আজ বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস গেল। অফিস শেষে বাসায় ফিরে স্মৃতির পাতা খুলে ফটোগ্রাফিগুলো দেখতে থাকলাম। ছবির সাথে সাথে সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে স্মৃতির এলোমেলো দিনগুলো। অনেক ছবি হারিয়ে গেছে চুরি হওয়া ফোনে, হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসের সাথে।
গণমাধ্যমে কাজ করার অনেক আগেই ছবি তোলার প্রতি ভীষণরকমের টান ও আগ্রহ ছিলো।
ফটোসাংবাদিক হওয়ার একটা প্রেরণা কাজ করতো।
হারিয়ে যাওয়া শৈশব আর নান্দনিক দৃশ্যগুলো ছবিতে আটকে রাখার অদ্ভুত প্রেমে পড়েছিলাম। লেখালেখির পাশাপাশি ক্যামেরায় প্রাণবন্ত মুহূর্তকে ধরে রাখার এক অদ্ভুত ভালোলাগা ছিলো।
ক্যামেরা হাতে সেই আবেশটা সবচেয়ে বেশি ছিলো দুই হাজার ষোল সালের দিকে। ছবির দুনিয়ায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেতাম। পাহাড়ে বাড়ি আমার, পাহাড় ও প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা জীবন আমার। তাই প্রকৃতির প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা।
আমাদের গ্রাম বাংলার স্নিগ্ধ-শীতল রূপ, গ্রামীণ জনপদের গল্পগুলোকে ছবির ফ্রেমে আটকে রাখাটা আমার শখ ও আনন্দের কাজে পরিণত হয়েছে। জীবনটাকে আমি মানুষ ও প্রকৃতির মাঝে উপভোগ করতাম বেশ। এসব দেখেই দিন পার হয়ে যেত আমার।
ছবির গল্প আর আবেগ জায়গা করে নিয়েছিল মানুষের হৃদয়েও। বিভিন্ন ক্যালেন্ডারের পাতায় কিংবা গণমাধ্যমেও নিজের তোলা টুকটাক ছবি ছাপানো হতো। এক পরম তৃপ্তিতে মন ভরে উঠত আমার।
এই ছবি তোলার প্যাশনের সাথে আমার জীবনের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। আমার কেবল ঘুরে বেড়ানোর নেশা। ভ্রমণের আনন্দ আমাকে বারবার নতুন পথে টেনে নিয়েছে।
গ্রামের পথ ধরে ঘুরে ঘুরে ছবির গল্প বুনে যাওয়া আর কবিতার ছন্দে কেটে যেত আমার পুরো দিন। এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে জীবনটারে উপভোগ করেছি।
এই বহমান স্রোতে অনেক কিছুই বদলে গেছে। বদলে গেছে গ্রাম আর চিরায়ত বাংলার রূপ। তবুও সেই পাহাড়-প্রকৃতি আমার ভেতরে তোলপাড় করে তোলে। ছবির টানে, প্রেম ও প্রকৃতির টানে আমি বারবার পাহাড়ের কাছে যাই।
দিনযাপনের ব্যস্ততায় ঘোরাঘুরিতে খানিকটা ভাটা পড়েছে বলা যায়। যেখানে যাই ফুসরত পেলেই মন খুলে ছবি তুলি। এই জীনটারে এখনো এনজয় করি ছবির গল্পে, জীবনের গল্পে। মনের আনন্দে ছবি তুলি, ঘুরে বেড়াই।