বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা: ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্রভূমিকা
প্রকৃতি ও জীবজগতের সাথে মানুষের সম্পর্ক আদিমকাল থেকেই অত্যন্ত নিবিড়। যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে নগরায়ণের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু মুক্তি পেতে এবং বন্যপ্রাণীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করতে মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতির খোঁজে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা তেমনই এক অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এটি শুধুমাত্র বিনোদনের একটি বিশাল ক্ষেত্রই নয়, বরং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা ও শিক্ষার এক অনন্য উন্মুক্ত বিদ্যালয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটায়।
ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানাটি রাজধানী ঢাকার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত। এটি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে এক শান্ত, মনোরম ও সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে। চিড়িয়াখানাটির ঠিক পাশেই রয়েছে ঢাকা উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বিখ্যাত ‘জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান’ বা বোটানিক্যাল গার্ডেন। ফলে এই পুরো অঞ্চলটি ঢাকার অন্যতম প্রধান একটি গ্রিন জোন বা সবুজ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
চিড়িয়াখানার মোট আয়তন
মিরপুরের এই জাতীয় চিড়িয়াখানাটি আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ একটি চিড়িয়াখানা।
- এর মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৮৬.৬৩ একর (বা প্রায় ৭৫ হেক্টর)।
- এই বিশাল আয়তনের ভেতর রয়েছে ঘন গাছপালা, হাঁটার পথ, পশুপাখির সুনির্দিষ্ট খাঁচা এবং উন্মুক্ত চত্বর।
- চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে জলজ প্রাণীদের আবাসন ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রয়েছে প্রায় ১৩ হেক্টর বা প্রায় ৩২ একর আয়তনের দুটি বিশাল লেক বা জলাশয়। এই লেকগুলোতে শীতকালে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
+-------------------------------------------------------------+ | বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার মোট আয়তন | +-------------------------------------------------------------+ | মোট ভূমি: ১৮৬.৬৩ একর (৭৫ হেক্টর) | | লেক বা জলাশয়: ৩২ একর (১৩ হেক্টর) | +-------------------------------------------------------------+
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও পটভূমি
মিরপুর চিড়িয়াখানার ইতিহাস বেশ পুরনো এবং গৌরবময়।
- প্রাথমিক যাত্রা (১৯৫০ সাল): ১৯৫০ সালে তৎকালীন সরকারি এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে (বর্তমান সুপ্রিম কোর্ট এলাকা) একটি ছোট আকারের জীবজন্তুর প্রদর্শনশালা হিসেবে এর প্রথম যাত্রা শুরু হয়।
- মিরপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ (১৯৬০ সাল): শহরের কেন্দ্রস্থলে জায়গার স্বল্পতা এবং প্রাণীদের কোলাহলমুক্ত পরিবেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৬০ সালে মিরপুরে আধুনিক চিড়িয়াখানা স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়।
- আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন (১৯৭৪ সাল): মিরপুরের বর্তমান নির্ধারিত স্থানে সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করার পর ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
- নাম পরিবর্তন (২০১৫ সাল): দীর্ঘদিন এটি 'ঢাকা চিড়িয়াখানা' নামে পরিচিত থাকলেও ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এর নাম পরিবর্তন করে সরকারিভাবে 'বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা' রাখা হয়। এটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
পশুপাখির প্রজাতি ও বর্তমান সংখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেশীয় বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আনা দুর্লভ প্রজাতির প্রাণীদের সংগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৯১টি প্রজাতির মোট ২,১৫০টিরও বেশি প্রাণী ও পাখি রয়েছে। এদের মূলত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. স্তন্যপায়ী প্রাণী
চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ হলো এখানকার স্তন্যপায়ী প্রাণীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়া রয়েছে:
- আফ্রিকান সিংহ ও এশীয় সিংহ
- বিশাল আকারের এশীয় হাতি ও আফ্রিকান জলহস্তি
- বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ (চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, সম্বর হরিণ)
- গণ্ডার, ভাল্লুক, হনুমান, চিতা বাঘ, ও বিভিন্ন প্রজাতির বানর
- জেব্রা, ইমপালা এবং ক্যাঙ্গারু।
২. পাখির প্রজাতি (এভিয়ারি পার্ক)
পাখিদের জন্য চিড়িয়াখানায় বিশাল শেড বা খাঁচা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৯০টিরও বেশি প্রজাতির ১,৫০০টির বেশি পাখি রয়েছে। এখানে দেখা মেলে:
- ময়ূর, উটপাখি, ইমু, এবং ধনেশ পাখি
- হরেক রকমের টিয়া, লাভবার্ড, কাকাতুয়া এবং ম্যাকাও
- বিভিন্ন ধরনের শিকারী পাখি যেমন ঈগল, শকুন, ও ভুবন চিল
- বক, পানকৌড়ি, জলময়ূর, রাজহাঁস ও বুনো হাঁস।
৩. সরীসৃপ ও জলজ প্রাণী
সরীসৃপ বিভাগের খাঁচাগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এখানে রয়েছে:
- লবণাক্ত ও মিষ্টি জলের বিশাল আকৃতির কুমির
- অজগর সাপ, রাসেলস ভাইপার, গোখরো এবং বিভিন্ন বিষধর ও নির্বিষ সাপ।
- বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ।
৪. প্রাণি জাদুঘর ও অ্যাকোয়ারিয়াম
চিড়িয়াখানার ভেতরে একটি সমৃদ্ধ প্রাণি জাদুঘর রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৪০টি প্রজাতির স্টাফিং করা (রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষিত মৃত দেহ) পশুপাখি রয়েছে। এছাড়া একটি চমৎকার অ্যাকোয়ারিয়াম রয়েছে যেখানে বিভিন্ন রঙ ও প্রজাতির দেশী-বিদেশী মাছ প্রদর্শন করা হয়।
প্রবেশ মূল্য ও টিকিটের বর্তমান নিয়মাবলি
চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক। প্রবেশমূল্য অত্যন্ত সাধারণ ও জনসাধারণের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে।
- সাধারণ টিকিট মূল্য: বর্তমানে মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা (২ বছরের বেশি বয়সী সকলের জন্য এটি প্রযোজ্য)।
- বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা (বিনা টিকিটে):
- ০ থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারে।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য কোনো টিকিট লাগে না।
- শিক্ষা সফরে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শর্তে বা প্রাতিষ্ঠানিক আবেদনের মাধ্যমে টিকিটে ছাড় বা বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে।
- ভেতরের রাইড ও অন্যান্য ফি: চিড়িয়াখানার ভেতরে থাকা জাদুঘরে প্রবেশ বা হাতি ও ঘোড়ার পিঠে ওঠার জন্য অতিরিক্ত মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা ফি প্রদান করতে হয়।
দর্শনার্থীদের দৈনিক যাতায়াত ও সমাগম
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনবহুল পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি।
- স্বাভাবিক কর্মদিবসে (রবি থেকে বৃহস্পতিবার): প্রতিদিন গড়ে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ দর্শনার্থী এখানে আসেন।
- সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার): এই দুই দিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ মানুষ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন।
- বিশেষ উৎসব ও সরকারি ছুটিতে (ঈদ, পূজা বা নববর্ষ): ঈদের মতো বড় উৎসবের দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ঈদের দিনগুলোতে দৈনিক ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ মানুষ পর্যন্ত চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন। বছরে গড়ে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই চিড়িয়াখানায় যাতায়াত করেন।
সময়সূচী ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন
চিড়িয়াখানাটি ঋতুভেদে দুটি ভিন্ন সময়সূচীতে পরিচালিত হয়:
ক) গ্রীষ্মকালীন সময়সূচী (এপ্রিল থেকে অক্টোবর)
- খোলার সময়: সকাল ৯:০০ টা
- বন্ধের সময়: সন্ধ্যা ৬:০০ টা
খ) শীতকালীন সময়সূচী (নভেম্বর থেকে মার্চ)
- খোলার সময়: সকাল ৮:০০ টা
- বন্ধের সময়: বিকাল ৫:০০ টা
সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন
- রবিবার চিড়িয়াখানা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এটি চিড়িয়াখানার সাপ্তাহিক রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রাণীদের বিশ্রামের দিন।
- বিশেষ নিয়ম: যদি কোনো রবিবার সরকারি ছুটির দিন (যেমন: ঈদ, জাতীয় দিবস ইত্যাদি) হয়, তবে বিশেষ বিবেচনায় সেদিন চিড়িয়াখানা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয়।
ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে যাওয়ার উপায়
মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সড়কপথে খুব সহজেই সংযুক্ত। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. বাস যোগে যাতায়াত
ঢাকার প্রায় সব রুট থেকেই মিরপুর ১ বা ২ নম্বরে আসার সরাসরি বাস পাওয়া যায়।
- গাবতলী, সাভার বা ধানমন্ডি থেকে: যেকোনো বাসে চড়ে মিরপুর-১ বা সনি সিনেমা হল মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশা বা লেগুনায় চিড়িয়াখানা যাওয়া যায়।
- মতিঝিল, শাহবাগ বা ফার্মগেট থেকে: বিকল্প, খাজা বাবা, বা বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে সরাসরি চিড়িয়াখানার গেটে যাওয়া যায়।
- উত্তরা বা এয়ারপোর্ট থেকে: তেঁতুলিয়া বা বসুমতি বাসে চড়ে মিরপুর-১০ বা ১ নম্বরে নেমে রিকশা নেওয়া সুবিধাজনক।
২. মেট্রোরেল (Metro Rail) যোগে
বর্তমানে ঢাকার যানজট এড়াতে মেট্রোরেল সবচেয়ে আধুনিক মাধ্যম। দর্শনার্থীরা মেট্রোরেলে চড়ে 'মিরপুর-১১' অথবা 'মিরপুর-১০' স্টেশনে নামতে পারেন। স্টেশন থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব খুব বেশি নয়; সেখান থেকে সিএনজি, অটো-রিকশা বা সাধারণ রিকশায় চড়ে সরাসরি চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে পৌঁছানো যায়।
৩. সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং (Uber/Pathao)
পরিবার নিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে সরাসরি সিএনজি অটো-রিকশা অথবা উবার/পাঠাও-এর মতো রাইড শেয়ারিং গাড়ির মাধ্যমে সরাসরি মিরপুর চিড়িয়াখানার মেইন গেটে যাওয়া যায়। চালককে ল্যান্ডমার্ক হিসেবে 'মিরপুর সনি স্কয়ার' বা 'বোটানিক্যাল গার্ডেন' বললেই তারা সহজে চিনতে পারে।
চিড়িয়াখানার বার্ষিক আয় ও অর্থনৈতিক অবদান
বিশাল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম এবং বিভিন্ন ইজারা ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস। চিড়িয়াখানার আয়ের মূল খাতগুলো হলো:
- টিকিট বিক্রয়: প্রতিদিনের হাজার হাজার সাধারণ টিকিটের প্রবেশমূল্য (৫০ টাকা) থেকে একটি বিশাল অংকের রাজস্ব সংগৃহীত হয়।
- ভেতরের ইজারা: চিড়িয়াখানার ভেতরে থাকা গাড়ি পার্কিং স্ট্যান্ড, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া এবং পাবলিক টয়লেটগুলো প্রতি বছর নির্দিষ্ট ফি-র বিনিময়ে ইজারা দেওয়া হয়, যা থেকে সরকার এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পায়।
- বিশেষ বিনোদন খাত: হাতি-ঘোড়ার রাইড এবং বিশাল লেক দুটিতে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবারে টাকার বিনিময়ে সৌখিন মৎস্য শিকারীদের বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে দেওয়ার টিকিট (প্রতি টিকিট ২,০০০ টাকা) থেকেও ভালো আয় আসে।
সব মিলিয়ে চিড়িয়াখানা থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা হয়, যা পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং প্রাণীদের খাদ্য। প্রাণীদের চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয়ে থাকে।
উপসংহার
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা শুধু খাঁচায় বন্দী কিছু প্রাণীর সমাহার নয়, এটি আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত দলিল। যান্ত্রিক শহরের বুকে এটি একটি বড় ফুসফুসের মতো কাজ করে। তবে এত বিশাল একটি জাতীয় সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আমাদের দর্শনার্থীদেরও সচেতন হতে হবে। খাঁচার প্রাণীদের ঢিল না মারা, খাবার না দেওয়া এবং চিড়িয়াখানার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আমরা এই বিনোদন কেন্দ্রটিকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণীবান্ধব করে তুলতে পারি।