ক্লান্ত রবির বিদায়
নীল সাগরের তটরেখাতে বসেছিলাম সাঁঝের ক্ষণে,হাজারো স্মৃতির দোলা তখন জাগছিল এই মনে।দুপুরের সেই প্রখর রবি ঢালছিল বিষাদ-নুন,তপ্ত বালুর বুকে যেন জ্বলছিল এক আগুন।মনে হচ্ছিল সূর্য তখন ভীষণ রকম রেগে আছে,অগ্নীবাণ পাঠাচ্ছিল সে পৃথিবীর ধূলি-ঘাসের কাছে।রাগান্বিত সেই রূপ দেখে কাঁপছিল সব জীব ও জড়,আকাশজুড়ে চলছিল যেন এক অদৃশ্য ঝড়।সবার শরীর বেয়ে তখন ঝরছিল কেবলই ঘাম,তৃষ্ণার্ত বুক খুঁজছিল শুধু একটুখানি শীতল ধাম।প্রখর রোদের অত্যাচারে ক্লান্ত ছিল বিশ্ববাসী,মলিন ছিল সজীব প্রকৃতি, হারিয়েছিল মুখের হাসি।সেই সূর্যই এখন দেখো কেমন শান্ত রূপ ধরেছে,পশ্চিমের ওই আকাশকোণে আলতো করে হেলে পড়েছে।সাগরের ওই কোলটি ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে শান্ত ঋষি,মনে হচ্ছে তার চোখে এখন নামল বুঝি নিদমহিষী।সারাদিনের কাজের শেষে সূর্য এখন ক্লান্ত অতি,ফুরিয়ে এসেছে তার ভেতরের তীব্র সেই দীপ্ত জ্যোতি।মহাবিশ্বের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিল সে ভোরবেলা,সারাদিন ধরে দেখাল সে তার আলোর মহিমান্বিত খেলা।মেঘের সাথে যুদ্ধ করে, বাতাসকে দিয়ে নতুন প্রাণ,পৃথিবীকে সজীব রাখতে গেয়েছিল সে আলোর গান।এখন তাহার সময় হলো একটুখানি জিরিয়ে নেওয়ার,সাগরের এই বুকে এসে নিজের শরীর বিলিয়ে দেওয়ার।দুর্বল পায়ে এগিয়ে চলে পশ্চিমে তার মেঘের রথ,কুয়াশা আর অন্ধকারের দিকে বাড়ায় নিজের পথ।আমার মনে হলো তখন সূর্য বুঝি নিস্তেজ এখন,সারাদিনের খাটুনি শেষে ঘুমাবে সে শিশুর মতন।বিদায়বেলার এই আলোতে নেইকো কোনো تপ্ত জ্বালা,আকাশমাতা পরাচ্ছে তাকে লালচে আভার বরণমালা।সাগরের জল ছুঁয়ে আছে সূর্যের ওই রক্তিম পা,শীতল হাওয়া জুড়িয়ে দেয় ক্লান্ত রবির তপ্ত গা।আহা সূর্য, তুমি কি তবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে?এই আঁধারে আমাদের বুকে কেমন করে শান্তি পাবে?সারাদিন তো দিলে আলো, দিলে মোদের বাঁচার বল,অথচ এখন বিদায়বেলায় চোখে তোমার বিদায়-জল।সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে চরণের ওই রাঙা দেশে,বিদায় দিতে কাঁদছে সাগর জলের চাদর গায়ে এসে।দুপুরের সেই রুদ্র রূপ এখন কোথায় হারিয়ে গেল,শান্ত কোমল মায়ার আলো চারিপাশে ছড়িয়ে দিল।পাখিরা সব ফিরছে নীড়ে, গাইছে তারা বিদায় গীতি,শেষ আলোতে মেখে আছে চিরন্তন এক মধুর প্রীতি।মাঝনদীতে মাঝি এখন গুটিয়ে নেয় তরণীর পাল,সূর্যের এই বিদায় দেখে থমকে গেছে যেন কাল।আস্তে আস্তে নামছে সূর্য সাগরের ওই গভীর কোলে,যেন মা তার খোকাকে আজ ঘুম পাড়াবে দোলনা দোলে।পৃথিবীর এই কর্মশালা ফেলে রেখে যাচ্ছে রবি,দিগন্তজুড়ে এঁকে গেল সে এক অপরূপ বিষাদ-ছবি।অন্ধকারের চাদরখানি আসছে নেমে আকাশ বেয়ে,রাত জাগবে এবার বুঝি রূপালী এক জোছনা পেয়ে।কিন্তু সূর্যের এই চলে যাওয়া মনের মাঝে জাগায় ভয়,আলো ছাড়া এই পৃথিবী কেমন করে জ্যান্ত রয়?তবু জানি সূর্য তোমার বিশ্রাম যে বড্ড দামী,সারাদিনের ক্লান্তি তোমার বোঝে এই অন্তর্যামী।ঘাম ঝরানো দুপুরের সেই কঠোরতা ভুলে গিয়ে,তোমায় আমি বিদায় জানাই চোখের কোণে অশ্রু নিয়ে।সাগরের ওই নীল জল আজ রক্তিমতায় মাতাল হলো,বিদায়বেলার শেষ রশ্মিটি মনের মাঝে আলো জ্বালো।ঘুমাও তুমি শান্তিতে আজ, হে জগতের আলোর রাজা,তোমার দয়ায় বেঁচে থাকে এই পৃথিবীর তরুলতা-তাজা।অন্ধকারকে জয় করে আবার তুমি ফিরবে জানি,আগামীকাল আনবে বয়ে নতুন ভোরের মধুর বাণী।তবে এখনকার মতো তুমি চলে যাও ওই ঘুমের দেশে,আমরা থাকি জগতজুড়ে স্তব্ধ রাতের আঁধার ঘেঁষে।সাগরের এই বিশাল বুকে সূর্য এখন অর্ধেক নাই,আলোর চাদর ফুরিয়ে এলো, চারিপাশে ছাই আর ছাই।শেষ রেখাটি মিলিয়ে গেল সাগরের ওই নীল জঠরে,একলা আমি বসে আছি এই সৈকতের বালুর চরে।সূর্য গেল বিশ্রামে তার, রেখে গেল শান্ত রাত,মনের মাঝে রয়ে গেল নতুন ভোরের সুপ্রভাত।তপ্ত দুপুরের স্মৃতিগুলো এখন মনে গল্প ছড়ায়,কেমন করে রুদ্র রবি নিজের শরীর শান্ত করায়।সাগরের ঢেউ এখনও হাসে সূর্যের ওই পরশ পেয়ে,আমি শুধু চেয়ে থাকি দূর আকাশের সীমানা চেয়ে।বিদায় নিলো সারাদিনের অক্লান্ত সেই একলা পথিক,যার আলোতে পথ খুঁজে পায় ভুবনমাঝের চারিদিক।ধন্য তুমি হে ভাস্কর, ধন্য তোমার কর্মময় দিন,তোমার কাছে এই পৃথিবী থাকবে সদা ঋণী ও ঋণ।ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন এখন সাগর এবং আকাশপট,নীরবতায় ডুবে গেল এই সাগরের বালুময় tট।সূর্যের সেই রাগ আর নেই, নেইকো কোনো ঘামের ধারা,একটু পরেই আকাশজুড়ে জাগবে কোটি শুকতারা।কিন্তু আমার মন যে কাঁদে সূর্যের ওই বিদায় ক্ষণে,এমন করেই জীবন বুঝি হারিয়ে যায় মরণ-বনে।সারাদিনের খাটুনি শেষে সবাই আমরা ক্লান্ত হব,সাগরের এই কোলের মতো অন্ধকারের দেশে যাব।সূর্য আমাদের শিখিয়ে গেল কেমন করে জ্বলতে হয়,ケমন করে বিলিয়ে নিজেকে শান্তিতে করতে হয় জয়।বিদায়বেলার লাল আবীরটি লেগে আছে মেঘের গায়ে,শীতল হাওয়া বইছে এখন আমার ক্লান্ত পরিশ্রান্ত পায়ে।সাগরের জল গুনগুন করে গাইছে যেন একলা গান,সূর্যকে সে বুকে জড়িয়ে জুড়িয়ে দিল তাহার প্রাণ।হে ক্লান্ত রবি, তুমি ঘুমাও সাগরের ওই শীতল ঘরে,তোমার কথা মনে পড়বে রাতের প্রতি প্রহরে প্রহরে।রাগ অভিমান ভুলে গিয়ে তুমি এখন শান্ত অতি,ধরণীর বুকে রেখে গেলে তোমার স্মৃতির কোমল জ্যোতি।অন্ধকার এই চাদর ছিঁড়ে আবার যখন আসবে ফিরে,জাগবে জীবন নতুন করে এই সাগরের বালুর তীরে।ততক্ষণের জন্য তবে রইল তোমার বিদায় বেলা,সাগরের বুকে শেষ হলো আজ সূর্যের এই আলোর মেলা।আকাশ এখন কালো চাদরে ঢেকেছে তার চেনা মুখ,সাগরের বুকে বয়ে যায় এক নীরব শান্ত সুখ।নিঝুম রাতে তারার মেলা বসবে এবার আকাশজুড়ে,বাতাসেরা সব বইবে এখন অচিন কোনো দূর সুরে।তবু এই মন ভোলেনি গো দুপুরের সেই তপ্ত ক্ষণ,যখন সূর্য রাগের চোটে দহিল সবার এ জীবন।ঘামের ফোঁটায় ভিজেছিল মেহনতি সব মানুষের গা,রোদের তাপে থমকে ছিল পথিকের ওই চঞ্চল পা।সেই রাগী সূর্যই এখন কেমন করে শান্ত হলো,সাগরের এই গভীর বুকে নিজের শরীর বিলিয়ে দিল।কর্ম শেষে ক্লান্তি আসে, এটাই প্রকৃতির অমোঘ রীত,সূর্যের এই বিদায় যেন এক বিরহের মধুর গীত।সারাদিন সে ব্যস্ত ছিল মেঘেদের সাথে লড়াই করে,আলো ছড়াল পাহাড়-চূড়ায়, নদী আর ওই বনের ঘরে।কাউকেই সে রাখেনি বঞ্চিত তাহার তীব্র আলো থেকে,অথচ এখন ঘুমাচ্ছে সে নিজের মুখটি মেঘে ঢেকে।দুর্বল সেই আলোর কণা মিলিয়ে গেল জলের তলে,সাগর যেন চোখের জল ফেলছে তাহার বিদায় ছলে।আমরা সবাই একলা হলাম এই আঁধারের নিঝুম পুরে,আমাদের প্রিয় সূর্যদেব চলে গেলেন অনেক দূরে।সাগরের এই তটে বসে ভাবছি আমি একলা মনে,জীবনের এই নিয়তি লুকিয়ে আছে ক্ষণে ক্ষণে।আলো আর ছায়ার এই যে খেলা দেখছি আমি চোখের আগে,সূর্যের প্রতি এক গভীর মায়া আমার মনে জেগে জাগে।সে তো শুধু একলা চলে, কেউ থাকে না তাহার সাথে,জ্বলন্ত এক অগ্নিপিণ্ড ঘোরে কেবল দিনে রাতে।সারাদিনের খাটুনি শেষে একটুখানি বিশ্রাম তার চাই,সাগরের এই কোল ছাড়া তো তাহার কোনো আশ্রয় নাই।তাই তো সে আজ পশ্চিমেতে হেলে পড়ে শান্ত মনে,নিদমহলের চাবিটি সে খুঁজে বেড়ায় মেঘের কোণে।সাগরের জল ধুয়ে দিল সারাদিনের তপ্ত গ্লানি,সূর্যের ওই ক্লান্ত চোখে নামল ঘুমের শান্ত বাণী।বিদায় রবি, বিদায় তোমায়, এখন তুমি বিশ্রাম নাও,সারাদিনের ক্লান্তি ধুয়ে স্বপ্নের ওই দেশে যাও।তোমার এই চলে যাওয়া আমাদের খুব একলা করে,তবু জানি আসবে তুমি আগামী কালকের ওই ভোরে।আকাশজুড়ে এখন শুধু অন্ধকারের রাজত্ব চলে,সাগরের জল ঢেউয়ের তালে মায়াবী এক কথা বলে।স্তব্ধ প্রকৃতি চেয়ে আছে ওই পশ্চিমের দিগন্ত পানে,যেখানে সূর্য হারিয়ে গেল এক অজানা মধুর গানে।রাগান্বিত সেই সূর্যের রূপ এখন এক অতীত কথা,এখন শুধু চারিপাশে ছড়িয়ে আছে নীরবতা।মানুষেরা সব ফিরছে ঘরে, মেতেছে তারা সুখের নীড়ে,সূর্যের এই ক্লান্তি যেন মিশে গেল এই তটের ভিড়ে।ধন্য হে রবি, তোমার এই নিঃস্বার্থ বিলিয়ে দেওয়া,তোমার আলোতেই ধন্য হলো এই পৃথিবীর বাতাস পাওয়া।ঘাম ঝরানো সেই দুপুরকে এখন মনে হয় এক মায়া,চারিদিকে এখন শুধু অন্ধকারের বিশাল ছায়া।সাগরের ওই ঢেউয়ের বুকে চাঁদের আলো পড়বে যখন,সূর্যের এই ক্লান্তির কথা ভুলবে না এই ভুবন তখন।নিদ এসেছে সূর্যের চোখে, niদ এসেছে সাগর জলে,প্রকৃতি মাতা ঘুম পাড়ায় তাদের মায়ার আঁচল তলে।আমি এখনও বসে আছি সাগরের এই বালুর চরে,সূর্যের সেই শেষ আলোটি জমা আছে আমার অন্তরে।পরিশ্রান্ত সেই দিনমণি আমাদের ছেড়ে চলে গেল,পৃথিবীর এই ক্লান্ত বুকে রাতের আঁধার নেমে এলো।বিদায়বেলার সেই রক্তিম রূপ ভুলব না আমি কোনোদিন,সূর্যের এই মহাদানের কাছে জগত থাকবে চিরঋণ।এখন তুমি ঘুমাও রবি, ঘুমাও তুমি শান্তিতে আজ,শেষ হলো তোমার সারাদিনের জগতজোড়া কঠিন কাজ।কুয়াশার ওই চাদরখানি জড়িয়ে নাও তোমার গায়ে,সাগরের জল ঢেউ খেলছে তোমার বিদায় নেওয়ার পায়ে।আমরা এখন ঘরের কোণে জ্বালব ছোট আলোর বাতি,তুমি ছাড়া এই পৃথিবী কেমন যেন একলা সাথি।অন্ধকারের এই প্রহরে চললাম আমিও ঘরের পানে,সূর্যের এই ক্লান্তির কথা গেয়ে গেলাম কবির গানে।সাগরের এই নীল জল আজ নীরবতার সাক্ষী হয়ে,সূর্যের সেই মহৎ স্মৃতি চলছে কেবল বুকে বয়ে।আগামীকাল আবার যখন পূর্বাকাশে জাগবে তুমি,তোমার আলোয় হাসবে আবার এই পৃথিবীর ধুলাভূমি।দূর হবে এই রাতের আঁধার, কাটবে সবার মনের ভয়,তোমার আলোয় হবে আবার নতুন এক জীবনের জয়।কিন্তু এখনকার মতো তুমি বিশ্রামেতে মগ্ন থাকো,সাগরের এই গভীর কোলে নিজের ক্লান্ত শরীর ঢাকো।দুপুরের সেই রাগের কথা মনে আর রাখব না কেউ,তোমার স্মরণে কাঁদছে কেবল সাগরের এই অবুঝ ঢেউ।ঘাম ঝরানো দিনটি শেষে এই যে তোমার শান্ত রূপ,দেখে আমার মনের মাঝে শান্তি নামে অপরূপ।বিদায় হে সূর্য, বিদায় হে সারাদিনের অক্লান্ত প্রাণ,তোমার চরণে সঁপে দিলাম আমার এই কবিতার গান।সাগরের কোল ঘেঁষে তুমি ঘুমাচ্ছ এখন পরম সুখে,রাতের মায়া জড়িয়ে আছে এই পৃথিবীর বিশাল বুকে।তারকারা সব পাহারা দেবে তোমার এই ঘুমের ঘর,তুমি তো নও আমাদের পর, তুমি যে মোদের আপনতর।সারাদিনের কাজের ক্লান্তি ধুয়ে যাক এই সাগরের জলে,নতুন শক্তি পাও যেন তুমি আগামী ভোরের আলো তলে।স্তব্ধ হলো তটের হাওয়া, স্তব্ধ হলো পাখির গান,সূর্যের এই চলে যাওয়ায় থমকে গেছে যেন প্রাণ।তবু আশা জেগে থাকে আমাদের এই মানব মনে,দেখা হবে তোমার সাথে আগামী কালকের প্রথম ক্ষণে।সাগরের এই তটভূমি আজ অন্ধকারেই রইল পড়ে,সূর্যের সেই বিদায়-ছবি আঁকা রইল আমার ঘরে।রাগী সূর্য, ক্লান্ত সূর্য, এখন তুমি নিঝুম অতি,সাগরের বুকে বিলীন হলো তোমার শেষ আলোর জ্যোতি।বিদায়বেলার এই কাব্যে রইল তোমার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা,তুমি হলে এই মহাবিশ্বের আলোর একলা চিরযোদ্ধা।ঘুমাও এবার শান্ত মনে, ঘুমাও তুমি সাগরের কোলে,প্রকৃতি মাতা রাখল তোমায় মায়ার এক দোলনা দোলে।সাগরের বুকে নেমে এলো এক গভীর নিঝুম রাত,বিদায় জানিয়ে সূর্যকে, এখন প্রতীক্ষায় আগামী সুপ্রভাত।
কবিতাটি কেমন লাগলো লিখে জানাবেন ধন্যবাদ