Story

রহস্যময় অভিক

September 6, 2026

3
View

খবরের কাগজের অফিসে এক মাস ঊনিশ দিনের মাথায় সম্পাদক মহোদয়ের রুমে অভিকের ডাক পড়ে।অভিকের মতো জুনিয়র এক্সিকিউটিভ কে সরাসরি ডাকার কথা না। সম্পাদকের বেয়াদাব পিয়ন এসে যখন বলল,"অভিক কে? স্যার যাইতে কইছে।"

বিজ্ঞাপন বিভাগের একজন অন্যজনের মুখের দিকে বিস্ময়বোধক প্রশ্নে তাকায়।তবে কি ‘ভবিষ্যৎ প্রবক্তা’ অভিকের কেরামতি সম্পাদক দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে! কিন্তু যার খোঁজে পিয়ন জলিল এর আগমন সে আজ অফিসে অনুপস্থিত।পিয়ন গিয়ে জানালো।এবার সাম্পদক ইন্টারকমে এডমিন ও বিজ্ঞাপন ম্যানেজার কে রুমে আসতে বলেন। বিজ্ঞাপন স্টাফরা কানাঘুষা শুরু করে - গাধাটা কি অঘটন ঘটাইছে আল্লাহ জানে।সবাই বলে বিষয়টা সজল বাবু জানতে পারে। ওর পাশের টেবিলে বসে।সজল বাবু এখনও অফিসে আসেনি। এই ফাকে সিনেমার আদলে ফ্লা্শব্যাক করা যাক..

মে মাসের এক রোদরতপ্ত দুপুরে সিনিয়র বিজ্ঞাপন নির্বাহী স্বপন সাহেব মার্কেটিং কাজ সেরে অফিসে আসেন। বেলা কিছুটা পড়ে গেছে।এসির ভিতরেও তিনি ঘামাচ্ছেন। ঘাড় ব্যথা করছে।জামা খুলে ফেললেন। বললেন,খুব খারাপ লাগছে। সহকর্মীরা বলল হয়তো প্রেসার বেড়েছে।ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। স্বপন সাহেব রাজি হলেন না।বাসায় গিয়ে সন্ধ্যায় ডাক্তারের চেম্বারে যাবেন।এখন কেউ বাথরুমে নিয়ে গেলে মাথায় পানি দিবেন। সজল বাবু ও আরেকজন বিজ্ঞাপন কর্মী তাকে বাথরুমে ধরে নিয়ে মাথায় পানি দেন।এরপর মে্নেজার এর রুমে এনে সোফায় শুইয়ে দেন। বেশক্ষণ ঘুমিয়ে আসর নামাজের পরক্ষণে ঘুম থেকে জেগে বলেন,

এখন আগের চেয়ে ভালো লাগছে।

সজল বাবু বলেন, দাদা বাসায় একা যেতে পারবেন।

স্বপ্নন সাহেব হসিমুখে বলেন,"ধন্যবাদএকাই যেতে পারব।

সজল বাবু স্বপন সাহেব কে বিদায় দিয়ে নিজের চেয়ারে এসে বসেন।দেখেন অভিক ডেস্ক এ বসে কি একটা লিখছে।ভারী চশমার আড়ালে একা একা হাসছে।মুখে বির বির করে কথা বলছে।এ কয়েকদিনে ডেস্কের সবাই মোটামুটি বুঝে গেছে এই ছেলেটা মানুষের চে নিজের সাথে বেশি কথা বলে। সজল বাবু একারণে এখন আর জিজ্ঞেস করে না একা একা কি বলছে।

সজল বাবু তার ডেস্ক গুছাতে গুছতে বলে, স্বপ্নন ভাইকে এগিয়ে দিলাম।আসার সময় লিফটে আপনার মায়াবন বিহারিণী হরিণী. দেখলাম।

অভিকের উত্তর,দাদা কি যে বলেন।

ঘটনা চার পাঁচ দিন আগের। অফিসের লীফটের সময় অসময়ে আটকে যাওয়ার অভ্যেস আছে। সেদিন হ্ঠাথ কারেন্ট চলে যায়। লিফট ইদুর মারার ওউসদের মতো জায়গায় খায়  জায়গায় বেরেক। লিফটে অভিক ও অনলাইনের একটা মেয়ে আটকে পড়ে।অন্ধকার,ভ্যাপসা গরম।মেয়েটা অভিককে বলে,ভাইয়া কিছু একটা করেন।কতক্ষণ আটকে থাকবো।

অভিক টাচ ফোনের লাইট জ্বালিয়ে গান গেয়ে ওঠে - মায়াবন বিহারিনি হরিণী…।এই ঘটনা এডমিন মানেজার পর্যন্ত গড়ায়। আভিককে ডেকে জিজ্ঞেস করে,

একটা মেয়ে অন্ধকার লািফটে আপনার সাহায্য চাইলো।আপনার উচ্িত ছিলো সিকিউরিটি বা আপনার কোনো কলিগ কে ফোন করা। আর আপনি তাকে রবিন্দ্রসঙ্গীত শুনান!

অভিক এর সংক্ষিপ্ত উত্তর,ভাবলাম গান গাইলে ভয় দূর হবে।

এটা তো আফিস। পাড়ার ক্লাব না। 

অভিক কে সতর্ক করে এবারের মতো ছেড়ে দেয়।

যাই হোক।অভিক সজল বাবুকে বলল,

দাদা একটা কথা বলি।

বলেন।

স্বপ্নন ভাইর ফে্মিলির জন্য মায়া হয়।

কেনো।

এইযে ভাইকে আগেয়ে দিলেন।ভাইতো তো আর আসবে না।

সজল বাবু রেগে গিয়ে বলল, আসবে না মানে কি। ফালতু ভবিষ্যতবাণী কইরেন না। কুফা একটা। সেদিন কেন্টিন থেকে ল্যাঞ্চ করে দুজন সিরি দিয়ে নামছি। আপনি বললেন সাবধান, পড়ে যাবেন। বলতে না বলতে পা পিছলে পড়ে পায়ের নখ উঠে গেলো। মিয়া তুমি একটা কুফা।

দাদা এত কথা শুনান দেখে কথা কম বলি।কিন্তু যেটা বলো সেটা তো বিপদ নিয়ে আসে।

ভবিষ্যত জানো। সেদিন লািফটএ সুন্দরী সহ আটকে গেলে আগে জানলে না কেনো।

সিগন্যাল পাইনি।

এখন বলো স্বপ্নন ভাইর বিষয়ে কি সিগন্যাল পাইছো।

ঐযে বললাম,কাল শুক্রবার বন্ধ।স্বাপন ভাইরে শনিবার অফিসে পাবেন না।ওনার একটা খারাপ সংবাদ আসবে।

সজল বাবু কোনো কথা না বলে চোখ বড় করে অভিকের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

(চলবে)

(পুরো গল্প কাল্পনিক। বাসতোবের কোনো মিল থাকলে নিতান্ত কাকতলীও )

Comments

    Please login to post comment. Login

  • ভালো লিখেছেন ভাইয়া, কিন্তু লেখা শেষে একটু আবার রিভিশন দিয়েন। বেশ কিছু বানান ভুল চোখে পড়লো। মনে হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে লিখেছেন। কিছু মনে করবেন না, প্লিজ। ধন্যবাদ