটোর্ধ, বিনয়ী, স্মার্ট এবং দক্ষ। গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক গল্প করতেন। আমারও ভালো লাগতো মানুষের গল্প শুনতে।
ড্রাইভার সাহেব দেশের একজন নামকরা পীরবাবার মুরিদ। অবাক করা বিষয় হলো উনার পীর উনার সম্পর্কে সূক্ষ্মতম দিকটিও নাকি হুবহু বলে দিতে পারেন। আধুনিক বিজ্ঞানের এই যামানায় এটা স্রেফ পাগলামি বা অন্ধবিশ্বাস মনে হতে পারে। কিন্তু এটা উনার জন্য বিশ্বাসের ব্যাপার।
আমরা জানি গায়েবের মালিক শুধু আল্লাহ। নবীজি সা: সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব৷ অথচ তিনি গায়েবের ততটুকুই জানতেন যতটুকু আল্লাহ তাকে অবগত করেছেন। আর এই পীর সাহেব কারো সম্পর্কে গায়েব বলে দিতে পারছেন সফলভাবে। এটা কী সম্ভব?
সম্ভব। হুমায়ুন আহমেদ তার নানা গল্পে দেখিয়েছেন যে, কিছু র্যান্ডম কথা সবার সাথে মিলে যায়। এগুলো বললে, সবাই মনে করবে আমার কথাই বলছে।
কিন্তু এর বাইরেও এটা করা সম্ভব। বাস্তবেই সম্ভব। জিনের মাধ্যমে কারো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এক্ষেত্রে জিন কারো সম্পর্কে হুবহু অতীতের ঘটনা বলে দিতে পারে যা কেউ জানেনা৷ কিন্তু ভবিষ্যৎ তো আর বলতে পারেনা।
আমাদের সবার সাথেই কারিন জিন আছে৷ এসব পীরের অনেক জিন মুরিদ থাকে যারা কারিনের কাছ থেকে কোন ব্যক্তির অতীতের হুবুহু তথ্য সংগ্রহ করতে পারে৷
আবার অনেক কবিরাজের কাছেও জিন থাকে। এরাও একই কাজ করে থাকে। জিনদের দুনিয়া মানুষের মতো না। এদের কাছ দুষ্টামি করাটা মজার ব্যাপার। এদের নফস এবং প্রকৃতিও যেন এদেরকে আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে ধোকা দেয়৷ এরা মানুষের মতো জীবনের মানে খুজে ফেরেনা৷
ক্ষমতার প্রদর্শন আর দুষ্টামি করাকেই ওদের জীবনের অনেক কিছু মনে করে। তবে ব্যতিক্রমও আছে৷ এরাই হলো জিন শয়তান৷ এরা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার করার ব্যাপারে আল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ করে বসে আছে৷
তবে আল্লাহও তার বান্দাদের ক্ষমা করে দিবেন যখনই সে আল্লাহর কাছে ফিরে আসবে।
7
View