Posts

প্রবন্ধ

Supportism

July 18, 2026

ভোঁতা পেন্সিল

9
View

শিরোনাম টি হয়তো নতুন , সেই সাথে ভুল ও হতে পারে । কিন্তু এটা" চরম বাস্তবতা" । এখন সময় টা এমন যে , যেকোনো ব্যাপারে আপনাকে কোনো একটা পক্ষকে সাপোর্ট বা সমর্থন করতে ই হবে । এটা এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে । সমস্যা টা হলো কোনো পক্ষকে সমর্থন করলে আপনি বিপক্ষের গালি শুনবেন আর সমর্থন না করলে আপনি উভয় পক্ষের মুখ নিঃসৃত "খ্যাত বা গোল আলু "র মতো অমর বাণী শুনবেন ।

এই "Supportism" নিয়ে কিছু তিক্ত কথা :

কথা গুলো পড়ার পর যদি আমাকে গালি দিতে মন চায় ইচ্ছা মত গালি দিয়েন কিন্তু পুরো লেখাটি পড়ে তারপর যত গালি দেয়ার মন চায় দিয়েন ।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই বাংলাদেশে একটি তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর উদ্ভব হয় । এরা জীবনে বিশ্বকাপ ছাড়া অন্য কোনো ফুটবল খেলা দেখেও না খোঁজখবরও রাখে না । কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই এদের মাঝে জেগে উঠে সুপ্ত ফুটবল প্রেম । ফুটবল নিয়ে এদের পাগলামি ছাড়িয়ে যায় যেকোনো পাগলের পাগলামি কে । ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আসে কিছু মানুষের মৃত্যুদূত হয়ে । শুরু হয় পরিবার, আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ । যদিও সে ঝগড়ার রেশ থাকে বিশ্বকাপের চুড়ান্ত খেলা অবধি , থেকে যায় শুধু মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের রেশ । কিন্তু জন্মসূত্রে হাজার হাজার টাকার ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে জন্মানো জাতির টাকা নষ্ট করার মহড়া দেখে বোঝার উপায় নেই যে , এ দেশে হাজারো মানুষ না খেয়ে রাত কাটায় , এদের কাণ্ড দেখে বোঝার উপায় নেই যে এদের দেশে হাজারো মানুষ কনকনে শীতের রাতেও রাস্তার ধারে বস্ত্রহীন রাত্রি যাপন করে । দেশ রক্ষায় ত্রিশ লক্ষ জীবন কুরবানী করা জাতি নিজ দেশের পতাকার জন্য দশ টাকা খরচ না করলেও অন্যদেশের পতাকার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করে না । প্রয়োজন হলে তার নিজেদের ভিটেমাটি বিক্রি করবে , কিন্তু অন্যদেশের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করবেই । নিজ দেশের খেলা উপলক্ষে দুই টাকা খরচ করতে তাদের ঘটি খালি হলেও অন্যদেশের বেলায় তাদের লাখ টাকা খরচও যেন তাদের কাছে পান্তা ভাত মাত্র । লেখার এই পর্যায়ে এসে মনে হচ্ছে আমি মনে হয় তাদের সম্পর্কে ভুল লিখছি । কারণ ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর তৈরি করা প্রায় প্রত্যেকটি ব্যানারে ই লেখা থাকে " হৃদয়ে বাংলাদেশ , সমর্থনে ব্রাজেন্টিনা " । তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর ব্যবহৃত এই বাক্যে ই লুকিয়ে আছে তাদের ভন্ডামি । এই ভন্ডের দলের হৃদয় কেমন হৃদয় যা দ্বিচারিতা প্রদর্শন করে । মানুষ মন থেকে যাকে ভালোবাসে মুখেও তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে । কারো হৃদয়ে যদি বাংলাদেশ ই থাকে তাহলে সে কস্মিনকালেও ব্রাজেন্টিনা সমর্থন করতে পারে না । আর যে সমর্থন করে সে অবশ্যই ভন্ড ।

প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো যে , ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে যদি আপনি বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোনো দেশ কে সমর্থন করেন তাহলে তারা বলবে আপনি রাজাকার । কারণ , আপনি নিজ দেশকে সমর্থন না করে অন্য দেশ কে সমর্থন করেছেন । কিন্তু নিজ দেশকে সমর্থন না করে অন্য দেশকে সমর্থন করলে যদি কেউ রাজাকার হয় তাহলে এই ভন্ডরা সবচেয়ে বড় রাজাকার ।

আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগেনি , কেন তথাকথিত এই অভিজাত শ্রেণী বাংলাদেশ ফুটবল দল কে সমর্থন করে না ? এই প্রশ্নের উত্তর আমি কিছু তথাকথিত অভিজাত মানুষের কাছে পেয়েছি । তাদের উত্তর ছিলো : "বাংলাদেশ ফুটবল দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় না তাই তারা ব্রজেন্টিনা সমর্থন করে । যদি বাংলাদেশ কখনো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় তখন তারা বাংলাদেশ ফুটবল দল কে সমর্থন করবে।" । তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর কাছে আমার প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ ফুটবল দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর তোমার মত সুবিধাবাদী সমর্থক কি বাংলাদেশের প্রয়োজন আছে ? তুমি তো " দুধের মাছি " । যদি দুঃসময়ে পাশে থাকতে না পারো তাহলে সুসময়ে তোমার উপস্থিতি কি আমাদের আনন্দ মাটি করে দিবে ? না , কখনোই না । তোমার অনুপস্থিতি আমাদের আনন্দের মাঝে ব্যাঘাত না ঘটাতে সাহায্য করবে। তাই ব্রাজেন্টিনা সমর্থনের নামে গোলামী করতে চাইলে করো কিন্তু গা থেকে ভন্ডামীর জিঞ্জির খুলে গোলামী করো ।

Comments

    Please login to post comment. Login