বৃষ্টির দিনে বাবার স্মৃতি
বাইরে তখন অঝোর ধারায় নামছে শ্রাবণ মেঘ,বুকের ভেতর উথালপাথাল স্মৃতির তীব্র বেগ।আটকে আছি রাস্তার মোড়ে, নামছে আঁধার ঘনে,হঠাৎ করেই বাজলো মোবাইল ব্যাকুল আলাপনে।ওপাশ থেকে ছোট্ট সোনা ডাকলো কেঁদে কেঁদে,"বাবা তুমি কোথায় আছ?" রাখলো আমায় বেঁধে।"আকাশজুড়ে চমকায় বিদ্যুৎ, ডাকছে মেঘের দল,তাড়াতাড়ি ফেরো ঘরে, ছেড়ো না কোঁচল।ভিজবে না কো একদম তুমি, আসবে কিন্তু জ্বর,তোমায় ছাড়া ফাঁকা লাগে আমাদের এই ঘর।"সন্তানের এই আকুল ডাক আর অবুঝ ভালোবাসায়,হঠাৎ আমি হারিয়ে গেলাম একলা স্মৃতির বাসায়।এই তো সেদিন আমি নিজেই ছিলাম এমন ছোট,বাবার জন্য বুকটা আমার করতো ছটফট।যখন এমন বৃষ্টি হতো, ডাকতো মেঘের ডাক,জানলা ধরে বসে আমি কাটাতাম যে প্রাক।মনটা কেঁদে উঠতো কেবল, বাবা কোথায় আছে?ফিরবে কখন ছাতা মাথায় আমাদের এই কাছে?তখন তো আর হাত বাড়িয়ে মোবাইল ফোন ছিল না,মন খারাপের খবর দেওয়ার কোনো সুযোগ মিলল না।অফিসে এক ল্যান্ডফোন ছিল, তাও তো পাওয়া ভার,বাবার খবর না পেয়ে মন হতো ছারখার।আজকে আমার সন্তানের এই আকুল করা রবে,বাবার স্মৃতি ফিরে এলো এক নিমেষের জবে।চোখের কোণে অশ্রু নামে বৃষ্টির ফোঁটার মতো,বুকের ভেতর জ্যান্ত হলো পুরনো স্মৃতি যত।বাবা আমার চলে গেছে না ফেরার ওই দেশে,তবুও কেন মনে হয় সে আছে আমার পাশে?আজও যেন কান পাতলে শুনতে আমি পাই,বাবা আমায় ডাকছে বুঝি, "খোকা রে তোর ভয় নাই।তাড়াতাড়ি আয় রে ফিরে, ভিজিস না কো জলে,তোর কিছু হলে যে আমার বুকটা খালি হলে।"বাবার মতো নিঃস্বার্থ সেই শাসন এবং আদর,আজকে আমি বুঝতে পারি জড়িয়ে স্মৃতির চাদর।সংসারের এই কঠিন পথে যখন ক্লান্তি আসে,বাবার ছায়া খুঁজতে থাকি মেঘলা নীল আকাশে।বাবা তুমি দেখতে কি পাও তোমার খোকা আজ,তোমার মতোই মাথায় নিল মস্ত বড় কাজ?তোমার মতোই সংসারী আজ, তোমার মতোই বাবা,তবুও তোমার শূন্যতা যে ভুলতে পারি না বা।আজকে যখন নিজের সন্তান জড়িয়ে ধরে বুকে,তোমার দেওয়া ভালোবাসার ছোঁয়া পাই যে মুখে।বৃষ্টি থামে, আকাশ জুড়ে মেঘেরা যায় কেটে,আমার মনের মেঘের দল কিন্তু যায় না চটে।সন্তানের ওই আকুল বাণী, বাবার স্মৃতির সুর,এক সুতোতে বেঁধে দিল বর্তমান আর দূর।তুমি যেখানেই থাকো বাবা, থেকো অনেক ভালো,তোমার দেওয়া শিক্ষা আজও আমার পথের আলো।সন্তানের মাঝে বেঁচে থাকুক বাবার সেই প্রীতি,বৃষ্টির দিনে ধুয়ে যাক সব, শুধু থাকুক এই স্মৃতি।